ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে মার্কিন দাবি: তেহরানের প্রতিক্রিয়া
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর উচিত পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব পড়ে দেয়া। জাওয়াদ জারিফ সংসদের পররাষ্ট্র নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের বৈঠক শেষে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে এ কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, "পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে পম্পেওর কাছ থেকে এরচেয়ে বেশি কিছু আমরা আশা করি না। ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে তারা জানে এই চুক্তির সঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নেই এবং চুক্তির বিবরণ অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে কোনো বাধা নেই।" জারিফ বলেন, "জাতিসংঘে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবে কেবল এটা বলা হয়েছে ইরান পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে না। আর পরমাণুবাহী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কোনো ইচ্ছা ইরানের নেই।"
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও দাবি করেছেন, ইরান এমন এক মধ্যমপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে যা ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। তার এ দাবির জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, মনগড়া কথাবার্তা বলা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বভাবে পরিণত হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি প্রচলিত অস্ত্র কর্মসূচিরই অংশ। কিন্তু তারপরও মার্কিন কর্মকর্তারা এ ইস্যুতে অপপ্রচার ও ইরানভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। ইরান যেসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে তা পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম নয়। অর্থাৎ এগুলোকে পরমাণু বোমা বহনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি বরং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পেছনে ইরানের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, ইরানসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুর হুমকি মোকাবেলা। ইরান সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুড়িয়ে দিয়ে এ ক্ষেত্রে নিজের শক্তিমত্বার প্রমাণ দিয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে প্রচলিত ওয়ারহেডের প্রয়োজন রয়েছে এ কথা উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, তার দেশ কেবল প্রচলিত ওয়ারহেড নির্মাণ করেছে যা পরমাণু বোমা বহনের উপযোগী নয়। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এসব ক্ষেপণাস্ত্র গণবিধ্বংসী নয়। সুতরাং এ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপারে মাইক পম্পের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন সময় বিভিন্ন ধরনের ওয়ারহেডযুক্ত ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যখন খোদ মার্কিন সরকার তাদের যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে বিভিন্ন দেশে মানবতা বিরোধী অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে যা কিনা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের এক সমাবেশে বলেছেন, শত্রুদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোর কাছে ইরান সম্পর্কে ভীতি তৈরি করা। তারা এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে যাতে মুসলমানদের প্রধান শত্রুর ব্যাপারে সবাই উদাসীন থাকে।
যাইহোক, বর্তমানে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা ও ড্রোনসহ বিভিন্ন সমরাস্ত্রের দিক থেকে বিরাট শক্তি অর্জন করেছে এবং ইরানের শক্তি শত্রুদেরকে চিন্তিত করে তুলেছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন