হলোকাস্ট যদি ইহুদিদের ওপর চালানো হয়েও থাকে তা করেছে পশ্চিমারাই
ইসরাইলের ৫০টি হলোকাস্ট সম্পর্কে আব্বাস ও পাশ্চাত্যের ভণ্ড চেহারার পুনঃপ্রকাশ!
-
ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস
ইহুদিবাদী ইসরাইল ১৯৪৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনের ৫০টি অঞ্চলে ৫০টি হলোকাস্ট ঘটিয়েছে বলে ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস মন্তব্য করায় জার্মান পুলিশ এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
বিচার বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসার পর জার্মান পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে বলে ঘোষণা করেছে।
৫০ বছর আগে বিশ্ব অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ইসরাইলি খেলোয়াড়দের ওপর ফিলিস্তিনি গেরিলাদের পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাবেন কিনা- জার্মানিতে একজন সাংবাদিকে এমন প্রশ্নের উত্তরে আব্বাস ওই মন্তব্য করেন। জার্মান ভাইস চ্যান্সেলর উলফ্ শুলজ্ও ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। যৌথ ওই সংবাদ সম্মেলনে শুলজ্ এ বিষয়ে কিছু না বললেও পরে আব্বাসের ওই মন্তব্যকে দারুণ বিরক্তিকর বা ঘৃণাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেছেন।
ইহুদিবাদী ইসরাইল মাহমুদ আব্বাসের এই বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
হলোকাস্ট বলতে আভিধানিক অর্থে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ বা গণহত্যাকে বোঝালেও পাশ্চাত্য এই পরিভাষার মাধ্যমে গত প্রায় পৌনে এক শতক ধরে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জার্মান নাৎসি বাহিনীর হাতে ইহুদিদের ওপর পরিচালিত তথাকথিত ব্যাপক গণহত্যাকেই বুঝিয়ে থাকে।
জার্মান সরকার ও পুলিশের এ ধরনের আচরণ বাক-স্বাধীনতার ব্যাপারে আবারও পাশ্চাত্যের দ্বিমুখী নীতি বা ভণ্ড চেহারাই তুলে ধরেছে। পাশ্চাত্যের দৃষ্টিতে মুসলমানদের পবিত্রতার বিষয়গুলো ও শ্রদ্ধার অনুভূতিকে কোনো গুরুত্ব না দিয়েই ইসলামের মহানবীর (সা) অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশ বাক-স্বাধীনতারই অংশ, অথচ হলোকাস্টের সত্যতা বা ব্যাপকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ও এমনকি এটাকে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি গণহত্যা বা জাতিগত নির্মূল অভিযানের সঙ্গে তুলনা করাটাও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ!
পাশ্চাত্যের কোনো কোনো দেশে হলোকাস্টের যে কোনো ক্ষুদ্র দিক সম্পর্কেও সন্দেহ প্রকাশ কিংবা এসব বিষয়ে তদন্তের ইচ্ছা প্রকাশও মারাত্মক অপরাধ বলে বিবেচিত। জার্মানি, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, চেক প্রজাতন্ত্র, ফ্রান্স, লিথুনিয়া, পোল্যান্ড, রুমানিয়া, স্লোভাকিয়া ও সুইডেন এমনই কয়েকটি পশ্চিমা দেশ! পাশ্চাত্যের অনেক গবেষক, রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবী হলোকাস্টের অতিরঞ্জন ও সন্দেহজনক নানা বিষয় তুলে ধরতে গিয়ে বা এ বিষয়ে গবেষণা করতে গিয়ে জেল ও জরিমানার শিকার হয়েছেন। ব্রিটিশ ঐতিহাসিক ডেভিড আরভিং, ফরাসি দার্শনিক মরহুম রুজে গারুদি ও সুইস গবেষক ইউরগেন গ্রাফ-এর মত বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা হলোকাস্টের অসত্যতা তুলে ধরায় জেল ও জরিমানার শিকার হয়েছেন। অবশ্য ইউরগেন গ্রাফ দেশত্যাগ করে জেল-জরিমানা এড়াতে সক্ষম হন।
ব্যাপক গণহত্যা বা হলোকাস্ট জাতীয় কোনো উৎপীড়ন যদি ইহুদিদের ওপর চালানো হয়েও থাকে তা করেছে পশ্চিমারাই। অথচ এই বিষয়টিকে অজুহাত করে বহিরাগত ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে কয়েক মিলিয়ন ফিলিস্তিনিকে মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত করে সেখানে অবৈধ ইহুদিবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সম্মতি দিয়ে পাশ্চাত্য পশ্চিম এশিয়ায় ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ও দীর্ঘতম মানবীয় বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।
৭২ বছর আগে সৃষ্ট এই বিষফোড়া বা ক্যান্সারকে তথা এই সন্ত্রাসী জারজ রাষ্ট্রকে অর্থ, পরমাণু অস্ত্র ও এমনকি নৈতিক, রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সমর্থনসহ সর্বাত্মক সহায়তা যুগিয়ে পশ্চিমারা সত্যিকারের আসল হলোকাস্ট ঘটানোর পাশাপাশি এখনও কথিত ওই সন্দেহজনক হলোকাস্টের শিকার ব্যক্তিদের জন্য জরিমানাও দিয়ে যাচ্ছে! এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি গণহত্যাকে হলোকাস্টের সঙ্গে তুলনা করায় মাহমুদ আব্বাসের মত ব্যক্তিদেরও বিচার করার ও শাস্তি দেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে! #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২০