প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা
'পৃথিবীকে জানার জন্য রেডিও তেহরান ও পার্সটুডে আমার বিশ্বস্ত সঙ্গী'
‘আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব বাংলাদেশ'-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিজয়ী হয়েছেন ৯ জন। বিজয়ীদের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের গুরুত্বপূর্ণ লেখাগুলো পার্সটুডেতে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে। আজ প্রকাশিত হলো বাংলাদেশের রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার প্রতিযোগী খন্দকার রাবিবা ইয়াসমিনের লেখা।
রেডিও তেহরানের সাথে আমার আনন্দময় পথচলা শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে ইরান বিষয়ক প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে। তখনও আমি রেডিও তেহরানের শ্রোতা ছিলাম না। কিন্তু প্রতিযোগিতার ফলাফল জানার জন্য ওয়েবসাইট ও ফ্যান গ্রুপগুলোয় নিয়মিত যেতাম। সেখানে অসংখ্য বেতার শ্রোতার মুগ্ধতা আমাকে রেডিও তেহরান সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলে। এরপর একদিন এলো সেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল। প্রতিযোগিতায় আমি পেলাম প্রথম স্থান!
পুরস্কারের অনুপ্রেরণা আমাকে অন্যান্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করল। শোনা শুরু করলাম রেডিও তেহরান। এখানে সকল বয়সী মানুষের জন্য অনেক সুন্দর সুন্দর প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যা আমার জন্য চমকপ্রদ বিষয়। কোন বেতার চ্যানেলে এই ধরনের প্রতিযোগিতা নিয়মিত হয় বলে শুনিনি। রচনা, চিঠি লেখা, কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে সবার জ্ঞানের বিকাশ ঘটে। একইসাথে বাড়ে শ্রোতা, যা তাদের উৎসাহিত করে মাসিক-বাৎসরিক শ্রেষ্ঠ শ্রোতা নির্বাচিত হওয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টায়।
রেডিও তেহরান শুধুমাত্র একটি বেতার চ্যানেল নয়, বরং বৃহত্তর অর্থে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। এখানে বাংলা অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮২ সালের ১৭ই এপ্রিল। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি মহতী উদ্যোগ হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়, যা খুব অল্প সময়ে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছে। যুগের আধুনিকায়নে প্রযুক্তির নব নব উদ্ভাবন ঘটেছে। এসেছে আধুনিক যোগাযোগের নানা পদ্ধতি। কিন্তু যুগের সাথে তালমিলিয়ে রেডিও তেহরান কোন অংশেই পিছিয়ে রইল না। রেডিও স্টেশনকে আরো উন্নত করতে ও সারা বিশ্বের মাঝে পৌঁছে দিতে অনলাইন সংস্করণ চালু করে। ফলে রেডিও সেট না থাকলেও যে কেউ খুব সহজে রেডিও তেহরানের সাথে যুক্ত হতে পারছে। এরই ধারাবাহিকতায় পার্সটুডে নেটওয়ার্ক-এর যাত্রা শুরু হয় ২০১৬ সাল থেকে। এটিও খুব অল্প সময়ে মানুষের আস্থার জায়গায় পরিণত হয়।
তথ্য বিকৃতির এই যুগে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পাওয়া যেন অমাবস্যার চাঁদ। যার যতো দক্ষতা, সে ততো নিখুঁতভাবে সংবাদের বিকৃতি সাধন করে মানবতার ক্ষতি সাধন করছে। তবে ব্যতিক্রম হলো রেডিও তেহরান। এখানে সঠিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। তাই পৃথিবীকে জানার জন্য রেডিও তেহরান ও পার্সটুডে আমার বিশ্বস্ত সঙ্গী। বৈশ্বিক ত্রাস মোকাবেলায় ভয়ে ভীত না হয়ে দুরন্ত সাহসে এগিয়ে যাচ্ছে রেডিও তেহরান। এই কারণেই রেডিও তেহরানের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
শুধু বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ নয় বরং বিভিন্ন দেশের বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে বেতার চ্যানেলটি একটি পরিচিত নাম।
দূর-দূরান্তের মানুষ অনলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রেডিও তেহেরানের প্রতি যেই ভালোবাসা দেখি তা সত্যিই বিরল। চিঠিপত্রের অনুষ্ঠানে শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা আর শুভবার্তা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। আমার সব থেকে প্রিয় অনুষ্ঠান হচ্ছে রংধনুর আসর। শিশুদের বিভিন্ন রকম শিক্ষণীয় জ্ঞান দেওয়া হয়ে থাকে, যা ছোটবেলার স্মৃতিকে জাগ্রত করে বারবার। এছাড়াও কোরআনের আলো, স্বাস্থ্যকথা, দৃষ্টিপাত, কথাবার্তা, নারী বিষয়ক অনুষ্ঠান ইত্যাদি আমার খুবই ভালো লাগে। বিশেষ করে দৃষ্টিপাত অনুষ্ঠানে ঢাকা ও কোলকাতা থেকে পাঠানো ভাষ্যকারদের বিশ্লেষণ অত্যন্ত তথ্যবহুল এবং মনোগ্রাহী হয়ে থাকে। এর ফলে আমরা বিশ্বকে জানার ও বোঝার পরিশীলিত জ্ঞানচক্ষু লাভ করি।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে তারা রেডিও তেহরানের মতো এতো বহুভাষিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। রেডিও তেহরানের একজন শ্রোতা হিসেবে নিজেকে অনেক গর্বিত মনে করি। আমি এর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।
লেখক:
খন্দকার রাবিবা ইয়াসমিন
পেশাঃ শিক্ষক
মহল্লাঃ পাঠানপাড়া থানাঃ বোয়ালিয়া
জেলা: রাজশাহী, বাংলাদেশ।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।