‘রেডিও তেহরান আমাকে কলম ধরা শিখিয়েছে, লেখার সাহস যুগিয়েছে’
https://parstoday.ir/bn/news/letter-i104010-রেডিও_তেহরান_আমাকে_কলম_ধরা_শিখিয়েছে_লেখার_সাহস_যুগিয়েছে’
সম্মানীয় মহাশয়, আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন। গত ১৯ জানুয়ারি থেকে জ্বর, প্রচণ্ড মাথা ব্যথা ও সর্দিতে দারুণভাবে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। শরীর টা বড় অসুস্থ। যদিও অনুষ্ঠান শুনছি, চিঠি লেখা হয়নি চার দিন। তাই ভাবলাম চেষ্টা করে দেখি পারি কী না। কিন্তু সব এলোমেলো হয়ে গেছে। কোথা থেকে শুরু করব ভেবে পাচ্ছি না।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২২ ০৭:২৯ Asia/Dhaka
  • ‘রেডিও তেহরান আমাকে কলম ধরা শিখিয়েছে, লেখার সাহস যুগিয়েছে’

সম্মানীয় মহাশয়, আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন। গত ১৯ জানুয়ারি থেকে জ্বর, প্রচণ্ড মাথা ব্যথা ও সর্দিতে দারুণভাবে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। শরীর টা বড় অসুস্থ। যদিও অনুষ্ঠান শুনছি, চিঠি লেখা হয়নি চার দিন। তাই ভাবলাম চেষ্টা করে দেখি পারি কী না। কিন্তু সব এলোমেলো হয়ে গেছে। কোথা থেকে শুরু করব ভেবে পাচ্ছি না।

হঠাৎ মনে একটি ধারণা আসল এখান থেকে শুরু করলে বোধহয় মন্দ হবে না। নতুন বছরে নতুন জিনিস উপহার কার না ভালো লাগে! তাই আমরাও রেডিও তেহরানের নিকট থেকে পেয়েছি দুটি সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান ‘সুন্দর জীবন’ ও ‘সুখের নীড়'।

পারস্য উপসাগরে থেকে বঙ্গোপসাগর অবধি প্রতি ঘরে ঘরে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পৌঁছে দেবার যে শ্লোগান নিয়ে আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে রেডিও তেহরানের আবির্ভাব ঘটেছিল তা আজ মহিরুহে পরিণত হতে যাচ্ছে।  যে দিন (জন্ম লগ্নের সময়) থেকে রেডিও তেহরানকে প্রথম আবিষ্কার করেছিলাম সেদিন থেকেই রেডিও তেহরানকে একটি আদর্শ পরিবার, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় গণমাধ্যম হিসেবে হৃদয় স্থান দিয়েছিলাম এবং পরিবারের সবাই মিলে অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলাম। এ ধারা আজও অব্যাহত রয়েছে।

ছোট বেলা থেকেই শর্টওয়েভ রেডিও শোনার পরিবেশে বড় হয়েছি তাই সংবাদ বিশেষ করে বিশ্ব সংবাদের প্রতি ছিল বিশেষ দুর্বলতা। কিন্তু সে সংবাদে যেন মন ভরতো না, মনের চাহিদা মিটতো না। কেমন যেন সাজানো, একপক্ষীয় মনে হতো। প্রকৃত সত্য মনে হতো সুদূর পরাহত। কিন্তু রেডিও তেহরানের সন্ধান পাওয়ার পর সে সন্দেহ কেটে গেল, প্রকৃত সত্যের সন্ধান ও উপলব্ধি ঘটল।

রেডিও তেহরানের জন্ম লগ্ন থেকে অর্থসহ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, বিশ্ব সংবাদ, দৃষ্টিপাত, পত্র-পত্রিকার পাতার খবরাখবর কথাবার্তা এবং প্রাত্যাহিক অনুষ্ঠানগুলোর কোনো পরিবর্তন হয়নি আজ পর্যন্ত। সাপ্তাহিক ও ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানগুলো সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সময়োপযোগী করে সাজানো হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে সেখানে চিকিৎসা বিজ্ঞান, ভ্রমণ বিষয়ক, যুদ্ধ-বিগ্রহ, আনন্দ বিনোদন, গল্প কাহিনি, কুরআন হাদিস, ধর্মীয় বিষয়াদি ইসলামী নীতি আদর্শ নৈতিকতা পূর্ণ বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহ অনুষ্ঠানে স্থান দেওয়া হয়েছে।

