ইরানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্তর্জাতিক সমাজ
যুক্তরাষ্ট্র সরকার ২০ সেপ্টেম্বরের পরও ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার দাবি করলেও আন্তর্জাতিক সমাজ ওয়াশিংটনের এ নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ওয়াশিংটনের এ নীতির বিরোধিতা করে নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে সইকারী বাদবাকি দেশগুলো ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত এবং রুশ রাষ্ট্রদূত নিরাপত্তা পরিষদের কাছে লেখা চিঠিতে বলেছেন, স্ল্যাপব্যাক মেকানিজমের নামে ইরানের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে আমেরিকা সমস্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল করার যে ঘোষণা দিয়েছে তা সম্পূর্ণ বেআইনি। তাই ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। চিঠিতে রুশ প্রতিনিধি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে আমেরিকার মতো একটি বড় দেশ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য অন্য দেশের মতামতকে উপেক্ষা করে চলেছে।
এদিকে, পরমাণু সমঝোতায় সইকারী ইউরোপের তিনটি দেশ অর্থাৎ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও এক বিবৃতিতে ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নবায়নের মার্কিন প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে বলেছে, তারা নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের ওপর অটল থাকবে। বিবৃতিতে ওই তিন দেশ বলেছে, আমেরিকা ২০১৮ সালের ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন এখন আর এই চুক্তির সদস্য নয়। আর সে কারণেই তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার রাখেনা।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন ইরানের ব্যাপারে মার্কিন মিত্র ইউরোপের এ অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক বড় পরাজয় এবং আমেরিকা কার্যত বিশ্ব অঙ্গনে একঘরে হয়ে পড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানের ব্যাপারে ইউরোপের এ অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস এ ব্যাপারে এক প্রতিবেদনে লিখেছে ইউরোপের মিত্র দেশগুলোও সমর্থন না দেয়ায় ওয়াশিংটন একঘরে হয়ে পড়েছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করার মার্কিন প্রচেষ্টাকে বেআইনি অভিহিত করে এর নিন্দা জানিয়েছে। তারা আরো বলেছে, আমেরিকার এ ধরনের পদক্ষেপের পরিণতি অন্য দেশগুলোর জন্যও ভালো হবে না এবং ইরানের সঙ্গে বৈধ সহযোগিতাকে সীমিত করবে।
বিশ্বের দেশগুলোর এত বিরোধিতা সত্ত্বেও মার্কিন সরকার দাবি করেছে ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুমকি দিয়েছে বিশ্বের যেসব অস্ত্র নির্মাণ কোম্পানি ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখবে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি করবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছে, আমেরিকা যতই নিষেধাজ্ঞা দিক না কেন তেরহান কখনোই ওয়াশিংটনের বলদর্পিতার কাছে মাথা নত করবে না। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কার্যকলাপ বিশ্বে মার্কিন গ্রহণযোগ্যতাকে খর্ব করেছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২১