সংকট নিরসনে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এখন লেবাননে
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i122522-সংকট_নিরসনে_বিশেষ_পরিকল্পনা_নিয়ে_ইরানের_পররাষ্ট্রমন্ত্রী_এখন_লেবাননে
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান লেবানন সফরে গিয়ে সেদেশের কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাতে লেবাননের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সরকার ও প্রতিরোধ শক্তির প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন। তিনি ওমান সফর শেষ করে একটি উচ্চ পদস্থ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে বৈরুত সফরে গেলেন।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
এপ্রিল ২৮, ২০২৩ ১৪:১৭ Asia/Dhaka

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান লেবানন সফরে গিয়ে সেদেশের কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাতে লেবাননের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সরকার ও প্রতিরোধ শক্তির প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন। তিনি ওমান সফর শেষ করে একটি উচ্চ পদস্থ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে বৈরুত সফরে গেলেন।

বৈরুতে তিনি সেদেশের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতির সঙ্গে সাক্ষাতে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিকসহ সকল ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিস্তারের আহ্বান জানান। এ সাক্ষাতে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে লেবাননের ব্যাপারে তেহরানের গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহিয়ান দায়িত্ব নেয়ার পর এই নিয়ে চতুর্থবার এমন সময় লেবানন সফরে গেলেন যখন ওই দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। গত বছর অক্টোবরের শেষে মিশেল আউনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ওই দেশটিতে নতুন কোনো প্রেসিডেন্ট দায়িত্বভার নেয়নি। 'মোত্তাহেদে হিজবুল্লাহর' নেতা সোলাইমান ফারনাজিয়ে এবং সেনা কমান্ডার জোসেফ আউন লেবাননের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থিতা ঘোষণা করলেও দেশটির সংসদ এ নিয়ে ১০ বারের বেশি বৈঠক করলেও এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিষয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। লেবাননে প্রেসিডেন্টের পদ খালি থাকায় সেদেশে রাজনৈতিক সংকট চলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঙ্গনেও ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লেবাননের জাতীয় মুদ্রার মান পড়ে গেছে এবং দেশটির জনগণ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে।

লেবাননে এমন সময় আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সংকট অব্যাহত রয়েছে যখন ওই  দেশটির কঠিন সময়ের বন্ধু হিসেবে ইরান তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো রকম হস্তক্ষেপ না করেই সংলাপের মাধ্যমে সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য সেদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে উৎসাহিত করে আসছে। প্রকৃতপক্ষে, ইরান বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই সেদেশের আইন ও রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্য থকেই শক্তিশালী সরকার গঠনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেবানন সফরে গিয়ে এ বিষয়ের উপরই জোর দিয়ে বলেছেন, লেবাননের সরকার, জনগণ, সেনাবাহিনী ও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রতি জোরালো সমর্থন ঘোষণা দেয়ার জন্যই বৈরুতে এসেছি। 

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে যখন সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটছে ঠিক তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর লেবানন সফরকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইরান-সৌদি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সহযোগিতা লেবাননসহ এ অঞ্চলের বহু সংকট সমাধানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই আশা করা হচ্ছে লেবাননের রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর ইরান ও সৌদি আরবের প্রভাব তাদেরকে পারস্পরিক সহযোগিতার পথ বেছে নিতে এবং অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে বিরাট ভূমিকা রাখবে। লেবাননের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর জন্য তেহরানের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলী ও ইতিবাচক পরিবর্তন লেবাননসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বের এর কল্যাণকর প্রভাব পড়বে।

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।