সত্যিকারের ইসলামী জাগরণের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i23887-সত্যিকারের_ইসলামী_জাগরণের_দিকেই_এগিয়ে_যাচ্ছে_মধ্যপ্রাচ্য_পরিস্থিতি
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ইসলামী জাগরণ বিষয়ক বিশ্ব পরিষদের ৯ম সুপ্রিম কাউন্সিলের সম্মেলন বিবৃতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। বিবৃতিতে ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য এসেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইসলামী জাগরণের বিকাশ ঘটছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
অক্টোবর ২৪, ২০১৬ ১৫:৩৭ Asia/Dhaka

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ইসলামী জাগরণ বিষয়ক বিশ্ব পরিষদের ৯ম সুপ্রিম কাউন্সিলের সম্মেলন বিবৃতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। বিবৃতিতে ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য এসেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইসলামী জাগরণের বিকাশ ঘটছে।

বাগদাদ সম্মেলনে বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো থেকে আসা ইসলামী বিশেষজ্ঞ এবং বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর নেতৃত্বে প্রকৃত ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে এ অঞ্চলে সত্যিকারের ইসলামী জাগরণ শুরু হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামী জাগরণ ঠেকানোর জন্য সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ইসরাইলি বাধা ও ষড়যন্ত্র সত্বেও দিন দিন ইসলামী জাগরণ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে।

আজ থেকে প্রায় ছয় বছর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর উদ্যোগে ইসলামী জাগরণ বিষয়ক বিশ্ব পরিষদ গঠিত হয়েছিল। ২০১১ সালে উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিমা এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে ইসলামী গণজাগরণ শুরু হওয়ার পর এবং একই সঙ্গে এ জাগরণের বিরুদ্ধে ইসলামের শত্রুদের ষড়যন্ত্র বাড়তে থাকায় ইসলামী বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে এমন একটি পরিষদ গঠনের প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল যারা কিনা শত্রুদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে মুসলিম বিশ্বকে অবহিত করবে। ঠিক এমনই এক অবস্থায় ইসলামী জাগরণ বিষয়ক বিশ্ব পরিষদ গঠিত করা হয়েছিল। এ অঞ্চলে শুরু হওয়া ইসলামী জাগরণের বিরুদ্ধে শত্রুদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দিক নির্দেশনায় ওই পরিষদ গঠিত হওয়ার পর ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন, ফিলিস্তিনসহ সমগ্র এ অঞ্চলে ইসলামী জাগরণের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে শত্রুদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা এবং ইসলামী জাগরণ অব্যাহত রাখার জন্য মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও বিচক্ষণতা দু'টিই জরুরি বিষয়। বর্তমানে মুসলিম দেশগুলোর ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ ও জনগণের মধ্যে ঐক্য ও সচেতনতা বেড়েছে। তারা ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন ও ফিলিস্তিনে ইসলামী জাগরণ দমনে শত্রুদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

ইসলামী জাগরণ বিষয়ক বিশ্ব পরিষদের সম্মেলন যে দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে  অর্থাৎ ইরাক বর্তমানে দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রথম কাতারে রয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইরত ইরাকের সরকার ও জনগণের প্রতি বিশ্ব মুসলিম নেতৃবৃন্দের সমর্থন রয়েছে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনের জনগণের তীব্র প্রতিরোধ থেকে বোঝা যায়, এ অঞ্চলে ইসলামী জাগরণের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

ইরাক সম্মেলনে আসা ২২টি দেশের মুসলিম বিশেষজ্ঞ ও ধর্মীয় নেতারা শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় ইরাক ও সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে ইয়েমেন ও ফিলিস্তিন জনগণের প্রতিরোধ যুদ্ধের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

ইসলামের শত্রুরা মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ বাধানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একদিকে তারা বিভিন্ন দেশ থেকে সন্ত্রাসীদের এনে সিরিয়ায় পাঠিয়ে গোলযোগ বাধিয়ে রেখেছে অন্যদিকে ইরাককে খণ্ড বিখণ্ড করার ষড়যন্ত্র করছে। এরই আলোকে শত্রুদের আচরণের বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হবে। সিরিয়া ও ইরাকের জনগণ তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও তাদের সমর্থক দেশগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের জনগণ সৌদি আগ্রাসন এবং ফিলিস্তিনের জনগণ ইসরাইলী আগ্রাসন মোকাবেলা করে যাচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দিক নির্দেশনায় মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামী জাগরণ অব্যাহত রয়েছে।#     

পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২৪