গাজায় প্রত্যাবর্তনের সময় রাফাহ ক্রসিংয়ে ফিলিস্তিনিদের অপমান
-
রাফাহ ক্রসিং
পার্সটুডে-রাফাহ ক্রসিং থেকে গাজায় ফিরে আসা একজন ফিলিস্তিনি মহিলা ইসরায়েলি সেনাদের দ্বারা অপমান, শিশুদের জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত, কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ, চোখ বেঁধে রাখা এবং হুমকির কথা বর্ণনা করেছেন।
রাফাহ ক্রসিং থেকে গাজায় ফিরে আসা একজন ফিলিস্তিনি মহিলা সাবাহ আল-রিকাব ইসরায়েলি সেনাদের দ্বারা অপমান, শিশুদের জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত, কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ, চোখ বেঁধে রাখা এবং হুমকির কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: চরম ভয় থাকা সত্ত্বেও, তিনি দৃঢ়তার সাথে তার স্বদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পার্সটুডে আরও জানায়, সাবাহ আল-রিকাব ফেরার পথে তার অভিজ্ঞতার চমকপ্রদ বিবরণ দিয়েছেন। তিনি এই অভিজ্ঞতাকে "অপমান, ভয় এবং কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের একটি ধারাবাহিকতা" হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
আল-রিকাব বলেন, রাফাহ ক্রসিংয়ের ফিলিস্তিনি অংশে প্রবেশের পর তার পরিবার কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা একটি দীর্ঘ পথের মুখোমুখি হয়। ইসরায়েলি সেনারা "নিষিদ্ধ জিনিসপত্র" বলে তাদের সমস্ত জিনিসপত্র এবং উপহার, যার মধ্যে শিশুদের খেলনা এবং সুগন্ধি ছিল, জব্দ করে। তাদের কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে প্রায় পনের মিনিট হেঁটে যেতে বাধ্য করা হয় এবং তারপর একটি ইসরায়েলি সামরিক জিপ দিয়ে এসকর্ট করা একটি বাসে স্থানান্তর করা হয়। স্থানান্তরের সময় অন্য একটি জিপ তাদের পেছনে পেছনে আসে।
ফিলিস্তিনি মহিলা বলেন, বাসটি কাফর মোরাগ এলাকার গাসান আল-দাহিনী ভাড়াটে গোষ্ঠীর একটি চেকপয়েন্টে চলে যায়। সেখানে, ইসরায়েলি সেনারা তাদের ওপর পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং অপমানজনক তল্লাশি চালায়, তাদের পাসপোর্ট জব্দ করে এবং তারপর প্রায় ৩০ মিটার দূরে একটি ইসরায়েলি চেকপয়েন্টে হস্তান্তর করে।
আল-রিকাব বলেন, ভয় এবং উদ্বেগ, বিশেষ করে তীব্র ঠান্ডার মধ্যে, তাদের সকলকে গ্রাস করে। ইসরায়েলি সেনারা বারবার তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে তার পরিবারে হামাসের কোন সদস্য আছে কিনা বা তিনি আন্দোলনের সাথে জড়িত কাউকে চেনেন কিনা। কিন্তু তার কাছে কোন উত্তর ছিল না। এরপর, তাদেরকে একটি ইসরায়েলি চেকপয়েন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। এই মুহুর্তে, প্রায় দুই ঘন্টা ধরে ব্যক্তিগত তল্লাশি এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। তাদের হাত বাঁধা ছিল এবং তাদের চোখ বন্ধ ছিল; এই পরিস্থিতি তাদের আতঙ্ককে আরও তীব্র করে তুলেছিল, বিশেষ করে আল-রিকাবের মাঝে তার মেয়েদের কী অবস্থা হবে-সেই আশঙ্কায় গভীর ভয় ছিল।
ফিলিস্তিনি মহিলা জোর দিয়ে বলেন যে দখলদার বাহিনীর প্রশ্নগুলো হামাসের সাথে তাদের সম্পর্ক এবং মিশরের আরিশ শহরের আন্দোলন থেকে তারা কাদের সাথে যোগাযোগ করেছিল তার ওপর কেন্দ্রিভূত ছিল। একজন দখলদার বাহিনীর কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে তিনি কেন গাজায় ফিরে যাওয়ার জন্য এত জেদ করছেন এবং তাকে তার পাঁচ মেয়েকে নিয়ে মিশরে ফিরে যেতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন, তাদের থাকার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু আল-রিকাব তার সমস্ত প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।
এই বর্ণনা পদ্ধতিগত অপমান, ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, হাত ও চোখ বেঁধে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ এবং ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমিতে ফিরে যেতে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টার চিত্র তুলে ধরে।#
পার্সটুডে/এনএম/৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।