নিষেধাজ্ঞার মুখে আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া দেবে না ইরান: প্রেসিডেন্ট রুহানি
-
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম বার্ষিক অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট রুহানি
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার মুখে আলোচনার প্রস্তাবে তার দেশ সাড়া দেবে না। তিনি আরো বলেছেন, “যে শত্রু নিষেধাজ্ঞা, চাপপ্রয়োগ ও দারিদ্রের অস্ত্র দিয়ে ইরানকে আত্মসমর্পনে বাধ্য করতে চায় তার সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।”
নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার সকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম বার্ষিক অধিবেশনে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রুহানি তার দেশের এ অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি পরমাণু সমঝোতাকে ‘ইরানের ন্যূনতম দাবি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আপনারা আরো বেশি চাইলে আমাদেরকে আরো বেশি দিতে হবে।”
জাতিসংঘে ভাষণ দেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট রুহানি দু’দিন আগে নিউ ইয়র্কে পৌঁছার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাকে আলোচনায় বসতে উৎসাহিত করার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলো ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়। বিশেষ করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন একাধিকার প্রেসিডেন্ট রুহানির সঙ্গে দেখা করে তাকে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেন।
কিন্তু ইরানের প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে আমেরিকাকে পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পরমাণু সমঝোতায় ফিরে এসে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিন তাহলেই কেবল আলোচনার পথ উন্মুক্ত হতে পারে।” তিনি বলেন, আমেরিকা এমন সময় ইরানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানাচ্ছে যখন সে নিজে চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে একটি নয়া জোট গঠনের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, “আমি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর ঘটনাবলীতে জড়িত সকল দেশকে নিয়ে একটি জোট গঠনের প্রস্তাব করছি যার নাম হতে পারে ‘কোয়ালিশন অব হোপ’ বা ‘প্রত্যাশার জোট’।”
প্রায় দু’সপ্তাহ আগে সৌদি আরবের দু’টি তেল স্থাপনায় ইয়েমেনের ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যখন নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে তখন এ প্রস্তাব দিলেন প্রেসিডেন্ট রুহানি। ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ যোদ্ধারা ওই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করা সত্ত্বেও আমেরিকা ও সৌদি আরব ওই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে। তবে তেহরান কঠোর ভাষায় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।
হাসান রুহানি তার ভাষণে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, রক্তপাত, আগ্রাসন, ধর্মীয় উগ্রতা ও জঙ্গিবাদের আগুনে জ্বলছে এবং এই আগুনের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে ফিলিস্তিনি জাতি। ফিলিস্তিনের স্বাধীকার আন্দোলন থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে এই আগুন জ্বালানো হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল মিলে ‘ডিল অব সেঞ্চুরি’ নামের যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে তা অবশ্যই ব্যর্থ হবে।
তিনি ইরানের ওপর গত প্রায় দেড় বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি এমন একটি দেশ থেকে এসেছি যে দেশের জনগণ গত দেড় বছর ধরে ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের শিকার। মার্কিন সরকার নিষেধাজ্ঞা ও হুমকির মাধ্যমে ইরানি জনগণকে বিশ্ব অর্থনীতির সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখার চেষ্টা করার পাশাপাশি ব্যাংকিং ব্যবস্থার অপব্যবহার করে আন্তর্জাতিক দস্যুবৃত্তি চালু করেছে।

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সে সম্পর্কেও বক্তব্য রাখেন প্রেসিডেন্ট রুহানি। তিনি বলেন, “মার্কিন শাসকগোষ্ঠী কীভাবে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ করে গর্ব করতে পারে? ইরানি জনগণ তাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অপরাধযজ্ঞে জড়িতদের যেমন কোনোদিন ভুলবে না তেমনি ক্ষমাও করবে না। ”
ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকার একতরফাভাবে বেরিয়ে যাওয়া এবং ইউরোপের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার ব্যাপারেও কথা বলেন প্রেসিডেন্ট রুহানি। জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে তিনি আরো বলেন, “আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও ইরান এখন পর্যন্ত এটি মেনে চলেছে এবং ইউরোপকে এই সুযোগ দিয়েছে যে, তারা যেন ইরানের আর্থিক ক্ষতিটি পুষিয়ে দেয়। কিন্তু আমরা ইউরোপীয়দের পক্ষ থেকে সুন্দর সুন্দর কথা শুনেছি কিন্তু তার বাস্তবায়ন দেখিনি।”#
পার্সটুডে/এমএমআই/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।