"আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও অগ্রগতিকে ইরান নিজের অগ্রগতি বলে মনে করে"
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i66885-আফগানিস্তানের_নিরাপত্তা_ও_অগ্রগতিকে_ইরান_নিজের_অগ্রগতি_বলে_মনে_করে
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি বলেছেন, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও অগ্রগতি মানেই ইরানের নিরাপত্তা ও অগ্রগতি। তিনি আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণির সঙ্গে এক সাক্ষাতে এ কথা বলেছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ২৭, ২০১৮ ১৫:৪৪ Asia/Dhaka

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি বলেছেন, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও অগ্রগতি মানেই ইরানের নিরাপত্তা ও অগ্রগতি। তিনি আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণির সঙ্গে এক সাক্ষাতে এ কথা বলেছেন।

আলী শামখানি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সর্বাত্মক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারকে ইরানের অপরিবর্তনীয় নীতি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি কাবুল সফরে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ছাড়াও সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, জাতীয় ঐকমত্য সরকারের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হামদুল্লাহ মাহাবের সঙ্গেও সাক্ষাতে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন।

বাস্তবতা হচ্ছে, আমেরিকা কখনোই আফগান জনগণের কল্যাণকামী ছিল না এবং সেদেশে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনেনি। সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার বিষয়ে আমেরিকার দ্বিমুখী নীতি এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমেরিকার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, এ অঞ্চলের জাতিগুলোকে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে ব্যস্ত রাখা এবং মার্কিন সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা। তিনি বলেন, আমেরিকা এ অঞ্চলের মানুষকে এমনভাবে ব্যস্ত রাখতে চায় যাতে দখলদার ইসরাইলের অপরাধী কর্মকাণ্ডের দিকে কেউ তাকানোর সুযোগ না পায়। এ লক্ষ্যে আমেরিকা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে বিরোধ বাধানোর চেষ্টা করছে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি এক সংবাদ সম্মেলনে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার এবং নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির নানা কারণের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্টরা স্বীকার করেছেন, দায়েশসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টিতে আমেরিকার হাত রয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে আমেরিকার দ্বিমুখী নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যসহ পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। এ কারণে আফগানিস্তানে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হলে ইরানসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ইরাক ও সিরিয়া যুদ্ধে ইরান প্রমাণ করেছে তারা সন্ত্রাসবাদের অবসান চায়।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইরান সবসময়ই আফগানিস্তানে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। এ কারণে সীমান্তে চোরাচালান ও সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধে ইরান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জরুরি। দু'দেশেরই অভিন্ন হুমকি মোকাবেলায় বিরাজমান সুযোগ সুবিধাগুলোকে কাজে লাগানো উচিত। আফগান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব যেমনটি বলেছেন, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ওই দেশটিকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ এনে দেবে। #        

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৭