বাকুর কর্মকর্তারা মার্কিন ও ইসরাইলি উসকানিতেই ইরান বিরোধী কথা বলছেন
ইরান-আজারবাইজান সম্পর্ক-উন্নয়নের প্রচেষ্টা: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা
-
আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিইহুন বায়েরমভ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান (ডানে) ফাইল ছবি
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও আজারবাইজান তাদের মতবিরোধগুলো নিরসন ও সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে কাজ করতে একমত হওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।
সাম্প্রতিক কয়েক মাসে এই দুই দেশের সম্পর্কে বেশ উত্তেজনা ও টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। আজারবাইজানের কোনো কোনো কর্মকর্তা ইরান বিরোধী বক্তব্য দেয়ায় ও ইরান-বিরোধী অবস্থান নেয়ায় ওই উত্তেজনা দেখা দেয়।
বাকু-তেহরান সম্পর্কের বিষয়ে সর্ব-সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে বলেছেন, ইরান তার প্রতিবেশীদের নিজের আত্মীয় বলে মনে করে। তিনি বলেন, এই দুই দেশের মধ্যে কোনো কোনো বিষয়ে নীতি-অবস্থান ও মতের অমিল থাকতে পারে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল উভয় দেশই বাধাগুলো অতিক্রমের দৃঢ় ইচ্ছা রাখে।
ওদিকে আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিইহুন বায়ের'মভ বলেছেন, আমি নিশ্চিত যে তেহরান-বাকু সম্পর্ক সব সময়ের মতই ইতিবাচক পথে জোরদার হবে।
সম্প্রতি আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট এলহাম আলিয়েভ ইরানের বিরুদ্ধে এক ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, ইরান ও আর্মেনিয়া এক গোপন আঁতাতের ভিত্তিতে আজারবাইজানের কাছ থেকে দখল-করা অঞ্চল (যা সম্প্রতি আজারবাইজান মুক্ত করেছে) ত্রিশ বছর ধরে মাদকদ্রব্য পাচারের কাজে ব্যবহার করেছে।
ইরান ওই অভিযোগকে আজারবাইজানী প্রেসিডেন্টের অবিবেচনাসুলভ বক্তব্য বলে নাকচ করে দেয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ প্রসঙ্গে বলেছেন, যদিও বাকু থেকে বিশেষ ও ইতিবাচক নানা বার্তা আসছে তা সত্ত্বেও বাকুর মধ্যে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।
আসলে বাকুর কর্মকর্তারা মার্কিন সরকার ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের উসকানিতেই ইরানের স্বার্থ ক্ষুন্ন করতে ইরান বিরোধী কথাবার্তা বলছেন। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলছেন, এ অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে একদিকে কোনো কোনো আরব দেশের মাধ্যমে ইরানের দক্ষিণাঞ্চল ও অন্যদিকে আজারবাইজানের মাধ্যমে ইরানের উত্তরাঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ার চেষ্টা করছে ইসরাইল।
সৎ-প্রতিবেশীসুলভ নীতিতে বিশ্বাসী ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি আজারবাইজানের জন্যই দীর্ঘ মেয়াদে বেশি ক্ষতিকর হবে। আজারবাইজান শত শত বছর ধরে ছিল ইরানের অংশ। উভয় দেশের অভিন্ন ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধনের কারণেই বাকুর কোনো কর্মকর্তাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে কখনও বেশি দিন উত্তেজনা জিইয়ে রাখতে সক্ষম হবেন না।
ইহুদিবাদী ইসরাইলের উস্কানি ও মার্কিন চাপ এড়িয়ে বাকুর সরকার তেহরানের সদিচ্ছার জবাব দিয়ে ইসলামী এই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক-উন্নয়নে এগিয়ে আসবে এটাই দুই দেশের জনগণের সবার প্রত্যাশা। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/৬