কাজভিন: যে শহরে সাফাভিরা স্বপ্ন দেখেছিল রাজকীয় নগরের
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i163008-কাজভিন_যে_শহরে_সাফাভিরা_স্বপ্ন_দেখেছিল_রাজকীয়_নগরের
পার্সটুডে: ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শাহ তাহমাসপ প্রথম সাফাভি সাম্রাজ্যের রাজধানী তাবরিজ থেকে কাজভিনে স্থানান্তর করেন। প্রায় অর্ধশতাব্দী কাজভিন ছিল সাফাভি ইরানের রাজধানী। পরে ১৫৯৬–৯৭ সালের দিকে শাহ আব্বাস প্রথম রাজধানী ইসফাহানে সরিয়ে নেন।
(last modified 2026-09-10T15:04:45+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ২০:৪৫ Asia/Dhaka
  • কাজভিন: যে শহরে সাফাভিরা স্বপ্ন দেখেছিল রাজকীয় নগরের

পার্সটুডে: ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শাহ তাহমাসপ প্রথম সাফাভি সাম্রাজ্যের রাজধানী তাবরিজ থেকে কাজভিনে স্থানান্তর করেন। প্রায় অর্ধশতাব্দী কাজভিন ছিল সাফাভি ইরানের রাজধানী। পরে ১৫৯৬–৯৭ সালের দিকে শাহ আব্বাস প্রথম রাজধানী ইসফাহানে সরিয়ে নেন।

রাজধানী হওয়ার সেই সময় কাজভিনে গড়ে উঠেছিল প্রাসাদ, বাগান, রাজকীয় সড়ক ও জনপরিসরের এক অনন্য নগরব্যবস্থা। এর প্রভাব পরবর্তী সময়ে ইসফাহানের বিখ্যাত নগর স্থাপত্য ও চহরবাগ নির্মাণেও দেখা যায়।

ইসফাহানকে সাফাভি স্থাপত্যের সবচেয়ে বড় নিদর্শন হিসেবে দেখা হলেও তার আগে কাজভিনে রাজকীয় প্রাসাদ, বাগান, সড়ক ও জনপরিসর নিয়ে একটি নতুন ধরনের নগর পরিকল্পনার সূচনা হয়েছিল।

তাবরিজ থেকে কাজভিন

শাহ তাহমাসপ প্রথম যখন রাজধানী তাবরিজ থেকে কাজভিনে সরিয়ে নেন, তখন সেটি ছিল শুধু রাজদরবারের স্থান পরিবর্তন নয়। এর সঙ্গে বদলে যায় শহরের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোও।

তাবরিজ তখন উসমানীয় সাম্রাজ্যের হামলার ঝুঁকিতে ছিল। অন্যদিকে কাজভিন ছিল তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। শহরটি ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে দেশের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ পথের ওপর অবস্থিত ছিল। এ ছাড়া আনাতোলিয়া, রাশিয়া ও পশ্চিম ইরানের মধ্যে চলাচলকারী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের সঙ্গেও কাজভিনের যোগাযোগ ছিল।

রাজধানী হিসেবে কাজভিনকে বেছে নেওয়ার পেছনে তাই নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও বাণিজ্য—তিনটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আকাশ থেকে তোলা জামে মসজিদের ছবি

পুরোনো শহরের ওপর নতুন রাজধানী

কাজভিনকে একেবারে নতুন করে শূন্য থেকে তৈরি করা হয়নি। বরং একটি পুরোনো ও প্রতিষ্ঠিত শহরের ওপর নতুন রাজকীয় ও প্রশাসনিক এলাকা গড়ে তোলা হয়েছিল।

পুরোনো কাজভিনে আগে থেকেই ছিল বাজার, মসজিদ, আবাসিক মহল্লা এবং নানা সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে শহরের উত্তর দিকে তৈরি হয় নতুন রাজকীয় এলাকা।

শাহ তাহমাসপ এখানে নির্মাণ করেন প্রাসাদ, বাগান, আঙিনা, সড়ক এবং প্রশাসনিক স্থাপনা। ফলে কাজভিনে তৈরি হয় দুটি পরস্পর যুক্ত জগত—একদিকে পুরোনো শহর, অন্যদিকে নতুন রাজকীয় এলাকা।

রাজধানী হওয়ার পর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কর্মকর্তা, সৈনিক, ব্যবসায়ী, কারিগর ও নানা গোষ্ঠীর মানুষ কাজভিনে এসে বসতি স্থাপন করেন। ফলে শহরের জনসংখ্যা ও গুরুত্ব দ্রুত বাড়তে থাকে।

