'রংধনু আসরে প্রচারিত রূপকথার গল্পটি শুনে হৃদয় ভরে গেল'
https://parstoday.ir/bn/news/letter-i110836-'রংধনু_আসরে_প্রচারিত_রূপকথার_গল্পটি_শুনে_হৃদয়_ভরে_গেল'
প্রিয় মহোদয়, প্রথমে আমার প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানবেন। আশা রাখি সবাই কুশলে আছেন। ১৪ জুলাই ২০২২ তারিখ সাপ্তাহিক আয়োজন রংধনু আসর শুনে খুব ভালো লাগল। এদিন এই আসরে একটি রূপকথার গল্প খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেন আক্তার জাহান দিদি ভাই এবং গাজী আব্দুর রশীদ ভাই। 
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুলাই ২১, ২০২২ ১৬:১৪ Asia/Dhaka
  • 'রংধনু আসরে প্রচারিত রূপকথার গল্পটি শুনে হৃদয় ভরে গেল'

প্রিয় মহোদয়, প্রথমে আমার প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানবেন। আশা রাখি সবাই কুশলে আছেন। ১৪ জুলাই ২০২২ তারিখ সাপ্তাহিক আয়োজন রংধনু আসর শুনে খুব ভালো লাগল। এদিন এই আসরে একটি রূপকথার গল্প খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেন আক্তার জাহান দিদি ভাই এবং গাজী আব্দুর রশীদ ভাই। 

রূপকথার গল্পটি ছিল এরকম- সাত নেকড়ে সাত যুবকের সাজে সাত বোনের বাড়িতে এসে বলল আমাদের গরু হারিয়ে গেছে। গরু খুঁজতে খুঁজতে রাত হয়ে গেছে, রাতটা তোমাদের বাড়িতে কাটাতে চাই। প্রথমে সাত বোন সাত যুবককে দেখে অবাক হয়ে গেল। সাত বোন বলল বাবা-মা বাইরে গেছে তাই আমাদের বাড়িতে থাকতে দিতে পারব না। তখন নেকড়েরা বলল- ঠিক আছে একটু বিশ্রাম তো নিতে পারি। সাত বোন বললেন- তা নিতে পারেন। অতিথিদের আপ্যায়ন করতে হবে। তাই বড় বোন (এক নাম্বার) বসতে দিতে গিয়ে দেখে অতিথিদের প্রত্যেকের পিছনে লেজ গোটানো অবস্থায় আছে। তাই দেখে ভয়ে কাউকে কিছু না বলে পিছন দরজা দিয়ে পালিয়ে গেল। দুই নাম্বার বোন অতিথিদের জলের গ্লাস হাতে দিতে গিয়ে দেখে হাতে বড় বড় নখ। তাই দেখে সেও কাউকে কিছু না বলে ভয়ে পিছন দরজা দিয়ে পালিয়ে গেল। তিন নাম্বার বোন অতিথিকে পা ধুতে পানির গামলা এগিয়ে দিতে গিয়ে দেখে অতিথিদের পায়ে বড় বড় নখ। তাই দেখে কাউকে কিছু না বলে সেও পিছন দরজা দিয়ে পালিয়ে গেল।

এরপর চার নাম্বার বোন অতিথিদের চালের পিঠে খেতে দিতে যাবে দেওয়ার আগেই সব পিঠেপুলিগুলো হাত থেকে পরে গেল। ভাবতে লাগল সেও পালিয়ে যাবে। কিন্তু পালিয়ে না গিয়ে সে পিঠেপুলিগুলো কুড়িয়ে নিয়ে এক কোনে চুপ করে বসে চরকায় সুতো কাটতে লাগল। ছোটো বোন তিনটি বলল ওরা মানুষ নয়, ওরা নেকড়ে। ওরা আমাদের খেয়ে ফেলবে। চার বোনে একজোট হয়ে এক মতলব বের করল।

বড় তিন বোন ফিরে আসার অপেক্ষায় অতিথিদের আগুনের পাশে বসতে বলে ছোটো চার বোনের একজন কাঠ আনার জন্য উপরে চলে গেল। উপরে গিয়ে বলল এতগুলো কাঠ আমি একা একা নিয়ে যেতে পারব না। কাঠ নিয়ে আসার ভান করে একে একে ছোটো তিন বোন উপরে গিয়ে একটা ঘরের মধ্যে দরজায় খিল এটে থাকল।

এদিকে অতিথিরা (নেকড়ে) ভাবে কাঠ আনতে গেল, এখনো কেন ফিরে আসে না। একজন উপরে গিয়ে দেখে  চার বোনে একজোট হয়ে দরজায় শক্ত করে খিল এটে ঘরের ভিতরে রয়েছে। তারপর একে একে সব নেকড়েরা উপরে উঠে গিয়ে এই অবস্থা দেখে দরজায় ঠকঠক করল কিন্তু কিছুতেই ছোটো চার বোন দরজা খুলে দিল না। ছোটো বোনদের না পেলেও বড় বোনদের অনায়াসেই পেয়ে গেল। যে তিন বোন পালিয়ে ছিল, তারা কেউ টিনের ভিতর, কেউ গাছে লুকিয়ে ছিল নেকড়ে তাদের কারো কান, কারো পিঠ এবং কারো পা কামড়ে নিল। বড় তিন বোন স্বার্থপরতার জন্য নিজেদের ক্ষতি করল আর ছোট চার বোন এক জোট বেঁধে নিজেদের রক্ষা করল। 

একটি অসাধারণ শিক্ষণীয় গল্প যা শুনে হৃদয় ভরে গেল। পরিবারের সবাইকে নিয়ে দারুণ উপভোগ করলাম। শেষে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার ছোট্ট সোনামনী তানি-মুনির গাওয়া গানটিও খুব ভালো লেগেছে। শ্রদ্ধেয় আশরাফুর রহমান ভাইকে অশেষ ধন্যবাদ সুন্দর অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার জন্য। এছাড়াও এদিনের সবগুলো আয়োজন বিশ্বসংবাদ, দৃষ্টিপাত, কথাবার্তা শুনেছি।

সবশেষে রেডিও তেহরান বাংলা অনুষ্ঠানের সকল কলাকুশলী এবং শ্রোতা বন্ধুদের অভিনন্দন জানাই। রেডিও তেহরান বাংলা অনুষ্ঠান দীর্ঘস্থায়ী হোক- এই প্রত্যাশা রাখি। 

 

মনীষা রায়

মেখলিগঞ্জ, কোচবিহার

পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। 

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।