যুদ্ধে ইরানের অদম্য-দৃঢ়তা মার্কিনীদের বিস্মিত করেই চলেছে: সাবেক মার্কিন আলোচক
https://parstoday.ir/bn/news/event-i162956-যুদ্ধে_ইরানের_অদম্য_দৃঢ়তা_মার্কিনীদের_বিস্মিত_করেই_চলেছে_সাবেক_মার্কিন_আলোচক
পার্সটুডে: ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সবচেয়ে সুস্পষ্ট পথটি সম্ভবত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ফি-সংক্রান্ত বিরোধের মধ্যেই রয়েছে বলে মনে করেন সাবেক মার্কিন সরকারি আলোচক ডেনিস রস।
(last modified 2026-09-09T11:02:26+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬ ১৬:৩২ Asia/Dhaka
  • সাবেক মার্কিন সরকারি আলোচক ডেনিস রস
    সাবেক মার্কিন সরকারি আলোচক ডেনিস রস

পার্সটুডে: ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সবচেয়ে সুস্পষ্ট পথটি সম্ভবত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ফি-সংক্রান্ত বিরোধের মধ্যেই রয়েছে বলে মনে করেন সাবেক মার্কিন সরকারি আলোচক ডেনিস রস।

ডেনিস রসের মতে এর কারণ, ওয়াশিংটন এখন এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে যে, কয়েক মাসের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপও তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ব্যর্থ হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইহুদিবাদী ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। দৃশ্যত তাদের প্রত্যাশা ছিল যে, অব্যাহত সামরিক চাপ ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দুর্বল করে তুলবে এবং দেশটির নেতৃত্বকে ব্যাপক ছাড় দিতে বাধ্য করবে। কিন্তু এর পরিবর্তে ইরান তার রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থান বজায় রেখেছে এবং বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মার্কিন চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে।

ইরান বারবার প্রমাণ করেছে যে, তীব্র চাপ সহ্য করেও তারা এই সংঘাতের গতিপথে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ও কৌশলগত সুবিধা বজায় রাখতে সক্ষম। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের ফলে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি সত্ত্বেও তেহরান এমন সব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, যেগুলোকে তারা নিজেদের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করার শামিল বলে মনে করে। একই সঙ্গে ইরান জোর দিয়ে বলেছে যে, যেকোনো সমঝোতায় ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযানের পরিণতি ও প্রভাবের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

রস বলেছেন, ইরান জাহাজ চলাচলের ওপর আনুষ্ঠানিক টোল আরোপের দাবি থেকে সরে আসতে পারে, তবে বৈধ নৌ-পরিচালনা, নিরাপত্তা বা পরিবেশগত সেবার জন্য ফি নেওয়ার অধিকার বজায় রাখতে পারে। তার মতে, এমন একটি ব্যবস্থা উভয় পক্ষকেই রাজনৈতিক বিজয়ের দাবি করার সুযোগ দিতে পারে এবং তেহরানকে আনুষ্ঠানিক টোলের দাবি থেকে সরে আসার পথ করে দিতে পারে, যাতে তা আত্মসমর্পণ বা নতি স্বীকার বলে মনে না হয়।

রস বলেছেন, “প্রবল দৃঢ়তা বা অনমনীয়তার দিক থেকে ইরানিরা ধারাবাহিকভাবে আমাদের বিস্মিত করেছে।” তিনি আরও বলেন, কেবল অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ ইরানকে পিছু হটতে বাধ্য করবে—এমনটা তিনি মনে করেন না।

হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের প্রধান চাপের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ওয়াশিংটন তার নৌ-সেনা-শক্তি ও অর্থনৈতিক অবরোধ ব্যবহার করে ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে, তেহরান বলেছে যে, এই প্রণালিকে কেবল মার্কিন শক্তি প্রয়োগের একটি হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সাম্প্রতিক সময়ে এই সাগর-পথকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সামরিক পাল্টাপাল্টি ঘটনাগুলো আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এই বিরোধ সমাধানের চেষ্টা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

রস অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, “যদি ঘোষণা করা যায় যে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে, তাহলে আমার মনে হয় ট্রাম্প একটি চুক্তি করতে রাজি হবেন।”

ওয়াশিংটনের জন্য এমন একটি চুক্তি ব্যয়বহুল সংঘাতের অবসান ঘটানোর একটি মর্যাদা রক্ষাকারী পথ হতে পারে। অন্যদিকে, তেহরানের জন্য নিজেদের সার্বভৌম অধিকার বজায় রেখে এবং চাপ প্রয়োগের অভিযান বন্ধ করার নিশ্চয়তা আদায় করে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেয়াকেও সমানভাবে একটি বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব।

কয়েক মাসের যুদ্ধের পর ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, ইরানের অদম্য দৃঢ়তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে বাধ্য করার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। #

পার্সটুডে/এমএআর/০৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।