ইয়েমেনে সৌদি নৃশংস গণহত্যার প্রতি আমেরিকার সমর্থন
সৌদি আরব যখন নিজেই ইচ্ছাকৃতভাবে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় গণহত্যা চালানোর কথা স্বীকার করেছে তখন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জন কিরবি ওই ঘটনাকে সৌদি নাগরিকদের রক্ষায় তাদের অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন।
সৌদি জঙ্গিবিমান গত শনিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাবার নামাযে জানাযায় অংশ নেয়া হাজার হাজার মানুষের ওপর নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করে। এতে অন্তত ৯০০ ব্যক্তি হতাহত হয়েছে। সৌদি আরবের ওই বর্বরতা এতোটাই লোমহর্ষক ও হৃদয়বিদারক ছিল যে, বিশ্বজনমতের চাপের মুখে সৌদি সরকার শেষ পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়।
জাতিসংঘে নিযুক্ত সৌদি আরবের স্থায়ী প্রতিনিধি নিরাপত্তা পরিষদে লেখা এক চিঠিতে জানাযার অনুষ্ঠানে হামলা চালানোর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আরবি ভাষার বিবিসি টিভি চ্যানেলও জানিয়েছে, সৌদি সরকার রাজধানী সানায় জানাযা অনুষ্ঠানে বিমান হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে।
সৌদি সরকার সানায় হত্যাকাণ্ডের দায় এড়ানোর জন্য বহু চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিশ্ব জনমত ও রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত দোষ স্বীকারের পাশাপাশি এ ব্যাপারে তদন্তের কাজ শুরু করেছে। সৌদি আরব যে তদন্ত শুরু করেছে তাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত তারা করবে কিনা সে বিষয়টি বাদ দিয়ে যে প্রশ্নগুলো সামনে আসে তা হচ্ছে, নিজেরা হামলা চালিয়ে কেন নিজেরাই ওই ঘটনার তদন্ত করবে? এছাড়া, সানায় সৌদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার কেন জাতিসংঘ কিংবা নিরাপত্তা পরিষদ অথবা মানবাধিকার পরিষদের ওপর ন্যস্ত করা হবে না? কেন এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে না?
এসব প্রশ্নের একটি জবাব হচ্ছে, বৃহৎ শক্তিগুলো বিশেষ করে আমেরিকা চায় না সানায় সৌদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত হোক। এমনকি আমেরিকা সরাসরি সৌদি আরবের বর্বরোচিত হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। অত্যন্ত বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জন কিরবি দাবি করেছেন, সিরিয়ায় রুশ হস্তক্ষেপের সঙ্গে ইয়েমেনে সৌদি হস্তক্ষেপের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তিনি দাবি করেন, নিজ দেশের জনগণকে রক্ষার জন্যই রিয়াদ ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। জন কিরবি আরো বলেন, "আমরা সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে সানায় হামলার ঘটনায় আমেরিকার গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। একই সঙ্গে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।"
এদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের মুখপাত্র গত দেড় বছর ধরে ইয়েমেনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের আহ্বানে সাড়া না দেয়ায় দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তার এ দুঃখ প্রকাশ থেকেও বোঝা যায়, জাতিসংঘের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বা অঙ্গসংগঠন ইয়েমেনে সৌদি নৃশংসতার ব্যাপারে স্বাধীন তদন্ত চায় কিন্তু বৃহৎ শক্তিগুলো বিশেষ করে আমেরিকা তদন্ত কাজে বাধা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরব নিজেই গণহত্যা চালিয়ে নিজেই এই ঘটনার তদন্ত করার পদক্ষেপ নিয়েছে যা খুবই হাস্যকর এবং এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। এ অবস্থায় সৌদি আরব যদি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চালিয়েও কোনো মহলের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত এর ফলাফল প্রকাশ না করে তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।#
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১২