যে অনুষ্ঠানগুলো নিয়মিত শুনলে একজন মানুষ আপনাআপনি প্রকৃত ঈমানদার, খোদাভীরু, নৈতিক মূল্যবোধ ও সৎ চরিত্রের অধিকারী, সমাজ সচেতন ব্যক্তি, সুনাগরিক, ইহকাল ও পরকালের সম্বল সঞ্চয়কারী এবং বর্তমান বিশ্বকে জানার এক অপূর্ব সুযোগ লাভ করতে সক্ষম হবেন।

মানুষের একঘেয়েমি কাটিয়ে উঠতে আমোদফূর্তি ও বিশুদ্ধ বিনোদনের প্রয়োজন। সে প্রয়োজন মেটাতে রেডিও তেহরান সদা সচেষ্ট। তাঁর উদাহরণ রংধনু আসর, প্রিয়জন অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তা দেখলেই বোঝা যায়।

রেডিও তেহরান আমাকে যে ভাবে কলম ধরা শিখিয়েছে, কিছু লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করার সাহস যুগিয়েছে তেমনি অসংখ্য জনের লুকিয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করতে সক্ষম হয়েছে। কেননা রেডিও তেহরান একটি বিরাট শিক্ষা অনুষ্ঠান। এখান থেকে যার যে চাহিদা, যার যে প্রয়োজন সে তা মেটাতে সক্ষম হতে পারে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

বর্তমান বিশ্বে বেতার কেন্দ্রের সংখ্যা দিন দিন হ্রাস হচ্ছে। জনপ্রিয় শর্টওয়েভ রেডিওগুলো তাদের প্রচারণা গুটিয়ে বসে রয়েছে এটা প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্যই হোক আর অর্থ বরাদ্দ স্বল্পতার জন্য ওই হোক এ ক্ষেত্রে রেডিও তেহরানের ভূমিকা কিন্তু জোড়ালো ও প্রশংসনীয়। রেডিও তেহরান প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যেমন- ইন্টারনেট, ইউটিউব, ফেসবুকে অনুষ্ঠান শোনার জন্য শ্রোতাদেরকে সুযোগ করে দিয়েছে। অত্যাধুনিক সুযোগ গ্রহণ করে গ্রামে-গঞ্জে, শহর-বন্দরে দিন দিন রেডিও তেহরানের শ্রোতা স্ংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুরাতন শ্রোতা যারা ঘরে বসে গিয়েছিল তারাও আবার জেগে উঠেছে তাদের প্রাণের বেতারকে এগিয়ে নিতে।

সেই সাথে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, মাসিক কুইজ, মাসিক শ্রেষ্ঠ শ্রোতা, বার্ষিক শ্রেষ্ঠ শ্রোতা, বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। সেই সাথে বিভিন্ন শ্রোতা ক্লাব নিজস্বভাবে রেডিও তেহরানের নামে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চলেছে। এ ক্ষেত্ৰে কর্মমুখর ক্লাবগুলোর কার্যসূচি ও তৎপরতা আরো প্রশংসার দাবি রাখে।

২০২১ সালে দু মাস তৎপরতা চালিয়ে আমি অক্টোবর মাসের শ্রেষ্ঠ শ্রোতা হিসেবে ঘোষিত হয়েছিলাম। যা আমার জন্য রেডিও তেহরান থেকে বড় পাওয়া। তাঁর জন্য আমি গর্বিত। এখানে বলতে দ্বিধা নেই যে, রেডিও তেহরান মানসম্মত লেখাকে সব সময়ই গুরুত্ব দিয়ে আসছে বলেই প্রতি সপ্তাহে আমার লেখা আইআরআইবি ওয়েবসাইট পার্সটুডেতে প্রকাশিত হচ্ছে যা আমাকে ও আমার গুণমুগ্ধ ও বন্ধু মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং আরো চিঠি লেখতে উৎসাহিত করছে। তাই আমি রেডিও তেহরানের নিকট কৃতজ্ঞ। যত দিন আল্লাহ তায়ালা হায়াতে জীবিত রাখবেন ততদিন রেডিও তেহরানের পাশেই থাকব ইনশাআল্লাহ।

শেষে অনুষ্ঠানের মঙ্গল কামনা করে সবাই করোনা আবহে সবাই সুস্থ ও নিরাপদে থাক এই কামনা করে শেষ করছি।

 

ধন্যবাদান্তে,

আব্দুস সালাম সিদ্দিক

সভাপতি, সকাল-সন্ধ্যা রেডিও লিসেনার্স ক্লাব,

কান্দুলিয়া, বড়পেটা, আসাম, ভারত।

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৮