সন্ত্রাসীদের রক্ষার জন্য যুদ্ধবিরতিকে ব্যবহার করছে আমেরিকা: আসাদ
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i24763-সন্ত্রাসীদের_রক্ষার_জন্য_যুদ্ধবিরতিকে_ব্যবহার_করছে_আমেরিকা_আসাদ
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার জন্য আমেরিকা ও তার মিত্রদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে যখন মার্কিন সমর্থিত সন্ত্রাসীরা নাকানিচুবানি খায় তখনই কেবল আমেরিকা যুদ্ধবিরতি করতে রাজি হয়। আমেরিকা আসলে সন্ত্রাসীদের রক্ষার জন্য যুদ্ধবিরতিকে ব্যবহার করছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ০৪, ২০১৬ ০৯:২০ Asia/Dhaka
  • সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদ (বামে)
    সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদ (বামে)

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার জন্য আমেরিকা ও তার মিত্রদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে যখন মার্কিন সমর্থিত সন্ত্রাসীরা নাকানিচুবানি খায় তখনই কেবল আমেরিকা যুদ্ধবিরতি করতে রাজি হয়। আমেরিকা আসলে সন্ত্রাসীদের রক্ষার জন্য যুদ্ধবিরতিকে ব্যবহার করছে।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) সার্বিয়ার পলিটিকা পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদ এসব কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকা তার নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ও সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক গুটি হিসেবে ব্যহার করছে। তিনি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে মার্কিন আহ্বানের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, “তারা সবসময় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায় কেবলমাত্র তখনই যখন সন্ত্রাসীরা যুদ্ধক্ষেত্রে বাজে অবস্থার মধ্যে পড়ে; তাদের যুদ্ধবিরতির আহ্বান বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নয়।” পশ্চিমারা যুদ্ধবিরতিকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসীদের জন্য নতুন অস্ত্র, অর্থ ও সামরিক সরঞ্জাম আনার সুযোগ করে দেয়ার জন্য যাতে সন্ত্রাসীরা আবার শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।  

সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট আসাদ প্রশ্ন রেখে বলেন, “এ অবস্থায় কাকে দোষ দেবেন? দোষী আমেরিকা ও তার পশ্চিমা মিত্ররা কারণ তারা সিরিয়া ইস্যুতে সন্ত্রাসীদের গুটি হিসেবে ব্যবহার করছে; তারা প্রকৃতপক্ষে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নয়।”

প্রেসিডেন্ট আসাদ বলেন, ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন দিয়ে সিরিয়া, রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে শক্তিক্ষয়ের যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।  

Image Caption

 

রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতার পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিরিয়ায় এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়। কিন্তু তার মধ্যেই সিরিয়ার সেনাদের ওপর মার্কিন বাহিনী বিমান হামলা করলে দামেস্ক যুদ্ধবিরতি আর বাড়াতে রাজি হয় নি। ওই হামলায় সিরিয়ার অন্তত ৮৩ জন সেনা নিহত ও ১২০ জন আহত হয়।

এ সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট আসাদ বলেন, এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা বা ভুলের কোনো বিষয় ছিল না বরং এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হামলা। ওই সময় উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ ও জাবহাত ফাতেহ আশ-শাম তাদের অস্তিত্বের সংকটে ছিল। সে অবস্থা থেকে তাদেরকে বাঁচানোর জন্য এবং সিরিয়ার সেনাদের অবস্থান দুর্বল করতে মার্কিন বাহিনী সিরিয়ার সেনাদের ওপর হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনী কোনো ভবনের ওপর হামলা চালায় নি; তারা হামলা চালিয়েছে তিনটি বড় পাহাড়ের ওপর। একে ভুল বলে চালিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। মার্কিন হামলার পরপরই দায়েশ সন্ত্রাসীরা সিরিয়ার আক্রান্ত সেনাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি আবারো প্রশ্ন রেখে বলেন, দায়েশ সন্ত্রাসীরা কী করে জানলো যে, মার্কিন বাহিনী সিরিয়ার সেনাদের ওপর হামলা চালাবে? প্রকৃতপক্ষে, আগে থেকেই সেখানে দায়েশ সন্ত্রাসীদের জড়ো করে পাহাড়ে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল এবং এ ঘটনাই পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে দেয় যে, মার্কিনীরা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে।

এ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট আসাদ আরো বলেন, “আলেপ্পোয় তৎপর সন্ত্রাসীরা জাতিসংঘের ত্রাণবহরে হামলার জন্য দায়ী। ওই বহরে হামলার বিষয়ে তাদের কোনো স্বার্থ ছিল যা আমাদের জানা নেই।”

গত ১৯ সেপ্টেম্বর ট্রাক বহরের ওই হামলা হয় এবং এতে ৩১টি ট্রাকের মধ্যে অন্তত ১৮টি ট্রাক ধ্বংস হয়ে যায়। এ বিষয়ে পশ্চিমারা অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, সিরিয়ার সেনারা ওই হামলা চালিয়েছে।#

পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/৪