'রেডিও তেহরান: একটি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম'
https://parstoday.ir/bn/news/letter-i102140-'রেডিও_তেহরান_একটি_নিরপেক্ষ_আন্তর্জাতিক_গণমাধ্যম'
আমার যখন প্রায় ৩-৪ বছর তখন অর্থাৎ ১৯৮২ সালের ১৭ এপ্রিল রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠানের সম্প্রচার শুরু হয়। ৮০-এর দশকের প্রথম দিকে রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান প্রচার শুরু হলেও আমি ছাত্র জীবনে ৮০-র দশকের শেষ দিক থেকে রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান শর্টওয়েভ মিটার ব্যান্ডে শোনা শুরু করি। সে সময় অনুষ্ঠান শুনে হাতে লিখা চিঠিপত্র ডাকযোগে রেডিও তেহরানে নিকট পাঠাতাম।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জানুয়ারি ০৫, ২০২২ ১৪:১০ Asia/Dhaka
  • 'রেডিও তেহরান: একটি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম'

আমার যখন প্রায় ৩-৪ বছর তখন অর্থাৎ ১৯৮২ সালের ১৭ এপ্রিল রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠানের সম্প্রচার শুরু হয়। ৮০-এর দশকের প্রথম দিকে রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান প্রচার শুরু হলেও আমি ছাত্র জীবনে ৮০-র দশকের শেষ দিক থেকে রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান শর্টওয়েভ মিটার ব্যান্ডে শোনা শুরু করি। সে সময় অনুষ্ঠান শুনে হাতে লিখা চিঠিপত্র ডাকযোগে রেডিও তেহরানে নিকট পাঠাতাম।

চিঠির জবাব রেডিওতে পেতাম এবং ডাকে আমার নিকট ইরান ভ্রমণ গাইড, নিউজ লেটারসহ বিভিন্ন জিনিস রেডিও তেহরানের পক্ষ থেকে আসত। এতে আমার মনপ্রাণ আনন্দে ভরে উঠতো ও চিঠিপত্র লেখার আগ্রহ আরও বেড়ে যেতো।

১৯৯৪ সালে বাড়ির বাইরে লেখাপড়া করতে গিয়ে হাতের কাছে রেডিওর সুবিধা না থাকায় অনুষ্ঠান শোনা ও বেতারে চিঠিপত্র লেখা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছর ২০২১ সালে জুলাই মাস থেকে নতুন করে রেডিও তেহরানে বাংলা অনুষ্ঠান ফেসবুক লাইভে শোনার পাশাপাশি চিঠিপত্র লিখা আরম্ভ করি। ইতোমধ্যেই আমার বেশ কিছু চিঠির জবাব রেডিও তেহরানের প্রিয়জনে দেয়া হয়েছে। রেডিও তেহরান অনলাইন সংস্করণ পার্সটুডে ডটকমে আমার কিছু চিঠি ছাপানো হয়েছে এবং এর পাশাপাশি আমার সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রচার করা হয়েছে। এজন্য আমি রেডিও তেহরানের সাংবাদিক আশরাফুর রহমান ভাইসহ সকলের প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

বর্তমানে আমার নিকট রেডিও তেহরান একটি আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ গণমাধ্যম হিসেবে সর্বাধিক প্রিয় বেতার মাধ্যম। যেখান থেকে প্রতিদিন বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিশ্বের তরতাজা সংবাদ পেয়ে থাকি। নিয়মিত অনুষ্ঠান শুনছি ও চিঠিপত্র লিখে মতামত জানাচ্ছি।

এ বছর রেডিও তেহরানের ৪০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিতব্য স্মরণিকার জন্য লেখা আহ্বান করা হয়েছে। ১৫ দিন সময় বাড়ানোর পরও আজ লেখা পাঠানো শেষ দিন। শেষ মুহূর্তে এসে লেখা পাঠাতে না পেরে রেডিও তেহরানকে নিয়ে একটি কবিতা লেখার চেষ্টা করলাম। ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। পছন্দ হলে স্মরণিকায় স্থান দিবেন।

 

রেডিও তেহরান

রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শুনি,

নতুন করে জীবন গড়ি,

জ্ঞানের পরিধি উন্নীত করি।

সুস্থ ধারার গণমাধ্যম জানি,

রেডিও তেহরানকে সবাই মানি।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে,

অনুষ্ঠান শুনি মিলে মিশে।

স্বাস্থ্য-শিক্ষা-সংস্কৃতি,

রেডিও তেহরানের মৌলিক নীতি।

রেডিও তেহরানের নিরপেক্ষ মান,

বিশ্বজুড়ে রাখে অবদান।

চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন,

হাজার শ্রোতাকে করেছে আপন।

শিশু-কিশোরদের রংধনু আয়োজন,

সব বয়সের শ্রোতার রাঙিয়েছে মন।

আদর্শ মানুষ গড়ার কৌশল,

জীবনকে করেছে সুশীতল।

পাশ্চ্যাত্যে জীবনব্যবস্থা,

জীবনকে উপভোগের দেয় আস্থা।

ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস,

জ্ঞানের পরিধির করে বিকাশ।

কুরআনের আলো,

জীবন গড়তে ভালো।

আলাপন- সাক্ষাৎকার,

বাস্তবে তার আছে দরকার।

কথাবার্তা পত্রপত্রিকার ভাষা,

দুদেশের মানুষের মেটায় আশা।

স্বাস্থ্যকথা, স্বাস্থ্য শিক্ষা,

জীবনকে বাঁচার দিচ্ছে দিক্ষা।

গল্প ও প্রবাদের গল্প,

শুনে থাকি অল্প অল্প।

তাইতো মোরা সবাই বলি

'পারস্য উপসাগর থেকে বঙ্গোপসাগর

রেডিও তেহরান সঙ্গী হোক আপনার-আমার'।

 

ধন্যবাদান্তে,

মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা

গ্রাম: ছোট জামবাড়িয়া, ডাকঘর: বড়গাছীহাট,

উপজেলা: ভোলাহাট, জেলা: চাঁপাই নবাবগঞ্জ, বাংলাদেশ।