মিসরের সেনাবাহিনীর বিষয়ে তেল আবিবের উদ্বেগ; দখলদারদের নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
-
মিশর শক্তিশালী হলে ইসরায়েলের সমস্যা কোথায়?
পার্সটুডে- ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি মিসরের সেনাবাহিনীর বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা কায়রোর সামরিক অগ্রগতি নিয়ে তেল আবিবের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রতিফলন। ইহুদিবাদী বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্বেগ থেকে এটা স্পষ্ট যে, নিরাপত্তা সমীকরণে মিসরের অবস্থান নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমগুলো প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মিসরের সেনাবাহিনী সংক্রান্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তেল আবিবের কৌশলগত উদ্বেগের নতুন দিকগুলো বিশ্লেষণ করেছে। নেতানিয়াহু নেসেটের (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা কমিটির সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে বলেন, মিসরের সেনাবাহিনী শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে নজরদারি করা প্রয়োজন, যাতে তা প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়েও বেশি শক্তিতে পরিণত না হয়।
ইহুদিবাদী ওয়েবসাইট “নাতসিও নেট” এই বক্তব্যকে আকস্মিক বলে মনে করেনি; বরং এটিকে আঞ্চলিক নানা পরিবর্তনের প্রতিফলন হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। এই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনাই উপদ্বীপে রানওয়ে ও ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির মতো নতুন সামরিক অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে অভিযোগগুলো ইহুদিবাদী ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলে ১৯৭৯ সালের শান্তিচুক্তির নিরাপত্তা সংযোজনী মেনে চলা নিয়ে মিসরের প্রতি সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। যদিও কায়রো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছে।
মিসরের সেনাবাহিনীর দ্রুত আধুনিকায়ন ও অস্ত্রসজ্জা বিশেষ করে সামরিক ক্রয়ের উৎস বৈচিত্র্যময় হওয়ার ফলে দখলদার ইসরায়েল তার শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর আশঙ্কা করছে। এ প্রেক্ষাপটে তুরস্কের মতো শক্তির সঙ্গে মিসরের ঘনিষ্ঠতা এবং চীনের মতো দেশের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধিও উদ্বেগের কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইহুদিবাদী বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে এ ধরণের উদ্বেগ প্রকাশের ঘটনা থেকে মনে হচ্ছে, তেল আবিব এখন আর মিসরকে আর আগের মতো নিরাপদ নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে দেখছে না; বরং এমন এক সামরিক শক্তি হিসেবে দেখছে, যার সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।#
পার্সটুডে/এসএ/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।