ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনের সৌদি উদ্যোগ
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i40430-ইহুদিবাদী_ইসরাইলের_সঙ্গে_আনুষ্ঠানিক_সম্পর্ক_স্থাপনের_সৌদি_উদ্যোগ
সৌদি আরব ও ইহুদিবাদী ইসরাইল বহু বছর ধরে গোপন সম্পর্ক রক্ষা করার পর এবার এই সম্পর্ক প্রকাশ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটি ইহুদিবাদী দৈনিক খবর দিয়েছে, সৌদি আরব ও তার মিত্রদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরাইল।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ১৮, ২০১৭ ১৩:৪০ Asia/Dhaka

সৌদি আরব ও ইহুদিবাদী ইসরাইল বহু বছর ধরে গোপন সম্পর্ক রক্ষা করার পর এবার এই সম্পর্ক প্রকাশ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটি ইহুদিবাদী দৈনিক খবর দিয়েছে, সৌদি আরব ও তার মিত্রদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরাইল।

আরব ও পশ্চিমা সূত্রের বরাত দিয়ে দৈনিক হারেতজ খবর দিয়েছে, ইসরাইল ও সৌদি আরব প্রকাশ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিয়েছে।  দু’পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী সৌদি আরব ইসরাইলি কোম্পানিগুলোকে পারস্য উপসাগরে বাণিজ্য করার অনুমতি দেয়ার পাশাপাশি ইসরাইলের এল আল এয়ারলাইন্সকে (El Al Airlines) নিজের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।  

কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে কথিত ‘চূড়ান্ত’ শান্তি প্রতিষ্ঠার যে ষড়যন্ত্রমূলক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে সৌদি আরব।

এর আগে চলতি মাসের গোড়ার দিকে ইসরাইলি যুদ্ধমন্ত্রী এভিগদোর লিবারম্যান বলেছিলেন, কাতারের সঙ্গে আরব দেশগুলোর কূটনৈতিক টানাপড়েন আরব শাসকদের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তার এ বক্তব্য এ বাস্তবতাকে দিবালোকের মতো স্পষ্ট করে দেয় যে, মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব যেসব ধ্বংসাত্মক তৎপরতা চালাচ্ছে তার পেছনে উপদেষ্টার ভূমিকা পালন করছে তেল আবিব। সাম্প্রতিক সময়ে কাতার কোনো কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতি যে সমর্থন জানানো শুরু করেছিল তা স্বাভাবিকভাবেই ইসরাইলের ভালো লাগেনি যার পরিণতিতে রিয়াদ দোহার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

অবশ্য ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও ইসরাইলের অভিন্ন অবস্থান কোনো নতুন ঘটনা নয়। ইহুদিবাদী কর্মকর্তারাই স্বীকার করেছেন, ২০১৪ সালে গাজা উপত্যকার ওপর ইসরাইলি আগ্রাসনে তেল আবিবকে সহযোগিতা করেছে রিয়াদ। এর আগে ২০১০ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত দৈনিক টাইমস খবর দিয়েছিল, ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধের সমর্থক দেশগুলোতে বিমান হামলা চালানোর কাজে তেল আবিবকে নিজের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে রেখেছে সৌদি আরব।

বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর কাছে এতদিন একটি ঘৃণিত সরকার হিসেবে চিহ্নিত ছিল ইহুদিবাদী ইসরাইল। কিন্তু মুসলিম বিশ্বের নেতার দাবিদার সৌদি আরব তেল আবিবের সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পর্ক স্থাপন করলে ইহুদিবাদী ইসরাইলকে আর মুসলিম দেশগুলোর সামনে একঘরে অবস্থায় থাকতে হবে না। সেইসঙ্গে সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য আরব দেশের তেল সম্পদের ওপর এতদিন তেল আবিবের যে লোলুপ দৃষ্টি ছিল তা বাস্তবায়নের উপযুক্ত সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মুসলিম বিশ্বের নেতা হিসেবে সৌদি আরবের যখন উচিত ছিল মুসলমানদের প্রথম কেবলা আল-আকসা মসজিদ জবরদখলকারী শক্তি ইসরাইলকে যেকোনো উপায়ে ধ্বংস করে ফেলা সেখানে রিয়াদের পক্ষ থেকে এই অবৈধ রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া মুসলিম বিশ্বের পিঠে খঞ্জর মারার শামিল।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৮