আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতায় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় প্রস্তুত ইরান: দেহকানি
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i74072-আঞ্চলিক_দেশগুলোর_সহযোগিতায়_নিরাপত্তা_প্রতিষ্ঠায়_প্রস্তুত_ইরান_দেহকানি
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন দেহকানি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিণতির ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯ ১৪:২৪ Asia/Dhaka
  • হোসেন দেহকানি
    হোসেন দেহকানি

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন দেহকানি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিণতির ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন।

তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের অবকাশে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি'র পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি এই উত্তেজনার বিপজ্জনক পরিণতির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য এ অঞ্চলের দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত ইরান।

গত অর্ধ শতাব্দি ধরে পারস্য উপসাগর অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম ভূ-কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ মজুদ থাকায় এবং হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত অবস্থানের কারণে সারা বিশ্বের দৃষ্টি এখন এদিকে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে রাজতন্ত্র শাসিত কয়েকটি আরব দেশ আমেরিকার উস্কানিতে বাইরে থেকে নিরাপত্তা আমদানির পথ বেছে নিয়েছে। বিদেশি সামরিক বিশেষজ্ঞ ভাড়া করা ছাড়াও কোটি কোটি ডলারের অস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে সৌদি আরব। অথচ এ অঞ্চলে অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণ হচ্ছে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি।

আমেরিকা ইরানভীতি ছড়িয়ে নিরাপত্তা রক্ষার অজুহাতে এ অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি বজায় রেখেছে আর এর প্রতি সমর্থন দিচ্ছে কয়েকটি আরব দেশ। গত কয়েক দশক ধরে এ অঞ্চলে বিদেশি সামরিক উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বাইরে থেকে চাপিয়ে দেয়া হুমকি মোকাবেলায় এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জরুরি হয়ে পড়েছে। পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো ইরানের হাতে রয়েছে এবং এ দেশটির রয়েছে দীর্ঘ সমুদ্রউপকূল। এ কারণে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইরান এ অঞ্চলের সব দেশকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপত্তা রক্ষার কথা বলছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের সক্ষমতার ব্যাপারে রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ ইউরি লিয়ামিন বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্রিটিশ-মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ উপস্থিত থাকলেও নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান মূখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড্যানিস ইতলার পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ইরান বিরোধী জোট গঠনে মার্কিন প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ইউরোপীয় মিত্রদের সহযোগিতায় আমেরিকা ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অথচ উচিত ছিল জাতিসংঘের সমর্থনে ইরানের মতো দেশসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকা ও ব্রিটেন এ অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতির জন্য নানা অজুহাত তৈরি করলেও বাস্তবতা হচ্ছে এখানে বিদেশিদের আস্তানা গাড়ার কোনো সুযোগ নেই। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যেমনটি বলেছেন, মার্কিনীরা তাদের কথাবার্তায় এ অঞ্চলে সংকটের জন্য ইরানকে দায়ী করে। কিন্তু তাদের এ কথার জবাবে আমি বলতে চাই প্রথমত, এ অঞ্চলে তোমাদের কি কাজ রয়েছে এবং দ্বিতীয়ত, তোমরা ও তোমাদের মিত্ররাই আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী।

যাইহোক, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইরান সবসময়ই এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চেষ্টা চালিয়ে আসছে। পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ইরান এ অঞ্চলের দেশগুলোকে নিয়ে আঞ্চলিক জোট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এমনকি ইরান আগাম হামলা না চালানোর ব্যাপারে চুক্তি সইয়েরও প্রস্তাব দিয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ ইরানের এসব প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। #            

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৯