ইরানে বিশ্বনবী (সা)’র প্রতি দরুদ পাঠের সংস্কৃতি
https://parstoday.ir/bn/news/letter-i104376-ইরানে_বিশ্বনবী_(সা)’র_প্রতি_দরুদ_পাঠের_সংস্কৃতি
আসসালামু আলাইকুম, আশা করি রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের সকলে ভালো ও সুস্থ আছেন। রেডিও তেহরান বাংলা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইরান, ইরানের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুশাসন বিষয়ে নানা তথ্য আহরণের সুযোগ পাচ্ছি তার জন্যে প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২২ ২১:৪২ Asia/Dhaka
  • ইরানে বিশ্বনবী (সা)’র প্রতি দরুদ পাঠের সংস্কৃতি

আসসালামু আলাইকুম, আশা করি রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের সকলে ভালো ও সুস্থ আছেন। রেডিও তেহরান বাংলা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইরান, ইরানের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুশাসন বিষয়ে নানা তথ্য আহরণের সুযোগ পাচ্ছি তার জন্যে প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের পর থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের এক বিরাট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

আমরা রেডিও তেহরানের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দরুদ পাঠের এক অনন্য সংস্কৃতি বিরাজ করছে এই দেশে। রাসূলের প্রতি ইরানিদের এই যে শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা- তা অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। ইরানের বড় বড় অফিস বা অন্যান্য দপ্তরগুলোতে প্রবেশপথের শুরুতেই বড় ফ্রেমে অথবা দরজায় সুন্দর ও সুস্পষ্ট করে লেখা থাকে দরুদ শরীফ। এর ফলে যে কোনো আগন্তুক ব্যক্তি প্রথমেই সেই অফিসে প্রবেশের সময়, এই লেখাটি নজরে পড়ে এবং সেই লেখার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করে; যার ফলে অন্তত একবার হলেও তিনি দরুদ পাঠ করতে পারেন।

এরকম উদাহরণ বিলবোর্ড, ওভারব্রিজসহ ইরানের সর্বত্রই চোখে পড়ে। রাসূল (সা.)-এর প্রতি ইরানিদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসার নিদর্শন একটি ইউনিক বিষয় বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। এই রকম অনন্য নজিরস্বরূপ এটি ইরানিরা তাদের ব্যবহারিক ও দৈনন্দিন জীবনের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বেছে নিয়েছেন। তাঁদের জীবনের সাথে রাসূল (সা.) অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

আরও একটা বিষয় বেশ মজার; সেটা হল, ইরানে প্রচুর রুটির দোকান আছে। যেখানে ছোট-বড় নানা মাপের সুদৃশ্য বিভিন্ন সাইজের রুটি বিক্রি হতে দেখা যায়। ইরানিরা এসব রুটি খেতে বেশ পছন্দ করে, সে রাত্রিবেলা দুপুরবেলা বা অন্য সময়েও। এসব রুটির দোকানে দোকানিরা, বিভিন্ন সময়ে তারা দরুদ পাঠের পরিবর্তে রুটি প্রদান করে থাকেন। বিশেষ বিশেষ দিন যেমন, আহলে বাইত (আ.) জন্ম বা মৃত্যু বা ইসলামের বিশেষ কোনো স্মরণীয় দিন ছাড়াও অন্য যে কোন সময়েও এই রীতিটি প্রচলিত। শুধুমাত্র একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্যে দরুদ পাঠের বিনিময়ে রুটি প্রদান করেন। এর জন্য তারা কোনো অর্থ নেন না। এটা অনন্য নজির যে, আপনি রুটির দোকানের সামনে একবার দরুদ পড়ে দিন রাসুলের শানে অমীয় বাণী আপনার ও আপনার আশেপাশের সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। দরুদ পাঠের এ এক অনন্য নজির।

দরুদ পাঠের এই সংস্কৃতি আমার মনে হয় বর্তমান বিশ্বের আর কোনো দেশে নেই। এ এক ইউনিক বৈশিষ্ট্য, যার প্রেক্ষিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর শানে দরুদের প্রবাহমানতা অক্ষুণ্ন রেখেছে। ইরানের বর্তমান প্রজন্ম এই সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। অথচ আমরা দূর থেকে কতই না ভুল প্রপাগান্ডার শিকার। আমরা চিন্তা করি, শিয়া অধ্যুষিত ইরানে নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে তেমন গুরুত্বই প্রদান করেন না! অথচ এটা ঠিক তার উল্টো।

এ বিষয়ে  ইসলামী চিন্তাবিদ আহমদ দীদাতের "ইরান : একটি জাতির পুনর্জন্ম" শীর্ষক ভাষণের একটা অংশ এখানে উল্লেখ না করে পারছি না। তিনি তার বক্তৃতায় বলেছেন, এভাবে যে,-

"....আমাদের সেই সফরে দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষ ছিল। আমি বিভিন্ন ধরণের বিকৃত মানসিকতার মানুষ দেখেছি। এক পাকিস্তানি আলেম, ‘মওলানা সাহেব’-এর সাথে দেখা হয়েছিল। তিনি বললেন যে এই শিয়াদের মাঝে বড় রকমের সমস্যা আছে। ইরানে যখন কেউ কোনো লেকচার দিতে থাকে, তখন প্রতিবার ‘খোমেইনী’ নামটা উচ্চারণ করার সাথে সাথে সব মানুষ থেমে যায় এবং রাসূলের উপর তিনবার দরুদ পড়ে। কিন্তু ‘মুহাম্মাদ’ নামটা উচ্চারণ করলে তারা দরুদ পড়ে একবার। নবীজির নাম উচ্চারিত হলে একবার দরুদ, আর ইমাম খোমেইনীর নাম উচ্চারিত হলে তিনবার দরূদ। তো, এই মৌলভি সাহেব বললেন: “দেখো এদের কারবার! কেমন মুসলমান এরা ? যখন মুহাম্মাদ (সা.) এর নাম উচ্চারণ করা হয় তারা মুহাম্মাদের উপর একবার দরুদ পাঠ করে, কিন্তু যখন খোমেইনী নামটা উচ্চারণ করা হয় তখন তারা "খোমেইনীর উপর তিনবার দরূপ পাঠ করে।" আমি মৌলভী সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলাম, “তারা কী বলে? এই যে "খোমেইনীর উপর দরূদ" সেখানে তারা কী বলে? এইযে "আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ, ওয়া আলি মুহাম্মাদ।" কে মুহাম্মাদ? খোমেইনী? কে তার নাম মুহাম্মাদ রাখলো? কল্পনা করতে পারেন তাদের মানসিক অসুস্থতা!"

এই হচ্ছে আমাদের মানসিক অসুস্থতা।

এর থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে, জানতে হবে প্রকৃত ঘটনা ও তার সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় দর্শনের দিক। আজ ইরানি জাতি আহলে বাইত (আ.) ও নবী মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতি যথার্থ সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তাদের মঞ্জিলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে শত বাধা-বিপত্তিকে উপেক্ষা করে। নবী (সা.) প্রেমের এ নজির অক্ষুণ্ন থাকুক কিয়ামত পর্যন্ত এবং আমরাও যেন তার শরিক হতে পারি এই কামনা করি।

 

শুভেচ্ছান্তে,

এস এম নাজিম উদ্দিন

পশ্চিম বঙ্গ, ভারত।

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৫