ইহুদিবাদী ত্রিপক্ষীয় আক্রমণ; গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ, ইরানভীতি ছড়ানো এবং সিরিয়ায় হামলা
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i153928-ইহুদিবাদী_ত্রিপক্ষীয়_আক্রমণ_গণমাধ্যমের_কণ্ঠরোধ_ইরানভীতি_ছড়ানো_এবং_সিরিয়ায়_হামলা
পার্সটুডে-ইহুদিবাদী ইসরাইল গাজা যুদ্ধে ব্যর্থতা মোকাবেলার জন্য তিনটি যুগপত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে: মিডিয়া সেন্সরশিপ আইন পাস করা, ল্যাটিন আমেরিকায় ইরানভীতি ছড়িয়ে দেওয়া এবং সিরিয়ায় সামরিক আক্রমণ।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
নভেম্বর ১১, ২০২৫ ১৭:১৯ Asia/Dhaka
  • অধিকৃত অঞ্চলে বিদেশী গণমাধ্যম বন্ধ করার পরিকল্পনার প্রাথমিক অনুমোদন
    অধিকৃত অঞ্চলে বিদেশী গণমাধ্যম বন্ধ করার পরিকল্পনার প্রাথমিক অনুমোদন

পার্সটুডে-ইহুদিবাদী ইসরাইল গাজা যুদ্ধে ব্যর্থতা মোকাবেলার জন্য তিনটি যুগপত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে: মিডিয়া সেন্সরশিপ আইন পাস করা, ল্যাটিন আমেরিকায় ইরানভীতি ছড়িয়ে দেওয়া এবং সিরিয়ায় সামরিক আক্রমণ।

গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জনমতের চাপের মুখে, ইহুদিবাদী ইসরাইল বহুমুখী আক্রমণ শুরু করে আন্তর্জাতিক এবং মিডিয়া যুদ্ধক্ষেত্র পাল্টে দিতে চাচ্ছে। এই আন্দোলনগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ মিডিয়ার কণ্ঠস্বর দমন করার মাধ্যমে শুরু হয় এবং আমেরিকা মহাদেশের গভীরে বিস্তৃতি লাভ করে। এই পদক্ষেপ সাম্প্রতিক যুদ্ধের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিণতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল নির্দেশ করে। পার্সটুডে'র আজকের প্রতিবেদনে এই তিনটি ফ্রন্ট নিয়ে যুগপত পর্যালোচনা করার চেষ্টা করবো।

মিডিয়ার কণ্ঠরোধ করা; নেসেট বিদেশী গণমাধ্যমের ওপর সীমাহীন সেন্সরশিপ আরোপের পথ পরিষ্কার করেছে

ইসরাইলি পার্লামেন্ট (নেসেট) প্রাথমিকভাবে লিকুদ পার্টির এরিয়েল কালনারের একটি বিতর্কিত বিল অনুমোদন করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ তথা দমনের পদক্ষেপ নিয়েছে। বিল অনুসারে সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় আদালতের আদেশ এবং কোনও সময়সীমা ছাড়াই "নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর" বলে মনে করলে যে-কোনো বিদেশী গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার ক্ষমতা পাবে। চূড়ান্ত সংস্করণ থেকে 'পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা'র ধারাটি বাদ দেওয়ার অর্থ আল জাজিরার মতো নেটওয়ার্কগুলোকে স্থায়ীভাবে স্থগিত করা যেতে পারে। বিলটির পক্ষে পড়েছে ৫০টি রায় আর বিপক্ষে পড়েছে ৪১টি ভোট। এই রায়ের মধ্য দিয়ে বিলটি পরবর্তী পর্যায়ে এগিয়েছে। বিলটি এমন সময়ে এসেছে যখন গাজায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমগুলো ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের তীব্র ক্ষোভের মধ্যে রয়েছে।

