আজ মুরসির ক্ষমতাচ্যুতির তৃতীয় বার্ষিকী
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i13606-আজ_মুরসির_ক্ষমতাচ্যুতির_তৃতীয়_বার্ষিকী
আজ হতে ৩ বছর আগে এই দিনে মিশরের সশস্ত্র বাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির ইতিহাসের প্রথম গণতান্ত্রিক, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায়-আসা প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসিকে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুলাই ০৩, ২০১৬ ০৯:৪৩ Asia/Dhaka
  • আজ মুরসির ক্ষমতাচ্যুতির তৃতীয় বার্ষিকী

আজ হতে ৩ বছর আগে এই দিনে মিশরের সশস্ত্র বাহিনী ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির ইতিহাসের প্রথম গণতান্ত্রিক, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায়-আসা প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসিকে।

জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ আস সিসি’র নেতৃত্বে এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারান ইখওয়ানুল মুসলিমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুডের এই নেতা।

এই ঘটনার ঠিক এক বছর আগে নির্বাচনে ব্রাদারহুডের বিজয়ের প্রেক্ষাপটে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানের মুখে প্রেসিডেন্ট হুসনি মুবারক ক্ষমতাচ্যুত হলে ব্রাদারহুড তথা ইখওয়ানুল মুসলিমিন ক্ষমতায় আসার সুযোগ পায়।

মুহাম্মাদ মুরসি মিশরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। মুরসি নিজেই সিসিকে মিশরের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কমান্ডার পদে বসিয়েছিলেন।

মুরসি নিজেকে ইসলামপন্থী বলে দাবি করা সত্ত্বেও তিনি ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে মিশরের ক্যাম্পডেডিভ নামক কলঙ্কজনক চুক্তিকে সমর্থন জানান এবং ইসরাইলকে গ্যাস দেয়ার চুক্তিও বহাল রাখেন।

মুরসির শাসনামলেই তাকফিরি ওয়াহাবি সন্ত্রাসীরা মিশরে সংখ্যালঘু শিয়া মুসলমান ও খ্রিস্টানদের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়।

মুরসি সিরিয়ার সন্ত্রাসীদের প্রতিও সমর্থন দেয়ার নীতি গ্রহণ করেছিলেন। এ ছাড়াও তিনি সৌদি আরবের ওপর অতি মাত্রায় নির্ভরতার ভুল নীতি গ্রহণ করে নিজের পতন ত্বরান্বিত করেন। কারণ, সৌদি সরকার মুরসি সরকারের পতনের সঙ্গে জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের প্রকাশ্যে সহায়তা দিয়ে মুরসির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে।

মুরসির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করে সিসি সরকার। এইসব মামলার একটির রায়ে মুরসিকে মৃত্যুদণ্ড ও অন্য এক মামলার রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মুহাম্মাদ মুরসি জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৫১ সালের ২০ আগস্ট উত্তর মিশরের শারকিয়া প্রদেশে। তিনি ১৯৮২ সালে ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ক্যালিফোর্নিয়াতে প্রকৌশল বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন। এ বছরই তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, নর্থরিজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৫ সালে মুরসি শারকিয়া প্রদেশের জাগাজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপনার চাকরি ছেড়ে মিশরে চলে আসেন।

মুহাম্মাদ মুরসির পাঁচ সন্তানের মধ্যে দুই জন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন এবং জন্মসূত্রে তারা মার্কিন নাগরিক। #

পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/৩