যেসব কারণে কোটি বাঙালির হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে রেডিও তেহরান
রেডিও তেহরানের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে 'আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব বাংলাদেশ' আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের লেখাগুলো পার্সটুডে ডটকমে প্রকাশ শুরু হয়েছে। বিজয়ী ১২ জনের পাশাপাশি মানসম্মত সবার লেখা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে। আজ প্রকাশিত হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শ্রোতা তরুণ মৈত্র'র লেখা।
গণমাধ্যম হচ্ছে সংগৃহীত সকল ধরনের মাধ্যম, যা প্রযুক্তিগতভাবে গণযোগাযোগ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সম্প্রচার মাধ্যম যা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া নামে পরিচিত, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে তাদের তথ্যাবলী প্রেরণ করে। বেতার, অন্যান্য সুবিধাজনক ছোট ও সহায়ক যন্ত্রপাতি যেমন: ক্যামেরা বা ভিডিওচিত্রের সাহায্যে ধারণ করা হয়।
একজন শ্রোতা হিসেবে রেডিও তেহরানের ভূমিকা বিশ্বের অন্যান্য বেতার থেকে অনেক সামনে এগিয়ে রাখি। একটি গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম হিসেবে রেডিও তেহরানের ভূমিকাগুলো সংক্ষেপে আলোচনা করা হল-
(১) সংবাদ পরিবেশন: সংবাদ মূল কাজ হল সংবাদ পরিবেশন করা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে আকর্ষণীয়ভাবে পরিবেশন করে সংবাদ রেডিও তেহরান।
(২) সামাজিক চেতনার জাগরণ: এ বেতারের অনুষ্ঠান শ্রোতা/পাঠকদের মধ্যে সামাজিক চেতনা জাগিয়ে তোলে। সংবাদ বা তথ্যগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য উৎস এবং ছবিসহ সংবাদ পরিবেশন করা হয়।
(৩) জনমত গঠন: সংবাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হল জনমত গঠন করা। রেডিও তেহরানের সংবাদ থেকে মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে সঠিক ধারণা লাভ করে। আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে কিন্তু রেডিও তেহরান সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করে জনমত গঠন ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
(৪) মানসিক বিকাশে সহায়তা: রেডিও তেহরানের বিভিন্ন অনুষ্ঠান যেমন-আদর্শ মানুষ গড়ার কৌশল, স্বাস্থ্যকথা, গল্প ও প্রবাদের গল্প, রংধনু আসর শ্রোতাদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। অল্প বয়স থেকে ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত অনুষ্ঠান শুনলে তাদের জ্ঞানের পরিধি যেমন বাড়ে, তেমনি তাদের মনেরও বিকাশ ঘটে।
(৫) আচার-আচরণ পরিবর্তনে সহায়তা: এ বেতারের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো যেমন- কুরআনের আলো, আসমাউল হুসনা, প্রাচ্যবিদদের চোখে মহানবী ইত্যাদি পাঠক-শ্রোতাদের আচরণের পরিবর্তন ঘটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
৬) ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার: ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থার অধীনস্থ রেডিও তেহরান বাংলা বিভিন্ন ইস্যুতে ইরান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। ইরান ভ্রমণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে শ্রোতাদের পরিচয় করিয়ে দেয়। এছাড়া, ইরানের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি, ঐতিহাসিক এবং শিক্ষামূলক লেখাগুলো জ্ঞানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে।
(৭) দুই বাংলার সেতু বন্ধন: রেডিও তেহরান শুধু যে অনুষ্ঠান প্রচার করে তাই নয়, বরং দুই বাংলার মানুষের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করে। দুই বাংলার কৃষ্টি-কালচার তুলে ধরে কোটি কোটি বাঙালি হৃদয়ের মনিকোঠায় স্থান দখল করেছে রেডিও তেহরান। সময়ের সাথে তালমিলিয়ে প্রতিটি বাঙালির দুয়ারে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে এ বেতারটি।
(৮) শ্রোতাবান্ধব কর্মকাণ্ড: আট থেকে আশি বছর পর্যন্ত সবার পছন্দের গণমাধ্যম হলো রেডিও তেহরান। শ্রোতাদের উৎসাহ বৃদ্ধির জন্য কুইজ প্রতিযোগিতা, শ্রেষ্ঠ শ্রোতা পুরস্কার, সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং তা প্রিয়জনে তুলে ধরা, শ্রোতাদের গুরুত্বপূর্ণ চিঠিগুলো ওয়েবসাইটে তুলে ধরা- এ বেতারের ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য। এমন বেতার পেয়ে শ্রোতারা সত্যিই গর্বিত।
রেডিও তেহরান এই বছর ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জানাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। কোটি বাঙালির হৃদয়ে অবস্থান নেয়া এ বেতারটি আগামী প্রজন্মের জন্য সঠিক দিশা দেবে এবং হিংসামুক্ত সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে- এটাই বিশ্বাস করি।
তরুণ মৈত্র
ইসলামপুর, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।