ইরান নিয়ে মার্কিন নীতির পুরোনো ব্যর্থতার নতুন স্বীকারোক্তি
-
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স,
পার্সটুডে: 'ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরাসরি ভূমিকা নেই'- ইসলামী বিপ্লয়ের বিজয়ের ৪৭তম বার্ষিকীর সময়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য আবারও প্রমাণ করে যে, বহু দশক ধরে চলা ইরানবিরোধী মার্কিন নীতিগুলো ব্যর্থ হয়েছে। হোয়াইট হাউসে সরকার বদলালেও, নীতির ধরন বদলায়নি, শুধু পদ্ধতি বদলেছে, লক্ষ্য প্রায় একই থেকেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্সের একটি সাক্ষাৎকার ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “ইরানের জনগণ যদি নিজেরাই রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে চায়, সেটি তাদের বিষয়। এটি আমাদের কাজ নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু এটুকু- ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।”
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গত কয়েক বছরে ইরানের ভেতরের অস্থিরতা, বিক্ষোভ ও বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে কিছু মার্কিন কর্মকর্তার প্রকাশ্য ও গোপন সমর্থনের বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব সমর্থন ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছে।
কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, ভ্যান্সের এই বক্তব্য ইরানের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে এক ধরনের বাস্তবসম্মত উপলব্ধির ইঙ্গিত দেয়। কারণ ইরানের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো খুবই জটিল এবং বাইরের চাপ দিয়ে দেশের ভেতরের বড় পরিবর্তন ঘটানো সহজ নয়। এর আগেও বাইডেন প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন স্বীকার করেছিলেন, গত দুই দশকে বিভিন্ন দেশে সরকার পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে নীতিগুলো নিয়েছিল, সেগুলো খুব একটা সফল হয়নি। তিনি ইরানের সমাজে নানা ধরনের চিন্তাধারা, মতাদর্শ ও রাজনৈতিক প্রবণতার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, কথাবার্তার ভাষা বদলালেও বাস্তব নীতি পুরোপুরি বদলায়নি। যুক্তরাষ্ট্র এখনও নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ, মানবাধিকার ইস্যু তুলে ধরা এবং বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি গণমাধ্যমভিত্তিক সমর্থনের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। অর্থাৎ সরাসরি সরকার পরিবর্তনের কথা না বললেও, চাপের কৌশল চালু আছে।
এই প্রেক্ষাপটে গতকাল (বুধবার) ১১ ফেব্রুয়ারি, ইসলামী বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকীতে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ রাস্তায় নামে। তারা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, নেতৃবৃন্দের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঐক্য, দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের বার্তা দেয়। একই সঙ্গে দেশটির বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারাও জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে উপস্থিত হন এবং শত্রুপক্ষের ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনার বিরুদ্ধে শক্ত ও স্পষ্ট বার্তা দেন। এটি ছিল জনগণ ও রাষ্ট্রের ঐক্য, প্রস্তুতি এবং প্রতিরোধের প্রকাশ।#
পার্সটুডে/এমএআর/১২