আব্রাহাম চুক্তি: গাজার আগুনে ছাই হয়ে যাওয়া এক ব্যর্থ প্রকল্প
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i159834-আব্রাহাম_চুক্তি_গাজার_আগুনে_ছাই_হয়ে_যাওয়া_এক_ব্যর্থ_প্রকল্প
পার্সটুডে: আরব দৈনিক আল-কুদস আল-আরাবি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে গৃহীত আব্রাহাম চুক্তিকে শুরু থেকেই একটি ব্যর্থ প্রকল্প হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
(last modified 2026-05-30T11:37:18+00:00 )
মে ৩০, ২০২৬ ১৭:২৯ Asia/Dhaka
  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

পার্সটুডে: আরব দৈনিক আল-কুদস আল-আরাবি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে গৃহীত আব্রাহাম চুক্তিকে শুরু থেকেই একটি ব্যর্থ প্রকল্প হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

আব্রাহাম চুক্তি বা আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো এমন একগুচ্ছ সমঝোতা, যার মাধ্যমে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে কয়েকটি আরব দেশের—বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের—কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হয়। এসব চুক্তি ২০২০ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ঘোষণা করা হয় এবং একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়।

পার্সটুডে, তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আল-কুদস আল-আরাবি তাদের এক প্রতিবেদনে আব্রাহাম চুক্তিকে এমন একটি প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা বাস্তবায়নের আগেই ব্যর্থতার মুখে পড়েছিল এবং বর্তমানে অনেক আরব দেশের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের তালিকা থেকে কার্যত বাদ পড়েছে।

আন্তঃআরব এই সংবাদপত্রটি “ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষাপটে আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ চাপিয়ে দিতে ব্যর্থ ডোনাল্ড ট্রাম্প” শীর্ষক প্রতিবেদনে লিখেছে, বর্তমান আঞ্চলিক বাস্তবতা স্পষ্টভাবে দেখায় যে বহু আরব দেশ এখন আর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে না। বিশেষ করে গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় এই অনীহা আরও বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন দেশগুলোকে আব্রাহাম চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত বৃহত্তর আঞ্চলিক ব্যবস্থার একটি অংশ হিসেবে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য কোনো ইতিবাচক সাড়া পায়নি; বরং অনেক ক্ষেত্রে নীরবতা বা সরাসরি প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হয়েছে।

প্রতিবেদনে পাকিস্তানের দৃঢ় অবস্থানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, পাকিস্তান এ বিষয়ে সবচেয়ে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জোর দিয়ে বলেছেন, আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদান বা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা পাকিস্তানের মৌলিক পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি এ ধরনের কোনো সরকারি উদ্যোগ বা আগ্রহের কথাও অস্বীকার করেছেন।

আল-কুদস আল-আরাবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে আব্রাহাম চুক্তিকে পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়ার একটি বড় প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু যে লক্ষ্য ও প্রত্যাশা সামনে রেখে এটি প্রচার করা হয়েছিল, সেই লক্ষ্য অর্জনে চুক্তিটি সফল হতে পারেনি।

সংবাদপত্রটি আরও উল্লেখ করে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আব্রাহাম চুক্তির জন্য একটি বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই যুদ্ধ ফিলিস্তিন ইস্যুকে আবারও মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মনোযোগের কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছে। ফলে অনেক সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা স্থগিত করেছে অথবা তার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।

প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়, গাজা যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন এসেছে এবং এর ফলে আব্রাহাম চুক্তির ভবিষ্যৎ ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।#

 

পার্সটুডে/এমবিএ/৩০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।