ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি: দিশেহারা সৌদি আরব
দারিদ্রপীড়িত মুসলিম দেশ ইয়েমেন সৌদি আগ্রাসনের জবাব দিতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৭৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ইয়েমেনের সেনাবাহিনী ও গণবাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে। ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে প্রতিবেশী দেশ ইয়েমেনে হামলা শুরু করে সৌদি আরব। সৌদি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ইয়েমেনি নিহত হয়েছে।
তবে সৌদি আগ্রাসনের সামনে হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি দেশটির সাহসী জনগণ। হাতের কাছে যার যা ছিল তা নিয়েই প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এরিমধ্যে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী ও জনগণ ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি প্রদর্শনেও সক্ষম হয়েছে। আর এই ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিই সৌদি আরবের উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইয়েমেনের গণবাহিনী ও সেনাবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন ও পাল্লাতেও পরিবর্তন আসছে। ইয়েমেনিরা নতুন নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করার কারণে সৌদি আরব দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ইয়েমেন যে ৭৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তার মধ্যে ৪৮টিই সৌদি আরবের ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে। ইয়েমেনের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বোরকান-ওয়ান, কাহেরা-ওয়ান এবং যিলযাল-ওয়ান। এসব ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি ভূখণ্ডের পাশাপাশি ইয়েমেনের অভ্যন্তরে অবস্থান নেয়া সৌদি অনুচরদের ওপরও আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর জেদ্দার সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইয়েমেনিরা যে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে সেটাকে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির একটি বড় প্রদর্শনী বলা যেতে পারে। ইয়েমেন থেকে জেদ্দার ওই ঘাঁটির দূরত্ব হচ্ছে সাড়ে ছয়শ' কিলোমিটার। এ হামলায় বোরকান-ওয়ান ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ইয়েমেনিরা জেদ্দার সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলেও সৌদি আরব সেটাকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সৌদি আরবের রাজতান্ত্রিক সরকার প্রচার চালাচ্ছে যে, পবিত্র মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে যা শতভাগ মিথ্যাচার। তায়েফে কিং ফাহাদ ঘাঁটির দূরত্ব হচ্ছে প্রায় সাড়ে পাঁচশ' কিলোমিটার। সেখানে হামলার ক্ষেত্রেও বোরকান-ওয়ান ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে ইয়েমেনের জনপ্রিয় সংগঠন আনসারুল্লাহর নেতৃত্বাধীন গণবাহিনী এবং সেনাবাহিনী সৌদি আরবের আরও গভীরে হামলা চালানোর ক্ষমতা রাখে। ইয়েমেনিদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা যেহেতু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে সে কারণে সৌদি আরব আগে থেকেই আঁচ করতে পারছে না যে, পরবর্তী হামলাটি কোথায় হবে।
যুদ্ধ ও সংঘাত সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু ইয়েমেনে সেই যুদ্ধ ও সংঘাত শুরু করেছে সৌদি আরব। সৌদি আরবের দারিদ্রপীড়িত প্রতিবেশী দেশ ইয়েমেন কোনো ধরনের অপরাধ না করেই আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অপব্যবহার করে দেশটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে সৌদি আরব। এ পর্যন্ত সৌদি আগ্রাসনে নিহত হয়েছেন হাজার হাজার ইয়েমেনি। তারা আত্মরক্ষার্থে মাঝে-মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপসহ নানা উপায়ে আগ্রাসনের জবাব দিচ্ছে।
যে কোনো মানুষ ও দেশই আত্মরক্ষার অধিকার রাখে। ইয়েমেনের জনগণ ও সেনাবাহিনী এ অধিকারেই আত্মরক্ষার চেষ্টা করছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বিশ্বের অনেকেই এ বাস্তবতা উপলব্ধি না করে সৌদি আরবসহ প্রভাবশালী দেশগুলোর অপপ্রচারে কান দিচ্ছে।#
পার্সটুডে/সোহেল আহম্মেদ/১৮