দৌলতখানা: শহরের ভেতর রাজকীয় জগৎ

সাফাভি রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে ছিল 'দৌলতখানা', অর্থাৎ রাজকীয় ও প্রশাসনিক কমপ্লেক্স।

এটি শুধু একটি প্রাসাদ ছিল না। এখানে ছিল রাজপরিবারের আবাসন, প্রশাসনিক কাজের জায়গা, আনুষ্ঠানিক আয়োজনের স্থান, বাগান, আঙিনা এবং শহরের সঙ্গে যোগাযোগের বিভিন্ন পথ।

দৌলতখানার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল প্রাসাদ ও বাগানের সমন্বয়। বাগানকে এখানে শুধু সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়নি; বরং পুরো রাজকীয় এলাকার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাখা হয়েছিল।

প্রাসাদ থেকে বাগান, বাগান থেকে সড়ক এবং সড়ক থেকে শহর—এভাবে একের পর এক পরিসর পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

কোথাও ছিল একান্ত রাজকীয় এলাকা, কোথাও সাধারণ মানুষের প্রবেশের সুযোগ ছিল, আবার কোথাও রাজপ্রাসাদ থেকে সরাসরি শহরে যাওয়ার ব্যবস্থা ছিল।

এ কারণে দৌলতখানা শুধু কয়েকটি ভবনের সমষ্টি ছিল না। এটি ছিল পরিকল্পিত একটি রাজকীয় নগরব্যবস্থা।

চেহেল সোতুন

রাজকীয় সড়ক ছিল অনেকটা একটি বাগান

কাজভিনের সাফাভি নগর পরিকল্পনার সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশগুলোর একটি ছিল রাজকীয় সড়ক। বর্তমান 'সেপেহ সড়ক' মোটামুটি সেই ঐতিহাসিক সড়কের অবস্থানের সঙ্গে মিলে যায়। এই সড়ক শুধু এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার পথ ছিল না। গাছপালা, পানির নালা, বাগান ও স্থাপত্যকে মিলিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছিল হাঁটাচলা, বিনোদন ও জনসাধারণের চলাচলের জন্য। অর্থাৎ এটি ছিল অনেকটা 'দীর্ঘ একটি নগর-বাগান'।

সড়কের দুই পাশে গাছের সারি ও পানির প্রবাহ থাকত। ফলে মানুষ সেখানে হাঁটতে পারত, সময় কাটাতে পারত এবং রাজকীয় পরিবেশ উপভোগ করতে পারত।

এই ধারণাই পরে ইসফাহানের বিখ্যাত 'চহরবাগ' নির্মাণে আরও বড় আকারে দেখা যায়। তাই অনেক গবেষক কাজভিনের রাজকীয় সড়ককে ইসফাহানের চাহারবাগের গুরুত্বপূর্ণ পূর্বসূরি হিসেবে মনে করেন।

সাফাভি আমলে নির্মিত  'কাজfর' হাম্মামখানা

প্রাসাদ, বাজার ও মসজিদ

সাফাভিরা রাজকীয় এলাকা তৈরি করলেও পুরোনো শহর থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করেনি। রাজপ্রাসাদের সঙ্গে বাজার, মসজিদ ও অন্যান্য জনপরিসরের যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। এর ফলে রাজকীয় এলাকা একটি আলাদা দ্বীপে পরিণত হয়নি; বরং পুরোনো শহরের সঙ্গে মিলে একটি বড় নগরব্যবস্থার অংশ হয়ে ওঠে।

কাজভিনের 'জামে মসজিদ' সাফাভিদের আগেই প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং এটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে টিকে ছিল। পরে সাফাভিরা নতুন মসজিদও নির্মাণ করেন। এর মধ্যে 'মসজিদুন নবী' ছিল অন্যতম।

রাজকীয় এলাকা থেকে মসজিদ ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন পথ তৈরি করা হয়েছিল। এর ফলে রাজপরিবারের ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতো।

একইভাবে বাজার ছিল শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়। এটি ছিল শহরের বিভিন্ন শ্রেণি ও গোষ্ঠীর মানুষের মিলনস্থল এবং রাজধানীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র।

আলি কাপুসহ সাফাভি স্ট্রিট (বর্তমান সেপাহ স্ট্রিট)

