‘তেহরান শ্রোতাদেরকে দেশপ্রেমিক, সত্যবাদী ও চরিত্রবান হতে শেখায়’
রেডিও তেহরানের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে 'আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব বাংলাদেশ' আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পাশাপাশি মানসম্মত লেখাগুলো ধারাবাহিকভাবে পার্সটুডে ডটকমে প্রকাশিত হচ্ছে। আজ প্রকাশিত হলো বাংলাদেশের ঝিনাইদহের শ্রোতাবন্ধু মো: নজরুল ইসলামের লেখা।
গণমাধ্যম হলো প্রচার মাধ্যম। বর্তমান পৃথিবীতে সহজলভ্য ও সুপ্রাচীন গণমাধ্যম হলো রেডিও। তারবিহীন এই মাধ্যমটির গ্রহণযোগ্যতার মাত্রা এখন ও কম নয় যার প্রমাণ পাওয়া যায় রেডিওতে প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে।
রেডি তেহরানের ঐতিহাসিক অবদান প্রমাণিত। এই মাধ্যমটি জনগনের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে দেশে বিদেশের নানা খবর, বিজ্ঞানের নতুন নতুন তথ্য, বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান। শ্রোতাদের বয়স ও চাহিদা দিকে লক্ষ্য করে অনুষ্ঠানসূচি তৈরি করছে তাঁরা। আকৃষ্ট করা অনুষ্ঠানের মধ্য রয়েছে প্রিয়জন ও দর্পন, সাথে সাথে স্বাস্থ্যকথা, রংধনু আসর, আলাপন, পাশ্চাত্যে জীবন ব্যবস্থা, কুরআনের আলো। ধর্মীয় মূল্যবোধ, সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়নতা, ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি লক্ষ্যে রেডিও তেহরান অনুষ্ঠান প্রচার করে। এটা অন্য বেতারগুলোকে পেছনে ফেলে বস্তনিষ্ঠ সংবাদ ও অনুষ্ঠানে সঠিক তথ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে। এর সংগ্রামী কণ্ঠস্বর, মনন, প্রজ্ঞা, জ্ঞানগর্ভ প্রতিবেদন, মানব কল্যাণমূলক তথ্য নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিশ্বকে আলোর পথের সন্ধান দিতে সক্ষম হয়েছে।
হলুদ সাংবাদিকতা, প্রতিবেদকের এক পেশে মনোভাব, রাজনৈতিক চাপ ও পরিবেশের প্রভাবের কারণে একটা গণমাধ্যম শ্রোতা তথা বিশ্বকে বিভ্রান্তির ধুম্রজালে নিপতিত করতে পারে। সেই বিচারে রেডিও তেহরান তার ব্যতিক্রম। এটা বিমাতাসুলভ আচরণ ত্যাগ করে, জীবন গড়ার মানসে, কুরআন-হাদীসের তথ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে জাতি গঠনে এক অনন্য অবদান রেখে চলেছে।
আধুনিক গণমাধ্যমের ব্যাপকতায় রেডিও আজ বিলুপ্তির পথে। যুগের প্রয়োজনে, শ্রোতাদের চাহিদার প্রেক্ষিতে রেডিও তেহরান ফেসবুক, ইউটিউব ও অনলাইনে অনুষ্ঠান প্রচার করছে। সাথে সাথে দরিদ্র ও গ্রামাঞ্চলের শ্রোতাদের জন্য শর্টওয়েভ-এ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। ফলে সব ধরনের শ্রোতারাই সমানভাবে উপকৃত হচ্ছে। অধিকাংশ বেতারই প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান ও অনুষ্ঠানের সময়সীমা কমিয়েছে। রেডিও তেহরান কিন্তু তার বিপরীত অবস্থান। তাই শ্রোতাদের তথা আমার বিচারে রেডিও তেহরান পরিপূর্ণ।
যখন স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো পশ্চিমা সংস্কৃতি প্রচার করে আধুনিকতার নামে জনগণকে বিপথে নিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করছে, ঠিক তখনই রেডিও তেহরান জনগণের কল্যাণে, মূল্যবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে অনুষ্ঠান প্রচার করে নতুন প্রজন্মকে সুপথে আনছে। সমাজের অসঙ্গতিগুলো ধরিয়ে দিয়ে নৈতিক অধঃপতন ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে জাতিকে রক্ষা করছে।
বিশ্বে আজ জাতিতে জাতিতে যুদ্ধ, খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ, অসম প্রতিযোগিতা লেগেই আছে। এই অসঙ্গতিকে পেছনে ফেলে, জনগণকে এক প্লাটফর্মে আনার প্রয়াসে, পৃথিবীকে বাসযোগ্য করার লক্ষ্যে, হিংসা বিদ্বেষ ভুলিয়ে, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টির মানসে কুরআন-হাদীসের আলোকে অনুষ্ঠান প্রচার করে যাচ্ছে রেডিও তেহরান। শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি ও ধর্মীয় বিষয়াদি অনুষ্ঠানে সন্নিবেষ্টিত থাকে বিধায় শ্রোতারা নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে। তেহরান শ্রোতাদেরকে দেশপ্রেমিক, সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ ও চরিত্রবান হতে শেখায়। ফলে তারা সঠিকভাবে ন্যায় অন্যায় ও উচিত অনুচিতের পার্থক্য বুঝে দেশ পরিচালনা করতে পারে।
রেডিও তেহরান সমাজ রাষ্ট্র তথা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উল্লেখযোগ্য গণমাধ্যম হিসেবে সমাদৃত। সমাজ, জাতি তথা বিশ্বকে বাসযোগ্য করার প্রয়াস নিয়ে, বাতিল শক্তির বিরুদ্ধে তার সংগ্রামী কণ্ঠস্বর দিয়ে প্রতিকুল পরিবেশে যেভাবে সঠিকভাবে অনুষ্ঠান করে যাচ্ছে, এগিয়ে যাচ্ছে বিজয় পতাকার দিকে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে বিশ্ববাসী। দেশ জাতি ও বিশ্বের এই ক্রান্তিলগ্নে রেডিও তেহরান আরও সহনশীল, বুদ্ধিদীপ্ত মেধার বহিঃপ্রকাশ, জ্ঞানগর্ভ অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে ভবিষ্যত প্রজন্মকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়ে বেঁচে থাকুক শ্রোতাদের মনের মনিকোঠায়- আজীবন এই প্রত্যাশায়।
মো: নজরুল ইসলাম
সভাপতি, বন্ধন এন্ড লাকী শ্রোতাসংঘ
পো: মহেশপুর-৭৩৪০, জেলা: ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।