শ্রোতাদের মতামত
'প্রকৃত সত্য চাপা পড়ে যায় বিজ্ঞাপনে, বস্তুনিষ্ঠতা পাই রেডিও তেহরানে'
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বৈপ্লবিক যুগে দৈনন্দিন জীবনে সংবাদমাধ্যমের গুরুত্ব এখনও দীপ্তিমান। সংবাদমাধ্যমের অন্যতম মাধ্যম ছিল বেতার বা রেডিও, পরে সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন আসে। সকাল সন্ধ্যায় সংবাদ পেতে আকাশবাণী, দুপুরে মনোরঞ্জনে বাংলাদেশ বেতার বাজতো অনেক বাড়িতে ও পাড়ার দোকানে দোকানে। সেখানে এখন অধিকারস্থাপন করেছে রঙিন টেলিভিশন।
একটু বেশি জ্ঞানপিপাসু তথা জিজ্ঞাসুপ্রবণরা সন্ধ্যার পর শর্টওয়েবে আন্তর্জাতিক বেতারের বাংলা অনুষ্ঠানে দু'কান পাততেন। তার মধ্যে অবশ্যই 'রেডিও তেহরান' তালিকায় থাকতো। বিশ্বকে ধারনায় আনতে 'বিশ্ব সংবাদ'ই একমাত্র ভরসা। এখন কিছু কিছু সংবাদপত্র 'বিশ্ব জাহান'-এর সংবাদ ছাপছে বটে। তবুও, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের খোঁজে সেই দু কান পাততেই হয় 'রেডিও তেহরান'-এর বাংলা অনুষ্ঠানে। কারণ, অনেক খবরের কাগজ তথা সংবাদমাধ্যম পক্ষপাতিত্ব বা নিজেদের ভালো লাগা বিষয়গুলো রাখার প্রবণতা দেখায়। তাতে করে পাঠকের তথা আমাদের মুক্ত চিন্তা-ভাবনার ওপর যেন ওই সংবাদপত্র বা গোষ্ঠীর মনোভাব একরকম জোর করে চাপিয়ে বা ছাপিয়ে দেওয়ায় উপক্রম দেখা দেয়। সেখানেই 'রেডিও তেহরান'-এর বাংলা অনুষ্ঠান অনেকটাই স্বস্তি দেয়।
অনেক সংবাদপত্র তথা সংবাদমাধ্যম নিজেদের কথা বলছে, কেউ কারো পক্ষ নিচ্ছে প্রকাশ্যে বা প্রচ্ছন্নভাবে। অনেকাংশেই এসবের বেশকিছু প্রতিবেদকেরা নিজেদের (নিজের, আত্মীয় ও পরিচিতদের) সংবাদ অনুনাদের সাথে করে থাকছেন। তুলনামূলকভাবে পাশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভালো খবরও বাদ দিয়ে দেন, পাশে নিজের অনুকম্পনে কোনোরূপ বাধা না পড়ে যায়! তাদের রাজনৈতিক প্রতিবেদনগুলো দেখলে অনেক সময়ই একপেশেই মনে হবে। যেন বিজ্ঞাপন অথবা প্রচার!
যখন অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে একরকমভাবে খবর হলে, সেই বিষয়েই কয়েকটি সংবাদপত্র অযথা যুক্তি খাঁড়া করে কোল টেনে কালোকে সাদা দেখাতে তৎপর হয়ে ওঠে, কেউ কেউ একরকম মরিয়ে হয়ে ওঠে যেন নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থের স্বার্থে। অনেকাংশে প্রতিবেদক তথা সম্পাদকের কলম যেন শাসকের সুতোতে নিবদ্ধ মনেহয়। বিজ্ঞাপনইতো এসব (তথা সকল) সংবাদমাধ্যমের মূল চালিকা শক্তি, বলাইবাহুল্য যার সিংহভাগই আসে শাসক দল ও প্রশাসক থেকে। সুতরাং, চুপ। যেন প্রকৃত সত্য চাপা পড়ে যায় বিজ্ঞাপনে। তখনই মনে পড়ে ইসলামিক রাষ্ট্র সুদূর 'ইরান' থেকে সম্প্রচারিত 'রেডিও তেহরান'-এর বাংলা কথা, সেটা যে বেশ নির্ভীক হবে এটাই স্বভাবিক। তাই অনেকের এখনও ভরসা এই বেতার ফ্রিকোয়েন্সি, যেটা বর্তমানে পরিবর্তিত হয়েছে। যারা সংবাদ জানতে অগ্রহী তথা বিশ্বের খবরাখবর জানতে প্রবল ইচ্ছুক তাদেরকে অবশ্যই নিজের মাতৃভাষায় 'রেডিও তেহরান' শুনতে হবে।
এখন প্রথাগত রেডিও ছাড়াও ইন্টারনেটে রেডিও শোনা যাচ্ছে। ফলে একটি স্মার্টফোন আর তাতে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই যথেষ্ট, সময়মতো ওয়েবসাইট ভিজিট করে বিকল্প বাছলে যে কোনো স্থানেই 'রেডিও তেহরান' বেজে উঠবে। উঠছেও। তাই 'রেডিও তেহরান'-এর বাংলা অনুষ্ঠান যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতেই থাকে সবসময় ভবিষ্যতের দিকে এই কামনা, মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া আর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন রইল।
হামিম হোসেন মণ্ডল (বুলবুল)
গ্রাম ও ডাকঘর: ঝাউবনা
থানা: নওদা, জেলা: মুর্শিদাবাদ,
পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।