পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে ইউরোপের অনীহার বিষয়ে যৌথ কমিশনের বৈঠকে আলোচনা হবে
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i81438-পরমাণু_সমঝোতা_বাস্তবায়নে_ইউরোপের_অনীহার_বিষয়ে_যৌথ_কমিশনের_বৈঠকে_আলোচনা_হবে
পরমাণু বিষয়ে ১৩ বছর ধরে কঠিন ও শ্বাসরুদ্ধকর আলোচনার পর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা সই হয়। এরপর ওই সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব পাশ হয়।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুলাই ১৪, ২০২০ ১২:২৫ Asia/Dhaka

পরমাণু বিষয়ে ১৩ বছর ধরে কঠিন ও শ্বাসরুদ্ধকর আলোচনার পর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা সই হয়। এরপর ওই সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব পাশ হয়।

পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি মেনে চলতে ইউরোপ গড়িমসি করলেও এটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য ইরান অনেক ধৈর্য ধরেছে। ইউরোপ পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতির খুব সামান্যই রক্ষা করলেও এর  বিপরীতে ইরান পুরোপুরি তা মেনে চলে নিজের স্বদিচ্ছার প্রমাণ দিয়েছে। ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়নে ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্সের অনীহার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা বিষয়ক যৌথ কমিশনে ইউরোপের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের বিষয়ে আলোচনা হবে।

পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী ইরান আইএইএকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়েছে। এটি একটি বহুপক্ষীয় সমঝোতা এবং সবাইকেই এটি মেনে চলতে হবে। একতরফা কোনো পদক্ষেপ নিয়ে কেউই লক্ষ্যে  র্পৌঁছতে পারবে না। পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ার এক বছর পর এবং ইউরোপও তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে গড়িমসি করায় পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান গত বছর ৮ মে পর্যায়ক্রমে পরমাণু সমঝোতার বেশ কিছু ধারা বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার কাজ শুরু করে। রাশিয়ায় ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি পরমাণু সমঝোতায় অর্থনৈতিক, কারিগরি, রাজনৈতিক ও আইনগত ভিত্তির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এ থেকে বেরিয়ে গিয়ে আমেরিকা ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় আন্তর্জাতিক এ সমঝোতা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে যা কিনা বিশ্ববাসীকে চিন্তিত করে তুলেছে।

উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার আরেকটি কারণ হচ্ছে, ইরান ইস্যুতে আমেরিকা তার একতরফা বিদ্বেষী নীতি বাস্তবায়নে বিশ্বের দেশগুলোকে বিশেষ করে ইউরোপকে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী দেশ হিসেবে অন্য দেশের ওপর চাপ প্রয়োগের  মার্কিন নীতি খুবই ধ্বংসাত্মক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একতরফা নীতি অনুসরণ করতে গিয়ে ইউরোপ কার্যত তার স্বাধীনতা হারিয়েছে। আত্মমর্যাদা ফিরে পেতে তাদের একমাত্র পথ হচ্ছে পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করা। তারা যতই আমেরিকার সঙ্গে সুর মেলাবে ততই পরমাণু সমঝোতা থেকে দূরে সরে যাবে।

পরমাণু সমঝোতার পঞ্চম বার্ষিকী উপলক্ষে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আমেরিকায় আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ব্যাপারে নিজের সাফল্য প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। তিনি এখনো পরমাণু সমঝোতা থেকে সরে আসাকে নিজের জন্য বিজয় হিসেবে দেখছেন। এখন তিনি ইরানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নবায়নের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন এবং নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবও ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন।

যাইহোক, ইরান তার কাজেকর্মে প্রমাণ করেছে পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় তারা আন্তরিক। তবে পাশ্চাত্যের আচরণের ওপর ইরানের অবস্থান নির্ভর করবে এবং ইরান এককভাবে সবসময়ের জন্য প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলতে পারে না।#               

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৪