ফিলিস্তিনের অব্যাহত অসহায়ত্ব ও বৈশ্বিক নিস্ক্রিয়তা!
গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি গণহত্যা জোরদার
-
গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি গণহত্যা জোরদার
পার্স টুডে: খবরের সূত্রগুলো জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের নাবলুসে ইহুদিবাদী সেনাদের হামলায় ৫৪ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
পশ্চিম তীরের নাবলুস জেলার তালফিত শহরে দখলদার ইহুদিবাদী সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ৫৪ জন ফিলিস্তিনি আহত হন। পার্স টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানিয়েছে যে ওই শহরে ইহুদিবাদী সেনাদের সঙ্গে ফিলিস্তিনি যুবকদের সংঘর্ষ হয়েছে। যুবকদের ছত্রভঙ্গ করতে ইহুদিবাদী সেনারা টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদক জানান, নাবলুসের তালফিতে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী সরাসরি আল জাজিরার সংবাদদল লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ও গুলি ছোড়ে।
উত্তর-পূর্ব রামাল্লায় নামাজিদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব রামাল্লার কাফর মালিক শহরে অভিযানের সময় ইহুদিবাদী সেনারা নামাজ আদায়কারীদের দিকে টিয়ার গ্যাস ছোড়ে।
ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো আরও জানায়, আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে সশস্ত্র ইহুদিবাদী বসতি স্থাপনকারীদের একটি দল মসজিদের ফটকগুলোর একটি—বাব আল-আসবাত—সংলগ্ন আল-ঘালি প্রাঙ্গণে হামলা চালায়।
হামাস: নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি জাতির বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল নীতি বাস্তবায়ন করছেন
ফিলিস্তিনি ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ নাবলুসের তালফিত গ্রাম এবং পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইহুদিবাদী বসতি স্থাপনকারী ও সেনাবাহিনীর বর্বর হামলা—যার মধ্যে সম্পদ ধ্বংস, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে ভয়-ভীতি সৃষ্টি এবং সরাসরি গুলি-চালানো অন্তর্ভুক্ত, এবং যার ফলে বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন—এটি একটি অপরাধমূলক আগ্রাসন এবং ইসরায়েল পরিচালিত পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা।
বিবৃতিতে বলা হয়, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরিকল্পিত পদ্ধতিগতভাবে ফিলিস্তিনি জাতির বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল নীতি বাস্তবায়ন করছেন এবং ইহুদিবাদী সেনাদের সমর্থনে সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের অবাধ তৎপরতার সুযোগ দিয়ে পশ্চিম তীরের শহর, গ্রাম ও শরণার্থী শিবিরগুলোতে সহিংসতার পরিবেশ সৃষ্টি করছেন।
হামাস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ, আরব লীগ ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা যেন পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরায়েলি অপরাধযজ্ঞের নিন্দা জানায় এবং ইসরায়েলের ইহুদিকরণ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও সংযুক্তিকরণ প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেয়।
এ আন্দোলন পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি জনগণ এবং সব রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর প্রতি আহ্বান জানায়, যেন তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব নীতির মোকাবিলা করে, সব ধরনের সংগ্রাম ও প্রতিরোধ সক্রিয় করে এবং দখলদারিত্বের অবসান ও জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারের ওপর জোর দেয়।
পশ্চিম তীর বিস্ফোরণের দ্বারপ্রান্তে
‘ফরেন পলিসি’ সাময়িকীতে র্যান্ড ইনস্টিটিউশনে ইসরায়েলি নীতি বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিরা ইফরনের লেখা এক বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধে সতর্ক করা হয়েছে যে পশ্চিম তীর পশ্চিম এশিয়ায় পরবর্তী অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে—বিশেষত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের দ্রুত অগ্রসরমান পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা, গাজায় চলমান সহিংসতা, লেবাননে হিজবুল্লাহর পুনরায় সশস্ত্রীকরণ এবং সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের মতো সংকটে গোটা অঞ্চল যখন ব্যস্ত, তখন পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম মনোযোগ পেয়েছে; অথচ সেখানে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত অস্থিরতার উপাদান দ্রুত সঞ্চিত হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ‘তুফান আল-আকসা’ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি বেড়েছে, চেকপোস্ট বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশেষ করে শরণার্থী শিবিরগুলোতে অভিযান জোরদার হয়েছে। একই সঙ্গে বসতি স্থাপন ও অবৈধ আউটপোস্ট বৈধকরণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা প্রায় দৈনন্দিন ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
ফরেন পলিসি জানায়, ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা এমন একগুচ্ছ পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে, যা বাস্তবিক সংযুক্তিকরণকে আইনি স্তরের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে; এর মধ্যে রয়েছে বসতি স্থাপনকারীদের কাছে জমি বিক্রি সহজতর করা এবং ‘এ’ ও ‘বি’ এলাকায় ক্ষমতা বিস্তৃত করা। ইহুদিবাদী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ বলেছেন, এসব নীতির লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে নস্যাৎ করা।#
পার্স টুডে/এমএএইচ/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।