ব্যক্তি ট্রাম্প ছাড়া সারা বিশ্ব পরমাণু সমঝোতার গুরুত্ব বোঝে: সের্গেই রিয়াবকভ
-
সের্গেই রিয়াবকভ
চীন ও রাশিয়া আবারো ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করা এবং সবপক্ষকে এই চুক্তি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। মস্কোয় অনুষ্ঠিত পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অবকাশে চীন ও রাশিয়া এ বিষয়ে তাদের অভিন্ন অবস্থান ব্যক্ত করে।
মস্কো সম্মেলনের অবকাশে রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ফু কুংগ ও ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে বৈঠক মিলিত হন। এ বৈঠকে রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াবকভ পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে মার্কিন একতরফা আচরণ ও বেআইনি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, "একমাত্র আমেরিকা বিশেষ করে ব্যক্তি ট্রাম্প ছাড়া সারা বিশ্ব পরমাণু সমঝোতার গুরুত্ব উপলব্ধি করে।"
পরমাণু সমঝোতায় সইকারী দেশগুলো এমনকি ইউরোপীয়রাও বিশ্বাস করে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে ওয়াশিংটন সবার মতামতকে উপেক্ষা করেছে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে। রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরানের সঙ্গে মস্কোর সর্বাত্মক সহযোগিতা বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। রিয়াবকভ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা গড়ে তুলতে চাই।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রুশ কর্মকর্তার এ বক্তব্য থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের গুরুত্বের বিষয়টি ফুটে ওঠে। মার্কিন চাপ সত্বেও চীন ও রাশিয়ার মতো বৃহৎ শক্তিগুলো ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে এবং এমনকি তারা সহযোগিতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে চায়। মস্কো মনে করে, নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবে পরমাণু সমঝোতাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও আমেরিকা বেআইনিভাবে এ সমঝোতা থেকে শুধু বেরিয়ে গিয়েই ক্ষান্ত হয়নি বরং অন্য দেশকেও নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন এবং ইরানবিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে নিতে বাধ্য করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরান এক বছর পর্যন্ত চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলেছে এবং এরপর তেহরান পর্যায়ক্রমে পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত করা শুরু করে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক দফতরের প্রধান ইরানের এ পদক্ষেপের জন্য আমেরিকার নেতিবাচক ভূমিকাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, পরমাণু সমঝোতা নিয়ে বর্তমান উত্তেজনার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির নীতিই দায়ী। মার্কিন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাশিয়া ও চীন পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের অধিকার দেয়ার প্রতি সমর্থন জানালেও ইউরোপ ও আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো প্রতিশ্রুতিতে অটল থাকতে ইরানের ওপর চাপ দিয়ে যাচ্ছে। অথচ তারা নিজেরা প্রতিশ্রুতি পালন করছে না অথবা মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে।
যাইহোক, চীন ও রাশিয়া মনে করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় পরমাণু সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চুক্তি বিনষ্ট হলে পশ্চিম এশিয়ায় এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১১