দায়েশ সন্ত্রাসীদের পতনে ইরাকি গণবাহিনীর সাফল্যে ক্ষুব্ধ সৌদি আরব
ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সিস্তানির প্রতিনিধি আব্দুল মাহদি আল কারবালাই এক বিবৃতিতে দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত স্বেচ্ছাসেবী হাসত আল শাআবির যোদ্ধাদের ভূয়সী প্রশংসা করে তাদেরকে সেদেশের জন্য গর্ব হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আল আনবার প্রদেশকে দায়েশ সন্ত্রাসীদের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বহু বেসামরিক মানুষজন ও উপজাতি জনগোষ্ঠী স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীতে যোগ দিয়েছে।
আয়াতুল্লাহ সিস্তানির এই প্রতিনিধি তার বিবৃতিতে আরো বলেছেন, মাতৃভূমি উদ্ধারের জন্য যুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। তবে একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের দখলীকৃত ফালুজা এলাকা উদ্ধারের সময় সাধারণ মানুষের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালের ১০ জুন দায়েশ সন্ত্রাসীদের হাতে মসুল শহর পতনের পর ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া আলেম আয়াতুল্লাহ সিস্তানির নির্দেশে হাশত আল শাআবি নামের ওই স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী গঠন করা হয়েছিল। মসুল শহর দখলের পরপরই সন্ত্রাসীরা রাজধানী বাগদাদ দখলের পরিকল্পনা করেছিল। এ কারণে আয়াতুল্লাহ সিস্তানির আহবানে গঠিত গণবাহিনী এখনো দায়েশ বিরোধী যুদ্ধে সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করছে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরাকের বিভিন্ন গ্রুপের সদস্যদের নিয়ে হাশত আল শাআবি স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী গঠন করা হয়েছে। অনেকের মতে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরাকের জনগণ বিশেষ করে যুবকরাও এগিয়ে আসায় সেনাবাহিনীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এর ফলে তারা বহু এলাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। উত্তরের অমেরলি, পশ্চিমের রামাদি এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলের আরো বহু শহর মুক্ত করার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবী হাশত আল শাআবি’র যোদ্ধাদের বিরাট ভূমিকা ছিল। উপজাতি সুন্নি মুসলিম সম্প্রদায়ও দায়েশের হাত থেকে ফালুজা মুক্ত করার অভিযানে অংশ নিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, সেনাবাহিনী ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কারণেই দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অনেক সাফল্য এসেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সুন্নি মুসলিম অধ্যুষিত ফালুজা এলাকা মুক্ত করার জন্য আয়াতুল্লাহ সিস্তানির ভূমিকায় প্রমাণিত হয়েছে শিয়া মুসলমানরা জাতিগত, ধর্মীয় কিংবা মাজহাবগত মতবিশ্বাসের অনেক ঊর্ধ্বে। হাশত আল শাআবির নেতৃত্বে চলমান যুদ্ধই এর বড় প্রমাণ। ইরাক একটি স্বাধীন দেশ এবং ঐকমতের সরকার রয়েছে। এ ছাড়া, ইরাকের সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষই অন্য সব কিছুর চাইতে জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেয়।
ইরাকের হাশত আল শাআবি সব ধর্ম গোত্রের ঊর্ধ্বে উঠে দায়েশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যাপক সাফল্যের পরিচয় দেয়ায় অখণ্ড ইরাকের শত্রুরা ভীষণ ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েছে। সৌদি আরবসহ ইরাকের অন্যান্য শত্রু দেশ এটা প্রমাণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে যে, ইরাকের স্বেচ্ছাসেবী বা গণবাহিনী ইরান সমর্থক একটি গোষ্ঠী। ফালুজায় ইরানের ভূমিকা নিয়ে বাগদাদে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত সামের আল সোবহানের বক্তব্যে বোঝা যায়, দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ইরাকি জনগণের বিজয়ে রিয়াদ ক্ষুব্ধ হয়েছে। ফালুজা ও মসুলের পতনে সৌদি আরবের সরাসরি ভূমিকা ছিল। এ কারণে সৌদি রাষ্ট্রদূত ইরাকের হাশত আল শাআবি স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর অভিযানে ফালুজায় দায়েশ সন্ত্রাসীদের সম্ভাব্য পরাজয়ের বিষয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
সৌদি কর্মকর্তারা এখন ইরানের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলার পাশাপাশি ইরাকিদের মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টির জন্য নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। অথচ ইরান কেবল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরাককে সহযোগিতা করছে। কিন্তু সৌদি আরব দায়েশ সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা দিয়ে ইরাকি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।#
পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/৪