একজন সিনিয়র শ্রোতার দৃষ্টিতে রেডিও তেহরান বাংলা'র অতীত ও বর্তমান
https://parstoday.ir/bn/news/letter-i102272-একজন_সিনিয়র_শ্রোতার_দৃষ্টিতে_রেডিও_তেহরান_বাংলা'র_অতীত_ও_বর্তমান
মহাশয়, সালাম নেবেন। শুরুতেই ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলায়মানির শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে রেডিও তেহরান বাংলা অনুষ্ঠানের অতীত ও বর্তমান সম্পর্কে আমার অনুভবের কিঞ্চিৎ আপনাদের সাথে শেয়ার করার প্রয়াস করছি।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জানুয়ারি ০৯, ২০২২ ০৮:০৩ Asia/Dhaka
  •  একজন সিনিয়র শ্রোতার দৃষ্টিতে রেডিও তেহরান বাংলা'র অতীত ও বর্তমান

মহাশয়, সালাম নেবেন। শুরুতেই ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলায়মানির শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে রেডিও তেহরান বাংলা অনুষ্ঠানের অতীত ও বর্তমান সম্পর্কে আমার অনুভবের কিঞ্চিৎ আপনাদের সাথে শেয়ার করার প্রয়াস করছি।

আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর পূর্বে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বহির্বিশ্ব কার্যক্রমের অন্তর্গত বাংলা ভাষার অনুষ্ঠানের জন্ম যাতনা শুরু হয় ১৯৮২ সালের ১৭ এপ্রিল। সূচনা লগ্ন থেকে রেডিও তেহরান হাঁটি হাঁটি পা পা করে আজ মহীরুহ রূপে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে অগণিত শ্রোতাবন্ধুর ভালোবাসা ও নিঃস্বার্থ আন্তরিক সহযোগিতার জন্য। কেননা শ্রোতারাই হয়েছে রেডিও তেহরানের প্রাণ। তাঁদের একনিষ্ঠ ও অকুণ্ঠ সমর্থন ছাড়া রেডিও তেহরান আজ সাফল্যের দৌরগোড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হতো না। আজকে রেডিও তেহরানের চাঁদের হাট-এর একমাত্র কারণ হলো এর আত্মনিবেদিত অগণিত শ্রোতা, শুভাকাঙ্ক্ষীদের অফুরন্ত ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ। 

সেই সাথে রেডিও তেহরানের এক ঝাঁক দক্ষ, কর্মকর্তা, কলা-কুশলী, উপস্থাপক-উপস্থাপিকা, প্রযোজক ও পরিচালকের অহর্নিশ প্রচেষ্টা, ধৈর্য ও সহনশীলতা পূর্বক রাত দিন পরিশ্রম করে প্রস্তত করা বিভিন্ন স্বাদের ও মানের সুন্দর মনোমুগ্ধকর শ্রোতানন্দিত অনুষ্ঠানমালা যা রেডিও তেহরানকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছে।

শুরু থেকে আজ পর্যন্ত রেডিও তেহরান গতানুগতিকতার বিপরীতে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও প্রকাশ ভঙ্গিতে অনুষ্ঠান প্রচার করে বিশ্ব দরবারে নিজের স্থান দখল করে নিতে সক্ষম হয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। রেডিও তেহরান পশ্চিমীয়া গণমাধ্যমকে অন্ধ অনুকরণ না করে নিজস্ব ধ্যান ধারণায় বিশ্বের চলমান রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ঘটনাবলী নিরপেক্ষ বস্তনিষ্ঠ সত্যের উপর আধারিত ও বাস্তবসম্মত ভাবে প্রকৃত সত্য প্রচারে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছে ও জীবনের ব্রত বলে গ্রহণ করেছে। তাই রেডিও তেহরান পারস্য উপসাগর থেকে বঙ্গোপসাগর অবধি তথা সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।

রেডিও তেহরানের তরতাজা বিশ্ব সংবাদের কোনো জুড়ি নেই। তাই আজও গ্রাম-বাংলার মানুষ রেডিও তেহরানের খবর ও বিশ্ব সংবাদের পানে চাতকের মতো তাকিয়ে থাকে।

তাছাড়া ও সাপ্তাহিক ধারাবাহিক ও ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানগুলো শ্রোতা বন্ধুরা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা থাকে এবং তা থেকে নিজের জ্ঞান ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত রেডিও তেহরান যতগুলো অনুষ্ঠান প্রচার করেছে তার প্রতিটি অনুষ্ঠান এক একটি প্রামাণ্য দলিল ও মাইলফলক বলে আমার ও সবার নিকট প্রতিপন্ন হয়েছে। তাই তো শুরু থেকে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান সম্পর্কে প্রতিদিন চিঠি লেখে মতামত জানাতাম। সে সময় রেডিও’র নব ঘুরিয়ে ঘুরি রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শোনা যে কতো কষ্ট সাধ্য কাজ ছিল সেটা ভুক্তভোগীরাই ভালো করে অনুধাবন করতে পারবে।

বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনের ফলে আজ আমরা একটুখানি কষ্ট করেই ফেসবুক, ইউটিউব, ওয়েবসাইট, আর্কাইভ, বিভিন্ন মাধ্যমে লাইভ অনুষ্ঠান শুনতে পাচ্ছি এবং সাথে সাথেই অনুষ্ঠান শুনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও মতামত জানাতে সক্ষম হয়েছি। কয়েক বছর আগেও এ সুযোগটা ছিল না। অনুষ্ঠান শুনে দূতাবাসের ঠিকানায় অথবা সরাসরি রেডিও তেহরানের ঠিকানায় চিঠি লেখা, সেটা অনুষ্ঠানে পৌঁছানো, তার পর সে চিঠির উত্তর প্রদান দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। তবুও চিঠি লেখা ছাড়িনি, নিয়মিত লেখেই চলেছি। আর চিঠির উত্তর পেয়ে যে কী আনন্দ তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সে অনুষ্ঠান দুবার করে শুনছি সান্ধ্য অধিবেশনে ও সকালে পুনঃ প্রচারে। কিন্তু আজ/কাল অনুষ্ঠান শুনে সাথে সাথেই ইমেইল পাঠিয়ে মতামত জানানো সম্ভব হয়েছে যদিও আগের মত মজা ও আনন্দ যেন হ্রাস হয়ে গিয়েছে। সেই সার রাত জেগে চিঠি লেখার আমেজ কারো সাথে তুলনা হয় না। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন উপহার-ক্যালেন্ডার, ম্যাগাজিন, বইপত্র, ভিউকার্ড- এগুলো পেয়ে ভীষণ আনন্দ পেতাম আর সেগুলেঅ সারা গ্রাম ঘুরিয়ে দেখাতাম। সবার নিকট থেকে বাহবা পেতাম। সে এক দারুণ অনুভুতি! দারুণ ব্যাপার মনে হতো। রেডিও তেহরান রয়েছে সেই আগের মতই কিন্তু হারিয়ে গিয়েছে সেই আনন্দ, উচ্ছাস, আবেগঘন মুহূর্ত !

রেডিও তেহরান পরিবর্তিত সময়ের সাথে সাথে অনুষ্ঠানে অনেক পরিবর্তন পরিবর্ধন করছে যদিও আমার মনে হয় তা সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও যথার্থ বলে মনে করি। অনুষ্ঠানের কিছু পরিবর্তন হলেও রেডিও তেহরান তাঁর মূল আদর্শ, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি এক চুলও।

রেডিও তেহরান যে একটি বহুমুখী শিক্ষার, জ্ঞানের ও তথ্যর ভাণ্ডার তা সকলেই এক মুখে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে, তাঁর পরিবেশিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে। একথা দিনের আলোর ন্যায় সত্য।

রেডিও তেহরান-এর কোন অনুষ্ঠানের কথা বলব, সবগুলো অনুষ্ঠান ওই সময়োপযোগী, জীবন ঘনিষ্ঠ, অতীব শিক্ষণীয় ও আদর্শ মানুষ, সৎ চরিত্রবান এবং একজন ন্যায়নিষ্ঠ ধার্মিক মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করে চলেছে প্রতিনিয়ত। মনোরঞ্জনের খোরাক জোগানো থেকেও বাদ যায়নি। আট থেকে আশি সব বয়সের মানুষের জন্য রেডিও তেহরান কাজ করে চলেছে নিরন্তর। দিয়েছে প্রতিভা বিকাশের অপূর্ব সুযোগ, সারা বিশ্বের মজলুমদের পাশে দাঁড়িয়েছে, সাহস জুগিয়েছে দুর্বল ও আর্তজনকে, কাজ করে চলেছে মানবতার কাণ্ডারী রূপে। তাই রেডিও তেহরান তুমি চির নমস্য।

অতীত ও বর্তমানের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমি প্রবল আশাবাদী যে রেডিও তেহরান যদি তাঁর পথচলা এভাবে অব্যাহত রাখতে পারে তাহলে রেডিও তেহরান একদিন বিশ্বের সকল গণমাধ্যমের মধ্যে শীর্ষ স্থান দখল করতে সক্ষম হবে এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

শেষে রেডিও তেহরানের সার্বিক সফল্য কামনা করছি এবং সবাইকে আবারো নতুন বছরের প্রাণঢালা প্রীতিময় শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানিয়ে আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। জয়তু রেডিও তেহরান। খোদা হাফেজ।

 

ধন্যবাদান্তে,

আব্দুস সালাম সিদ্দিক

সভাপতি, সকাল-সন্ধ্যা রেডিও লিসেনার্স ক্লাব

কান্দুলিয়া, বড়পেটা, আসাম, ভারত।

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।