ডাউনিং স্ট্রিটে তৃতীয় পদত্যাগ; এপস্টিন নথির জেরে ব্রিটিশ ক্যাবিনেট সেক্রেটারির বিদায়
-
ক্রিস ওয়ারমাল্ড
পার্সটুডে- যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ক্রিস ওয়ারমাল্ড শেষ পর্যন্ত জেফ্রি এপস্টিন–সংক্রান্ত নথিকে ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের ধারাবাহিকতায় পদত্যাগ করেছেন।
ক্রিস ওয়ারমাল্ড ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যের ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ও সিভিল সার্ভিসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে পদত্যাগ করেছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ডাউনিং স্ট্রিটের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির এটি তৃতীয় পদত্যাগ।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রধান মর্গান ম্যাকসুইনি এবং সরকারের যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক টিম অ্যালেনও পদত্যাগ করেন। এপস্টিন নথি প্রকাশ হওয়ার পর তারা সরে দাঁড়ালেন।
লেবার পার্টি ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ভেতরে স্টারমারের জবাবদিহির দাবি ক্রমেই বাড়ছে। এমনকি দলের কিছু জ্যেষ্ঠ নেতাও তাকে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত স্টারমার এসব চাপ প্রতিহত করে এসেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, তার প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার কোনো ইচ্ছা নেই। তবুও ওয়ারমাল্ডের পদত্যাগ সরকারের ওপর চাপের মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।
কনজারভেটিভ দলের নেতা কেমি ব্যাডেনক এই পদত্যাগকে স্টারমার সরকারের ওপর চাপ এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান রক্ষার জন্য ওয়ারমাল্ডই শেষ ব্যক্তি নন যাকে “বলিদান” দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ক্যাবিনেট সেক্রেটারির পদটি শূন্য রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, শিগগিরই এ পদে নতুন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের শীর্ষ নির্বাহী স্তরে এ ধরনের ব্যাপক পরিবর্তন অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় গভীর চ্যালেঞ্জ এবং সাম্প্রতিক সংকটের রাজনৈতিক প্রভাবেরই প্রতিফলন।
১৪ মাসেরও কম সময়ে সিভিল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করে ওয়ারমাল্ড এই পদের ইতিহাসে স্বল্পমেয়াদি পদাধিকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরকারের নির্বাহী কাঠামোর ভেতরে আস্থাহীনতা ও সমন্বয়ের সংকটের ইঙ্গিত দেয়।#
পার্সটুডে/এসএ/১৩