জম্মু-কাশ্মীরে সিআইএসএফ ক্যাম্পে সহকর্মীর গুলিতে ৪ জওয়ান নিহত, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
https://parstoday.ir/bn/news/event-i163544-জম্মু_কাশ্মীরে_সিআইএসএফ_ক্যাম্পে_সহকর্মীর_গুলিতে_৪_জওয়ান_নিহত_অভিযুক্ত_গ্রেপ্তার
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়ায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে মোতায়েন সিআইএসএফ ক্যাম্পে সহকর্মীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক হেড কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় এক সহকারী কমান্ড্যান্ট-সহ চার জওয়ান নিহত হয়েছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় বাহিনীর ভেতরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
(last modified 2026-09-30T10:10:49+00:00 )
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৬:০৫ Asia/Dhaka
  • নিহত ৮ জওয়ান
    নিহত ৮ জওয়ান

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়ায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে মোতায়েন সিআইএসএফ ক্যাম্পে সহকর্মীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক হেড কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় এক সহকারী কমান্ড্যান্ট-সহ চার জওয়ান নিহত হয়েছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় বাহিনীর ভেতরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কী ঘটেছিল

ঘটনাটি ঘটে হিমাচল প্রদেশের সীমান্তের কাছে বাসোহলির মাশকা গ্রামের সেওয়া-৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে। বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত হেড কনস্টেবল অবধেশ কুমার সিংয়ের সঙ্গে সহকর্মীদের বচসা শুরু হয়। তর্কাতর্কি চরমে পৌঁছালে তিনি প্রধান ফটকের কাছে অপারেশনস সেকশনের অফিসে ঢুকে নিজের সার্ভিস অস্ত্র এ কে-৪৭ রাইফেল থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালান। তিনি মোট ১৮ রাউন্ড গুলি ছোড়েন বলে জানা গেছে।

গুলিতে চার জন গুরুতর জখম হন। তাঁদের হিমাচল প্রদেশের একটি এনএইচপিসি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার জনেরই মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পান্ডে, সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং এবং কনস্টেবল রফিক আহমেদ ও সন্দীপ কুমার।

বিরোধের কারণ

এনডিটিভি-র প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি বিষয় থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। অবধেশ সিং ও তাঁর স্ত্রী হেড কনস্টেবল পূজা দেবী একই প্রকল্পে ভিন্ন শিফটে দায়িত্বে ছিলেন। একজন ডিউটিতে আসার সময় তাঁদের শিশুসন্তানকে সঙ্গে আনতেন, যাতে বাড়ি ফেরা স্বামী বা স্ত্রীর হাতে তাকে তুলে দিতে পারেন। ইউনিট প্রশাসন আগেই তাঁদের শিশুকে কর্মস্থলে না আনতে বলেছিল। পূজা দেবী শিশুকে নিয়ে কোয়ার্টার গার্ড এলাকায় ঢুকতে চাইলেও তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। কয়েক দিন ধরেই এ নিয়ে অসন্তোষ জমছিল।

এক কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারও শিশুকে সাইটে আনা হয়েছিল এবং কেউ একজন কোম্পানি কমান্ডারের কাছে অভিযোগ জানান। এর জেরেই বচসা বাধে। সূত্রের খবর, সহকারী কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পান্ডের কাছে অভিযোগ পৌঁছানোয় অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

গ্রেপ্তার ও তদন্ত

গুলি চালানোর পর অন্য সিআইএসএফ সদস্যরা অবধেশ সিংকে কাবু করেন এবং পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর কাছে ১৫০ রাউন্ড গুলি ছিল। তাঁর সার্ভিস অস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনার উচ্চস্তরীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সিআইএসএফ সদর দফতর। বাহিনীর মহানির্দেশক (ডিজি) নিজে পুরো পরিস্থিতি ও তদন্তের অগ্রগতির ওপর নজর রাখছেন।#

পার্সটুডে/এমএআর/৩০