সৌদির সঙ্গে আলোচনায় বসার শর্ত দিল আনসারুল্লাহ
-
ইয়েমেনের রাজনৈতিক উচ্চ পরিষদের প্রধান সালেহ আস-সামাদ
ইয়েমেনের জনপ্রিয় হুথি আনসারুল্লাহ যোদ্ধারা সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনায় বসতে নিজেদের শর্ত ঘোষণা করেছে। সংগঠনটি বলেছে, যেকোনো আলোচনা শুরু করার আগে সৌদি আরবকে ইয়েমেনের নিরীহ মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে।
আনসারুল্লাহ নেতা ও ইয়েমেনের রাজনৈতিক উচ্চ পরিষদের প্রধান সালেহ আস-সামাদ বলেছেন, “আমরা দেশে একটি ঐক্যমত্যের সরকার গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অবশ্য প্রতিপক্ষ আলোচনায় বসতে চাইলে সে পথও আমরা খোলা রেখেছি।’
সামাদ আরো বলেন, “শত্রু যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের উপর হামলা চালিয়ে যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা অভ্যন্তরীণভাবে আমাদের যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতে থাকবো।”
ইয়েমেন সংকট নিরসনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি যে পরিকল্পনা পেশ করেছেন সে সম্পর্কেও কথা বলেন আনসারুল্লাহ নেতা সামাদ। তিনি বলেন, ইয়েমেনের রাজনৈতিক উচ্চ পরিষদ যাতে নতুন কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারে সেজন্য সৌদি আরবের সমর্থনে এ পরিকল্পনা উত্থাপন করেছেন কেরি। উচ্চ পরিষদ যে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তা বাস্তবায়িত হলে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইয়েমেনের প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জন কেরি বৃহস্পতিবার জেদ্দায় পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইয়েমেন সংকট সমাধানে একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আনসারুল্লাহ যোদ্ধারা সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে যেসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে তাতে রিয়াদের সেনাবাহিনীর পাশাপাশি দেশটিতে মোতায়েন মার্কিন সেনাদেরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি এসব ক্ষেপণাস্ত্র দেয়ার জন্য ইরানকে দায়ী করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন সময় ইরানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উত্থাপন করলেন যখন মঙ্গলবার তার দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৌদি আরবের কাছে ১০০ কোটি ডলার মূল্যের সমরাস্ত্র বিক্রির খবর দিয়েছেন।
ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদিকে ক্ষমতায় বসাতে ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে দেশটিতে পাশবিক হামলা শুরু করে রিয়াদ। হুথি আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের নির্মূল করার লক্ষ্যে চালানো এসব হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ১০,০০০ নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৮