সানা বিমানবন্দরে সৌদি হামলা, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর
-
সানা বিমানবন্দরে সৌদি আরবের হামলা
সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হামলায় বিমানবন্দরের উড্ডয়ন ও অবতরণ রানওয়ে এবং কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারিয়ি এই হামলাকে "অন্যায় ও প্রকাশ্য আগ্রাসন" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, সানা বিমানবন্দরে হামলার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের পর্যায় ও যুদ্ধবিরতির পরিবেশের অবসান ঘটেছে এবং সৌদি আরব এর পরিণতির সম্পূর্ণ দায় বহন করবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, "এই আগ্রাসন কোনো জবাব ও শাস্তি ছাড়া পার পাবে না।"
সৌদি আরবের এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, "আমরা মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করব, যাতে আমাদের অধিকার পুরোপুরি আদায় করা যায়। সৌদি শাসকগোষ্ঠী শিগগিরই বুঝতে পারবে যে, তারা নিজেদের একটি বড় কৌশলগত অচলাবস্থার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে এবং এর জন্য তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।"
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, সৌদি আরবের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে উত্তেজনা হ্রাস ও যুদ্ধবিরতির পর্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে এবং তারা কার্যত নতুন সংঘাতের সূচনা করেছে। এর ফলে সৃষ্টি হওয়া সব পরিস্থিতি ও পরিণতির দায় সৌদি সরকারের ওপরই বর্তাবে।
ইয়েমেনের পরিবহন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর দীর্ঘদিনের অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখতে চায় এবং সেই লক্ষ্যেই বিমানবন্দরটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, সানা বিমানবন্দরে হামলার ফলে হাজার হাজার রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ভ্রমণসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, উত্তেজনা কমানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও সৌদি আরব গত কয়েক বছর ধরে ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরও কঠোর করেছে এবং অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে, যাতে ইয়েমেনের জনগণকে নতিস্বীকারে বাধ্য করা যায়।
এর আগে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছিল, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি বেসামরিক বিমানকে সানায় অবতরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা সৌদি যুদ্ধবিমানের গতিবিধি প্রতিহত করেছে।
ইয়েমেনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা বা আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে সানা ও তেহরানের মধ্যে বিমান চলাচল অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৩