কাজভিন ছিল বাগানের শহর

সাফাভি সংস্কৃতিতে বাগানের গুরুত্ব ছিল অনেক। বাগান ছিল সৌন্দর্য, পানি, ছায়া ও আরামের জায়গা। একই সঙ্গে এটি স্বর্গের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হতো। কাজভিনের রাজকীয় নগর পরিকল্পনায় তাই বাগান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

'সাদাতাবাদ বাগান' ছিল এমনই একটি উল্লেখযোগ্য রাজকীয় বাগান। এটি দৌলতখানা কমপ্লেক্সের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং রাজকীয় সড়কের সঙ্গেও এর যোগাযোগ ছিল।

প্রাসাদ, বাগান, পানির নালা ও সড়ককে একসঙ্গে সাজিয়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে রাজপরিবারের অবসর, আনুষ্ঠানিকতা ও দৈনন্দিন চলাচল—সবকিছুর ব্যবস্থা ছিল। এই কারণে কাজভিনের নগর পরিকল্পনায় বাগান ছিল শুধু প্রাসাদের চারপাশের সাজসজ্জা নয়; বরং শহরের পরিকল্পনারই একটি অংশ।

চেহেল সোতুন ও আলী কাপু

আজকের কাজভিনে সাফাভি আমলের সবচেয়ে পরিচিত স্থাপনাগুলোর একটি হলো 'চেহেল সোতুন।

চেহেল সোতুন অর্থ ‘চল্লিশ স্তম্ভ’। তবে বর্তমান ভবনের স্থাপত্যের সঙ্গে নামটির সরাসরি মিল নেই। এর আসল গুরুত্ব হলো—এটি একসময় অনেক বড় একটি সাফাভি প্রাসাদ কমপ্লেক্সের অংশ ছিল।

রাজকীয় অতিথি আপ্যায়ন, আনুষ্ঠানিকতা ও বিনোদনের জন্য এই ধরনের প্রাসাদ ব্যবহৃত হতো।

চেহেল সোতুনের সঙ্গে আশপাশের বাগানের সম্পর্কও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রাসাদ ও বাগান একসঙ্গে মিলে রাজকীয় পরিবেশ তৈরি করত। অন্যদিকে 'আলী কাপু' ছিল রাজকীয় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার।

শহরের সাধারণ অংশ থেকে রাজকীয় এলাকায় প্রবেশের সময় আলী কাপুই ছিল অন্যতম প্রধান স্থাপত্যিক চিহ্ন। তাই এটি শুধু একটি প্রবেশপথ ছিল না; বরং সাধারণ শহর থেকে রাজকীয় জগতে প্রবেশের প্রতীকও ছিল।

মসজিদুন্নবী

ইসফাহানের আগে কাজভিনের পরীক্ষা

শাহ আব্বাস প্রথম ১৫৯৬–৯৭ সালের দিকে রাজধানী ইসফাহানে সরিয়ে নেন। ইসফাহানের অবস্থান ছিল তুলনামূলকভাবে কেন্দ্রীয়। উসমানীয় আক্রমণের ঝুঁকিও কম ছিল। পাশাপাশি জায়ান্দেহরুদ নদী ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের কারণে শহরটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও ছিল বেশি। তবে ইসফাহানে রাজধানী স্থানান্তরের অর্থ এই নয় যে কাজভিনের নগর পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল।

বরং কাজভিনকে বলা যায় 'সাফাভি নগর পরিকল্পনার একটি পরীক্ষাগার'।

ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শাহ তাহমাসপ প্রথম সাফাভি সাম্রাজ্যের রাজধানী তাবরিজ থেকে কাজভিনে স্থানান্তর করেন। প্রায় অর্ধশতাব্দী কাজভিন ছিল সাফাভি ইরানের রাজধানী। পরে ১৫৯৬–৯৭ সালের দিকে শাহ আব্বাস প্রথম রাজধানী ইসফাহানে সরিয়ে নেন।

রাজধানী হওয়ার সেই সময় কাজভিনে গড়ে উঠেছিল প্রাসাদ, বাগান, রাজকীয় সড়ক ও জনপরিসরের এক অনন্য নগরব্যবস্থা। এর প্রভাব পরবর্তী সময়ে ইসফাহানের বিখ্যাত নগর স্থাপত্য ও চহরবাগ নির্মাণেও দেখা যায়। এখানে প্রাসাদ, বাগান, সড়ক, পানি ও জনপরিসরকে একসঙ্গে সাজানোর যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, ইসফাহানে সেটিই আরও বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ রূপ পায়। বিশেষ করে চাহারবাগের ক্ষেত্রে বাগান, সড়ক, স্থাপত্য ও চলাচলের সমন্বয় কাজভিনের অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দেয়।

