ইয়েমেন থেকে আমিরাতের সব সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানাল সৌদি আরব
-
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সেনাবাহিনী
পার্সটুডে: সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ইয়েমেন থেকে তাদের সব সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং দেশটির সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর প্রতি সব ধরনের সামরিক ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি আরব দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেছে, ইয়েমেনে আমিরাতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো তথাকথিত 'বৈধ ইয়েমেন সরকারকে সমর্থনকারী জোট'-এর চুক্তিগুলোর লঙ্ঘন। রিয়াদ বিশেষভাবে ফুজাইরা বন্দর থেকে মুকাল্লা বন্দরে অস্ত্র ও ভারী যানবাহন বহনকারী জাহাজ পাঠানোর বিষয়টি তুলে ধরেছে, যা জোট বাহিনীর কমান্ডের সঙ্গে কোনো সমন্বয় ছাড়াই করা হয়েছে বলে জানানো হয়। সৌদি আরব এ পদক্ষেপকে ইয়েমেন ও গোটা অঞ্চলের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
সৌদি আরব আরও জানিয়েছে, হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশে সামরিক অভিযান চালাতে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের ওপর আমিরাতের চাপের বিষয়টি তারা দুঃখজনক মনে করে। রিয়াদ সতর্ক করে বলেছে, এই দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি তাদের জন্য ‘রেড লাইন' এবং প্রয়োজনে তারা এর মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেবে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দক্ষিণ ইয়েমেন সংকট সমাধানে আলোচনার টেবিলে বসা এবং সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলসহ সব ইয়েমেনি পক্ষের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
এই দাবি এমন এক সময়ে এলো, যখন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল সম্প্রতি ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। হাদরামাউত প্রদেশে তারা সাইউন শহর ও সীমান্তবর্তী তেলক্ষেত্রগুলো দখল করেছে।
এই অগ্রগতির ফলে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী মা'রিবের দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। এতে নতুন সংঘর্ষের আশঙ্কা বেড়েছে এবং সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের মাধ্যমে দক্ষিণ ইয়েমেনের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইয়েমেনে আরব জোট ও স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার মতবিরোধ দেশটির নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং ইয়েমেন সংকটের রাজনৈতিক সমাধান ও স্থিতিশীলতা অর্জনের পথ এখনো কঠিন ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ রয়ে গেছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/৩০