পশ্চিম গোলার্ধে যুদ্ধ; ল্যাটিন আমেরিকায় ইরানোফোবিয়ার নয়া ঢেউ

মিডিয়ার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করার পাশাপাশি, ইহুদিবাদী ইসরাইল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায়, ল্যাটিন আমেরিকায় 'বয়ানের যুদ্ধে'র একটি নয়া ক্ষেত্র খুলে দিয়েছে। লেবাননের সংবাদপত্র আল-আখবারের মতে, ওয়াশিংটন এবং তেল আবিব এ অঞ্চলে "ইরানভীতি" সক্রিয়ভাবে প্রচার করছে। এই প্রচারণার লক্ষ্য হল ইরানকে "আন্তর্জাতিক হুমকি" হিসেবে তুলে ধরা এবং পশ্চিম গোলার্ধে পশ্চিমাদের নিরাপত্তা জনিত সেনা উপস্থিতি জোরদার করার ন্যায্যতা প্রমাণ করা। মেক্সিকোতে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে হত্যার কথিত ষড়যন্ত্র, যা মেক্সিকো সরকারও অস্বীকার করেছে, এই দৃশ্যকল্পের কাঠামোর মধ্যে পড়ে। এই পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলা, বলিভিয়া এবং নিকারাগুয়ার মতো দেশগুলোর মধ্যে ইরান এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কৌশলগত প্রতিক্রিয়া হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

সামরিক ক্ষেত্র; সিরিয়ায় ইসরাইলের অব্যাহত স্থল আক্রমণ

সিরিয়ার কুনেইত্রা অঞ্চলের স্থলভাগে ইসরাইলের সামরিক গতিবিধিও তীব্র হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হেলিকপ্টার গানশিপের সহায়তায় ইসরাইলি সেনা বাহিনী 'জাবাথা আল-খাশাব' গ্রামে প্রবেশ করেছে এবং সিরিয়ার নাগরিকদের বাড়িঘর তল্লাশি করেছে। রোববার আল-মাশিরিফা এবং ওফানিয়া গ্রামে প্রবেশের মাধ্যমে তেল আবিব দখলকৃত গোলান মালভূমি এবং আশেপাশের এলাকায় তাদের উপস্থিতি সুসংহত করার জন্য সিরিয়ার অস্থিতিশীলতাকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাচ্ছে।

এই তিনটি আপাতদৃষ্টিতে পৃথক আন্দোলন (মিডিয়া দমন, ল্যাটিন আমেরিকায় ইরানোফোবিয়া এবং সিরিয়ায় আগ্রাসন) আসলে একটি সমন্বিত কৌশলেরই অংশ। ইহুদিবাদী সরকার এবং তার প্রধান মিত্র, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মিডিয়ার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সংকটের বয়ান দেওয়ার চেষ্টা করছে। দূরবর্তী ভৌগোলিক অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তা প্রকল্পের মাধ্যমে ইরানের মতো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রভাব বলয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং উত্তর সীমান্তে (সিরিয়া) তাদের ক্ষেত্র এবং নিরাপত্তা অবস্থান শক্তিশালী করা।

আমেরিকার অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপট; নিউইয়র্কের পরিবর্তিত রাজনৈতিক চেহারা এবং ইহুদিবাদের ওপর চাপ

আমেরিকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হচ্ছে। নিউইয়র্কের মুসলিম এবং ইহুদিবাদ-বিরোধী মেয়র 'জোহরান মামদানির' বিজয় আমেরিকার তরুণদের মধ্যে প্রগতিশীল আন্দোলন বিকাশের প্রতীক। এই পরিবর্তন কেবল একটি প্রতীকী বিজয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখন আমেরিকার ডেমোক্র্যাটদের একটি দল, ১২ দফার একটি তালিকা উপস্থাপন করে, মামদানিকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাথে সহযোগিতাকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে শহরের সমস্ত চুক্তি বাতিল করতে বলছে। এই আন্দোলন প্রমাণ করছে ইসরাইলি নীতির বিরোধিতা আমেরিকার ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোতেও একটি প্রভাবশালী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।#

পার্সটুডে/এনএম/১১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।