আটকে দিল অর্থ সহায়তা: ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i34276-আটকে_দিল_অর্থ_সহায়তা_ফিলিস্তিনিদের_বিরুদ্ধে_কঠোর_হচ্ছে_ট্রাম্প_প্রশাসন
আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চরম শত্রুতামূলক অবস্থান নিয়েছে। ফিলিস্তিনে ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও সম্প্রসারণকামী নীতির প্রতি আমেরিকার সমর্থন এখন অনেকটাই প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
মার্চ ১০, ২০১৭ ১৫:২৭ Asia/Dhaka

আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চরম শত্রুতামূলক অবস্থান নিয়েছে। ফিলিস্তিনে ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও সম্প্রসারণকামী নীতির প্রতি আমেরিকার সমর্থন এখন অনেকটাই প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

আমেরিকা ও ইসরাইলের সম্প্রসারণকামী নীতি মেনে নিতে বাধ্য করার জন্য ওয়াশিংটন ফিলিস্তিনিদের ওপর আরো বেশি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির পদক্ষেপ নিয়েছে। কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের জন্য যে অর্থ সাহায্য বরাদ্দ দিয়েছিলেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের  জন্য ওয়াশিংটনের দেয়া ২২ কোটি ডলার সাহায্য আটকে গেল।

এদিকে, মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটি ইসরাইলে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত হিসেবে ডেভিড ফ্রেডম্যানকে মনোনীত করেছে। জানা গেছে ফ্রেডম্যান হচ্ছে দখলদার ইসরাইলের একনিষ্ঠ সমর্থক। আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা ছিলেন ডেভিড ফ্রেডম্যান এবং তিনি আমেরিকার দূতাবাস তেলআবিব থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসে স্থানান্তর প্রস্তাবের সমর্থক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন সাহায্য বন্ধ করে দেয়াসহ ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নানা পদক্ষেপ নেয়া থেকে বোঝা যায়, এই সামান্যতম অর্থ সহায়তা দেয়াকেও মার্কিন কর্মকর্তারা সহ্য করতে পারছেন না। ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অর্থ সহায়তা বন্ধের পদক্ষেপ থেকে এটাও প্রমাণিত হয়েছে, স্বশাসন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকাকে খেদমত করে গেলেও এবং ইসরাইলের সঙ্গে আপোষ প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানালেও শেষ পর্যন্ত মার্কিন অর্থ সহায়তা ধরে রাখতে পারেনি।

আমেরিকা ফিলিস্তিনিদেরকে এই সামান্য অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে, অথচ প্রতি বছর অফেরতযোগ্য ৩০০ কোটি ডলার সহায়তা ঠিকই ইসরাইলকে দিয়ে যাচ্ছে। এ থেকেই ইসরাইলের প্রতি বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের অন্ধ সমর্থনের বিষয়টি উপলব্ধি করা যায়। উপরন্তু  আমেরিকা এমন এক ব্যক্তিকে তেলআবিবে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে  যে কিনা মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে সরিয়ে বায়তুল মোকাদ্দাসে নিয়ে যেতে বদ্ধ পরিকর যাতে করে ইসরাইলের সম্প্রসারণকামী নীতি বাস্তবায়ন আরো সহজ হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সর্বশেষ যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তা ফিলিস্তিনসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে দখলদারিত্ব আরো জোরদার করার জন্য ইসরাইলের প্রতি এক ধরণের সবুজ সংকেত। এ কারণে সম্প্রতি এ অঞ্চলে ইসরাইল আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

গত কয়েক মাসে ইসরাইলি কর্মকর্তারা বহুবার মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। আগ্রাসী লক্ষ্য বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও যুদ্ধমন্ত্রী এভিগডোর লিবারম্যান মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নানা শলাপরামর্শ করেছেন। তবে ইসরাইল ও মার্কিন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের জনগণও সচেতন এবং তাদের ইন্তিফাদা গণআন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।#         

পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১০