হিজবুল্লাহর বিজয় উৎসব শুরু; লেবাননে কী ঘটেছিল ২৫ মে?
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i38684-হিজবুল্লাহর_বিজয়_উৎসব_শুরু_লেবাননে_কী_ঘটেছিল_২৫_মে
আজ রাতে বিজয় উৎসব পালন করছেন লেবাননের জনগণ। ২০০০ সালের ২৫ মে ছিল মধ্যপ্রাচ্যে দখলদার ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রামীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর সাফল্যের সূচনার দিন। হিজবুল্লাহর আক্রমণের মুখে এদিন ইসরাইলি বাহিনী অত্যন্ত লজ্জাজনকভাবে দক্ষিণ লেবাননের দখলীকৃত বিশাল এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।
(last modified 2026-07-16T09:42:03+00:00 )
মে ২৫, ২০১৭ ১৬:৫৫ Asia/Dhaka
  • হিজবুল্লাহর বিজয় উৎসব শুরু; লেবাননে কী ঘটেছিল ২৫ মে?

আজ রাতে বিজয় উৎসব পালন করছেন লেবাননের জনগণ। ২০০০ সালের ২৫ মে ছিল মধ্যপ্রাচ্যে দখলদার ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রামীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর সাফল্যের সূচনার দিন। হিজবুল্লাহর আক্রমণের মুখে এদিন ইসরাইলি বাহিনী অত্যন্ত লজ্জাজনকভাবে দক্ষিণ লেবাননের দখলীকৃত বিশাল এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।

জবর দখলের মাধ্যমে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর হিজবুল্লাহর প্রতিরোধের মুখে এটাই ছিল ইসরাইলের প্রথম বড় পরাজয় এবং বড় ধরণের ব্যর্থতা। ১৯৪৮ সালে অবৈধভাবে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর মধ্যপ্রাচ্য অনেকটাই ইসরাইলের অধীনস্থ হয়ে পড়ে। সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা ছাড়াও বিশ্ব অঙ্গনে বর্ণবাদী লক্ষ্য বাস্তবায়ন করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকেই ইসরাইল সবসময়ই ওই অঞ্চলের দেশগুলোর বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়ে এসেছে।

১৯৮২ সালে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ইসরাইল দক্ষিণ লেবানন অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল। ইসরাইল চেয়েছিল সমগ্র লেবানন দখল করে নিতে। এ অবস্থায় যদি লেবাননের জনগণকে নিয়ে হিজবুল্লাহ গঠিত না হত তাহলে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসরাইল আজ পুরো লেবাননই দখল করে নিত। হিজবুল্লাহর নেতৃত্বে লেবাননের জনগণের প্রতিরোধের কারণে ইসরাইলের সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায় এবং শুরু হতে থাকে একের পর এক ইসরাইল ও তার সমর্থক পাশ্চাত্যের দেশগুলোর ব্যর্থতার পালা। এরই ধারাবাহিকতায় তীব্র প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত ইসরাইল অত্যন্ত লজ্জাজনকভাবে ২০০০ সালের ২৫ মে দক্ষিণ লেবানন থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এ ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে ইসরাইলের ব্যর্থতার সূচনা হয়।

এরপর ইসরাইল ২০০৬ সালেও লেবাননের বিরুদ্ধে ৩৩ দিনের যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু হিজবুল্লাহর প্রচণ্ড প্রতিরোধের কারণে সেবারও ইসরাইল চরমভাবে ব্যর্থ হয়ে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। এটি ছিল ইসরাইলের দ্বিতীয় বড় ধরণের পরাজয়। অবশ্য হিজবুল্লাহর বিজয় সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ওপরই বিরাট প্রভাব ফেলেছে। মূলত হিজবুল্লাহ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের জন্য মডেল বা আদর্শে পরিণত হয়েছে।

হিজবুল্লাহর বিজয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে তারা নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়। গত দু’দশক ধরে ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধের কারণে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধারা ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। হিজবুল্লাহর বিজয়ের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল বিরোধী অন্যান্য প্রতিরোধ সংগ্রামী বিশেষ করে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিরোধ সংগ্রাম আরো বেগবান হয়েছে। হিজবুল্লাহ থেকে প্রেরণা নিয়ে ফিলিস্তিনিরাও ২০০৫ সালে গাজা থেকে ইসরাইলকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়।

বর্তমানে লেবানন একদিকে ইসরাইলি হামলার হুমকির মুখে রয়েছে অন্যদিকে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের পক্ষ থেকেও হুমকির সম্মুখীন। এ অবস্থায় লেবাননের জনগণ মনে করে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে একমাত্র প্রতিরোধের মাধ্যমেই শত্রুদের হুমকি মোকাবেলা করা সম্ভব।#