সাদাতাবাদ বাগান

রাজধানীর সঙ্গে বদলে যায় সমাজও

রাজধানী হওয়ার ফলে শুধু শহরের স্থাপত্যই বদলায়নি, বদলে গিয়েছিল কাজভিনের সামাজিক জীবনও। কিজিলবাশ সামরিক অভিজাতদের পাশাপাশি ফারসিভাষী কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, কারিগর এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এখানে বসতি স্থাপন করেন।

নতুন মানুষ আসার সঙ্গে সঙ্গে বাজার সম্প্রসারিত হয়, নতুন আবাসিক এলাকা তৈরি হয় এবং প্রশাসনিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বাড়তে থাকে। শহরের হাম্মাম বা গোসলখানাগুলোও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এগুলো শুধু গোসলের জায়গা ছিল না; মানুষের সামাজিক যোগাযোগেরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল।

কাজভিনের 'হাম্মামে কাজার' নামের স্থাপনাটির বর্তমান নাম কাজার আমলের হলেও এর সঙ্গে সাফাভি সময়ের ঐতিহ্যের সম্পর্ক রয়েছে।

অন্যদিকে 'ইমামজাদা হোসেইন' ছিল গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও তীর্থস্থান। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসত। সব মিলিয়ে রাজধানী হিসেবে কাজভিনে রাজনীতি, ধর্ম, বাণিজ্য ও সামাজিক জীবন একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে উঠেছিল।

রাতের বেলায় আলি কাপু

হারিয়ে যাওয়া রাজধানীর স্মৃতি

আজ কাজভিনে ইসফাহানের মতো বিপুলসংখ্যক সাফাভি স্থাপনা দেখা যায় না। সময়ের সঙ্গে রাজকীয় কমপ্লেক্সের বড় অংশ হারিয়ে গেছে। কিন্তু যে কয়েকটি স্থাপনা টিকে আছে, সেগুলোই আমাদের সেই সময়ের নগর পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা দেয়।

চেহেল সোতুন ও আলী কাপুর মতো স্থাপনা, পুরোনো বাগানের স্মৃতি, রাজকীয় সড়ক এবং ঐতিহাসিক বিবরণ একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়—কাজভিন একসময় ছিল একটি বিশাল ও পরিকল্পিত রাজকীয় নগর।

তাবরিজ ছিল সাফাভিদের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী। পরে ইসফাহান হয়ে ওঠে সাফাভি স্থাপত্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ। আর এই দুই রাজধানীর মাঝখানে 'কাজভিন ছিল সেই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে সাফাভি রাজকীয় নগর পরিকল্পনার নতুন ধারা প্রথম সুস্পষ্টভাবে গড়ে উঠেছিল'।

ইমামজাদেহ হুসেইন-এর মাজার

ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শাহ তাহমাসপ প্রথম সাফাভি সাম্রাজ্যের রাজধানী তাবরিজ থেকে কাজভিনে স্থানান্তর করেন। প্রায় অর্ধশতাব্দী কাজভিন ছিল সাফাভি ইরানের রাজধানী। পরে ১৫৯৬–৯৭ সালের দিকে শাহ আব্বাস প্রথম রাজধানী ইসফাহানে সরিয়ে নেন।

রাজধানী হওয়ার সেই সময় কাজভিনে গড়ে উঠেছিল প্রাসাদ, বাগান, রাজকীয় সড়ক ও জনপরিসরের এক অনন্য নগরব্যবস্থা। এর প্রভাব পরবর্তী সময়ে ইসফাহানের বিখ্যাত নগর স্থাপত্য ও চহরবাগ নির্মাণেও দেখা যায়।

প্রাসাদ, বাগান, পানি, রাজকীয় সড়ক, বাজার ও মসজিদকে একটি সমন্বিত নগর কাঠামোর মধ্যে আনার যে পরিকল্পনা কাজভিনে শুরু হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে ইসফাহানে তা আরও বড় আকারে বিকশিত হয়। তাই কাজভিন শুধু ইসফাহানের আগের রাজধানী নয়; সাফাভি স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনার ইতিহাসে এটি ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল পরীক্ষাগার।#

পার্সটুডে/এমএএআর/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।