আমেরিকা ও ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষাই যেখানে মুখ্য বিষয়
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i110274-আমেরিকা_ও_ইসরাইলের_স্বার্থ_রক্ষাই_যেখানে_মুখ্য_বিষয়
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আসন্ন অধিকৃত ফিলিস্তিন এবং সৌদি আরব সফর নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
(last modified 2026-03-14T14:53:49+00:00 )
জুলাই ০৭, ২০২২ ১৯:১২ Asia/Dhaka
  • আমেরিকা ও ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষাই যেখানে মুখ্য বিষয়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আসন্ন অধিকৃত ফিলিস্তিন এবং সৌদি আরব সফর নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এই অঞ্চলের কিছু আরব ও মুসলিম রাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারী এবং বাস্তবায়নকারীরা এই নয়া সম্পর্কের প্রক্রিয়াকে আব্রাহাম চুক্তির কাঠামোর আওতায় একটি চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করছেন।   

এই প্রচেষ্টা অবলম্বন করার কারণ হল নতুনভাবে সমঝোতা শুরুর আগে ২০০০ সালে বৈরুত বৈঠকে আরব নেতাদের মাধ্যমে অনুমোদিত পরিকল্পনা যা সৌদি আরবের তৎকালীন যুবরাজ আমির আবদুল্লাহ প্রস্তাব করেছিলেন সেখানে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের শর্ত হিসেবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৪২ এবং ৩৩৮ প্রস্তাব অনুযায়ী বায়তুল মোকাদ্দাস বা আল কুদসকে রাজধানী করে একটি একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সেখানে অধিকৃত ফিলিস্তিন এলাকা থেকে ইহুদিবাদী শাসক গোষ্ঠীকে সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু নতুন দফা সমঝোতা শুরু হয় ট্রাম্প যুগের শেষের দিকে এবং ঠিক তার পরেই ইসরায়েল আরব রাষ্ট্রগুলোর এসব প্রস্তাব কেবল অগ্রাহ্যই করে নি বরং ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থনে সিরিয়ার অধিকৃত গোলান ভূমিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখন্ডের সাথে সংযুক্ত করে নেয় । একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার নিয়ম নীতি লঙ্ঘন করে তার দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেম আল কুদসে স্থানান্তর করার মাধ্যমে কার্যত ইহুদিবাদী ইসরাইলের শাসক গোষ্ঠীর পক্ষ অবলম্বন করে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন দফার সমঝোতার বৈধতা এবং গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠায় আব্রাহাম চুক্তি নামে একটি শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা হচ্ছে যাতে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আরব ও মুসলিম সমাজে ইতিবাচক জনমত তৈরি হয়। কিন্তু বর্তামান অবস্থা সৌদি আরবের জন্য কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। প্রকৃতপক্ষে সৌদি আরব আতঙ্কে আছে যে এর জন্য তাকে হয়ত চরম মূল্য দিতে হতে পারে। এই কারণে দেশটি গোপনে ইহুদিবাদী শাসক গোষ্ঠীর সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে সব ধরণের সম্পর্ক এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখা সত্ত্বেও তা প্রকাশ করতে তাকে অত্যন্ত সতর্ককতার আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

তবে পশ্চিম এশিয়ায় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আসন্ন সফরেই রিয়াদ এবং তেল আবিবের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ করতে ইহদিবাদী ইসরাইল ব্যাপক জোর তৎপরতা শুরু করেছে। তেল আবিব শাসক গোষ্ঠী অত্যন্ত সুক্ষ চাতুরতার মাধ্যমে রিয়াদ সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করছে তারা যেনো ইসরাইলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ করে দেয় তাহলে মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে ভবিষ্যতে এগিয়ে আসবে।#

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।