রক্তে ভাসছে ইয়েমেন: সৌদি বর্বরতার শেষ কোথায়?
সৌদি আরব গত ১৯ মাস ধরে ইয়েমেনে আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। গতকাল তারা দরিদ্র এ দেশটির ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও নৃশংসতম হামলা চালিয়েছে।
ইয়েমেনের রাজধানী সানার দক্ষিণে একটি জানাযার নামাজে সৌদি বিমান হামলায় অন্তত ১৪৪ জন নিহত এবং ৫৩৪ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। ইয়েমেনের জনগণের শোকানুষ্ঠানে হামলার ঘটনা থেকে ওই দেশে সৌদি আরবের জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের প্রমাণ পাওয়া যায়। আর এ সবই হচ্ছে আন্তর্জাতিক সমাজের নীরবতার সুযোগে ও তাদেরই চোখের সামনে।
সৌদি আরব গত ১৯ মাস ধরে প্রতিদিনই নারী ও শিশুসহ ইয়েমেনের সাধারণ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে চলেছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের জনগণ অত্যন্ত সীমিত সুযোগ সুবিধা ও হাল্কা অস্ত্র নিয়ে সৌদি আগ্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।
গত বছরের ২৬ মার্চ ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে হামলা শুরুর আগে সৌদি কর্মকর্তারা বলেছিলেন, এ হামলা কেবল এক সপ্তাহ চলবে। কিন্তু গত ১৯ মাস ধরে সৌদি আরব ভয়াবহ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইয়েমেনের জনগণ তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলায় সৌদি আরব বিপাকে পড়েছে। ইয়েমেনের চোরাবালি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সৌদি শাসকরা এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা করছে না। মানবাধিকারের দাবিদার পাশ্চাত্যের অস্ত্র দিয়ে সৌদি আরব এ বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজধানী সানায় জানাযার নামাজে শোকার্ত মানুষের ওপর সৌদি আরবের পাশবিক হামলার ঘটনা এতটাই হৃদয়বিদারক ছিল যে, সৌদি আরবের মিত্র আমেরিকাও প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র নাদ প্রাইস বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে আমেরিকার নিরাপত্তা সহযোগিতার অর্থ এ নয় যে, ওয়াশিংটন রিয়াদের জন্য সাদা চেকে সই দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি আমেরিকার সমর্থন কমিয়ে আনা হয়েছে।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অ্যাডাম স্ট্যাম্প সৌদি আরব থেকে আমেরিকার বেশ কিছু সংখ্যক সামরিক উপদেষ্টা সরিয়ে আনার কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে আমেরিকার সামরিক সহায়তার অর্থ এ নয় যে, সৌদি আরব যা ইচ্ছা তাই করবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের এ বক্তব্য সৌদি আরবের নীতিতে কোনো ধরণের পরিবর্তন আনতে পারেনি। বরং বাস্তবে ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি-মার্কিন সহযোগিতা আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনে জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমের সমন্বয়কারী জেমি ম্যাক গোল্ডরিকও ইয়েমেনে জানাযার নামাজে শোকার্ত মানুষের ওপর সৌদি বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে অত্যন্ত লোমহর্যক ও হৃদয় বিদারক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অবিলম্বে সৌদি আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকা যদিও ইয়েমেনে গতকালের সৌদি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে কিন্তু তারপরও গত ১৯ মাস ধের সৌদি আগ্রাসন বন্ধে তারা কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানোর ক্ষেত্রে রিয়াদ আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। একদিকে জাতিসংঘ শিশুহত্যাকারী দেশের তালিকা থেকে সৌদি আরবের নাম বাদ দেয়ায় অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতি আমেরিকার অন্ধ সমর্থন বজায় থাকায় ইয়েমেনে গণহত্যা চালিয়েই যাচ্ছে সৌদি আরব।#
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/৯