'ইয়েমেনে সৌদি হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ রিয়াদের ব্যর্থতারই প্রমাণ'
ইয়েমেনে আলে সৌদ সরকারের বর্বরোচিত গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েকদিনের ব্যাপক বিমান হামলায় ইয়েমেনে ১০০'র বেশি বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে। কয়েকদিন আগে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।
সৌদি আরব গত বছরের মার্চ থেকে ইয়েমেনে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে। এসব হামলায় এ পর্যন্ত ইয়েমেনের বহু স্কুল, হাসপাতাল, আবাসিক এলাকা, সড়ক, বাজার, শরণার্থী শিবির ধ্বংস হয়েছে। দেশটির অর্থনৈতিক অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। জাতিসংঘ বহুবার বলেছে, সৌদি আরব ইয়েমেনের এমনসব স্থাপনার ওপর হামলা চালাচ্ছে যার সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার সম্পর্ক রয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
ইয়েমেনের পলাতক ও পদত্যাগকারী প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদিকে ফের ক্ষমতায় বসানো এবং হাদির বিরোধী পক্ষ অর্থাৎ জনপ্রিয় আনসারুল্লাহকে দুর্বল করার জন্য সৌদি আরব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সৌদি আরব ইয়েমেনের ব্যাপারে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতা ঢাকতে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সৌদি শাসকরা দরিদ্র এ আরব দেশটিতে অবিরাম হামলা চালিয়ে মানবীয় বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। তারা ইয়েমেনে যে যুদ্ধনীতি অবলম্বন করেছে তার ফলে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ ছাড়া আর কিছুই পায় নি। অতীত অভিজ্ঞতায়ও দেখা গেছে- সামরিক হামলা কিংবা গণহত্যা চালিয়ে কখনো রাজনৈতিক লক্ষ্য হাসিল করা যায় না এবং এর ফলে কেবল সংকট ও নিরাপত্তাহীনতা আরো তীব্রতর হয়।
আবাসিক এলাকা, শিল্প এলাকা, বন্দর প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গার ওপর অবিরাম বিমান হামলা থেকে বোঝা যায়, ইয়েমেনের ব্যাপারে সৌদি আরবের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে। ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ ও আবাসিক এলাকার ওপর সৌদি আরব ও তার মিত্রদের বিমান হামলা এখন পর্যন্ত সাফল্য পায় নি। অন্যদিকে, আনসারুল্লাহ যোদ্ধারা দেশ রক্ষা এবং বিপ্লবী আদর্শ রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। নিজেদের ভাগ্য নিজেরা নির্ধারণ করা, স্বাধীন সরকার গঠন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করা -এসবই হচ্ছে ইয়েমেনের জনগণের মূল চেতনা। এ অবস্থায় সৌদি আরব ও তার মিত্ররা অসম যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে ইয়েমেনে তাদের অনুগত কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারবে না। ইয়েমেনের বিভিন্ন শহরের জনগণ প্রায় প্রতিদিনই রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ করছে। এসব বিক্ষোভ থেকে সৌদ আরবের প্রতি ইয়েমেনের জনগণের তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এটাও সৌদি আরবের ব্যর্থতার আরেকটি প্রমাণ।
বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করে সৌদি আরব ইয়েমেনে আগ্রাসন চালালেও আন্তর্জাতিক এ সংস্থা নীরব রয়েছে। জাতিসংঘ কেবল ইয়েমেনে মানবিক বিপর্যয়ের ব্যাপারে বিবৃতি দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে এবং এভাবে এ সংস্থা কার্যত সৌদি আরবকে সমর্থন করছে। বিশ্লেষকরা ইয়েমেন সংকটের ব্যাপারে জাতিসংঘের নির্লিপ্ততাকে ইয়েমেনে অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যেতে এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতির প্রতি তোয়াক্কা না করতে সৌদি আরবের প্রতি সবুজ সংকেত হিসেবে দেখছেন।#
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১২