ফার্সি নববর্ষে ইরানিদেরকে ট্রাম্পের বার্তা: লোক দেখানো সহমর্মিতা ও বাস্তবতা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i69017-ফার্সি_নববর্ষে_ইরানিদেরকে_ট্রাম্পের_বার্তা_লোক_দেখানো_সহমর্মিতা_ও_বাস্তবতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে এবং ক্ষমতায় আসার পরও সবসময়ই তিনি ইরানের ইসলামি সরকার ব্যবস্থা উৎখাতের জন্য দেশটির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলেছেন।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
মার্চ ২১, ২০১৯ ১৩:৫১ Asia/Dhaka
  • ডোনাল্ড ট্রাম্প
    ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে এবং ক্ষমতায় আসার পরও সবসময়ই তিনি ইরানের ইসলামি সরকার ব্যবস্থা উৎখাতের জন্য দেশটির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলেছেন।

ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে এবং ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন যাতে দেশটিতে দারিদ্রতা এবং নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে দেয়া যায়। এ ছাড়া ২০১৭ সালে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা সনদ অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের প্রভাব ঠেকানো এবং এ অঞ্চলের ব্যাপারে ইরানের নীতিতে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে আঞ্চলিক জোট গঠনের জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু তারপরও ইরানের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও বিদ্বেষ নিয়ে চলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফার্সি নববর্ষ বা নওরোজের বাণীতে ইরানের বিরুদ্ধে মূল্যহীন ও ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে দাবি করেছেন তাদের দাবি ও চাওয়া পাওয়ার ব্যাপারে আমেরিকা নীরব থাকবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো দাবি করেন, ইরানের জনগণ নওরোজের আনন্দে পুরোপুরি শামিল হতে পারছে না।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বার্তায় এমন সময় ইরানিদের প্রতি সহানুভূতি দেখালেন যখন তিনি ইতিহাসের নজিরবিহীন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরানি জাতিকে নতজানু করার চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প তার বার্তায় ইরানি জনগণ গৌরবময় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিশ্বে তাদের অবস্থান বা মর্যাদা ফিরে পেতে চায় উল্লেখ করে দাবি করেছেন, নওরোজের অর্থ নতুন দিন বলতে যা বোঝায় বাস্তবতার সঙ্গে ইরানের জনগণ তা থেকে অনেক দূরে রয়েছে।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন সময় ইরানের জনগণ আনন্দে নেই বলে দাবি করেছেন যখন ভাবখানা এমন যেন তিনি ভুলে গেছেন যে মার্কিন অন্যায় নিষেধাজ্ঞা ইরানের জনগণের দুর্দশার প্রধান কারণ। এমনকি প্রয়োজনীয় ওষুধ পর্যন্ত ইরানে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না আমেরিকা। এ ছাড়া, যাত্রিবাহী বিমান ও বিমানের খুচরা যন্ত্রপাতি আমদানিতেও বাধা দিয়ে আমেরিকা ইরানের জনগণকে সরাসরি বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

কিন্তু তারপরও ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪০ বছরে ইরানের জনগণ এটা প্রমাণ করেছে তারা মার্কিন চাপের কাছে কখনো নতি স্বীকার করবে না এবং বলদর্পী শক্তির কাছে নিজেদের বিজয় ও স্বাধীনতাকে বিকিয়ে দেবে না। ইরান এটাও প্রমাণ করেছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও শত্রুতা মোকাবেলার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। ওয়াশিংটনে আটলান্টিক পরিষদের ইরান বিষয়ক গবেষক বারবারা স্লাভিন বলেছেন, "বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমাজ আর আমেরিকার পাশে নেই। কিন্তু তারপরও ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববাসীকে ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতি মেনে নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। যদিও বেশির ভাগ দেশ মার্কিন নীতিকে সমর্থন করে না।"

মার্কিন কর্মকর্তারা ভেবেছিলেন, অপপ্রচার চালিয়ে ও নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানকে আত্ম সমর্পণে বাধ্য করা যাবে। আমেরিকার এ নীতি একেবারেই ভুল এবং তা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির বিরোধী। প্রকৃতপক্ষে, তিনি কখনই ইরানের বাস্তবতাকে বুঝতে পারেননি এবং গত ৪০ বছরের ইতিহাসে প্রমাণিত হয়েছে আমেরিকা যতই চাপ সৃষ্টি করেছে ততই ইরানিরা ঐক্যবদ্ধ  হয়েছে।#  

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২১