ইয়েমেনের শিশুদের ওপর আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি সরকার: জাতিসংঘ
সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে আগ্রাসন চালাতে গিয়ে দেশটির শিশুদের অধিকার লঙ্ঘন করছে বলে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের একাংশে বলা হয়েছে ইয়েমেনে নিহত শিশুদের ৫০ শতাংশই নিহত হয়েছে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের আ্গ্রাসনে এবং আগ্রাসী সৌদি জোট ২০১৬ সালে ইয়েমেনি শিশুদের অধিকার ব্যাপক মাত্রায় লঙ্ঘন করেছে।
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ব্যাপক-বিধ্বংসী আগ্রাসন ও নির্বিচার বোমা বর্ষণ চলছে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে। ইয়েমেনি শিশুদের ওপর সৌদি হত্যাযজ্ঞের বিষয়টি এর আগেও তুলে ধরেছিলেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন। এখন জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও ইয়েমেনি শিশুদের ওপর সৌদি বর্বরতা ও নৃশংসতার বিষয়টি বিশ্ব-জনমতের কাছে তুলে ধরতে বাধ্য হলেন।
অবশ্য জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন ইয়েমেনি শিশুদের ঘাতক সৌদি সরকারকে বিশ্বের শিশু-ঘাতক সরকারগুলোর তালিকায় স্থান দিয়েও পরে আবার সৌদি সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে গত বছরের জুন মাসে রিয়াদকে ওই কালো তালিকা থেকে বাদ দেন।
শিশু-ঘাতক দেশগুলোর তালিকা থেকে রিয়াদকে বাদ দেয়া না হলে জাতিসংঘকে চাঁদা ও সাহায্য দেয়া বন্ধ করে দেবে বলে সৌদি রাজতান্ত্রিক সরকার বান কি মুনকে হুমকি দিয়েছিল।
এভাবে খোদ জাতিসংঘই প্রভাবশালী নানা মহলের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে মানবাধিকার বিষয়ে মাঝে মধ্যেই স্ব-বিরোধী, অনৈতিক ও দ্বিমুখী আচরণ করছে।
সৌদি সরকার স্বদেশে, ইয়েমেন ও বাহরাইনসহ বিশ্বের বহু দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ব্যাপক নিন্দার মুখোমুখি হয়েছে।
অথচ মানবাধিকার লঙ্ঘন ছাড়াও দেশে দেশে তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেয়ার অন্যতম প্রধান নাটের গুরু হওয়া সত্ত্বেও এই সৌদি সরকারকেই করা হয়েছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সদস্য!
ইয়েমেনে প্রায় তিন হাজার নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ হাজার বেসামরিক নাগরিক হত্যার জন্য দায়ী সৌদি সরকারের বিচার হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক আদালতে। সৌদি সরকার সুপরিকল্পিতভাবে কলেরার জীবাণু ছড়িয়ে দিয়ে শত শত শিশু ও নারীসহ ইয়েমেনের বহু বেসামরিক জনগণকে হত্যা করছে বলেও অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।
ইয়েমেনের রাস্তাঘাট, কৃষি-ক্ষেত্র, হাসপাতাল, বাজার, মসজিদ, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা এবং আবাসিক ভবনসহ সব ধরনের বেসামরিক অবকাঠামোর এক বড় অংশই ধ্বংস হয়ে গেছে নির্বিচার সৌদি বিমান হামলায়। এ ছাড়াও আকাশ ও পানিপথসহ সব দিক থেকে ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ফলে সেখানে ওষুধ ও খাদ্যসহ নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সংকট দেখা দিয়েছে। ইয়েমেনের কয়েক মিলিয়ন জনগণ এখন শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে সৌদি হামলায় তাদের বাসভবন ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে।
তাই সৌদি সরকারকে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী ও শিশু-ঘাতক সরকারগুলোর কালো তালিকায় স্থান দিতে হবে বলে বিশ্ব-জনমত জাতিসংঘের কাছে প্রত্যাশা করছে।
সম্প্রতি ইয়েমেন নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত বিসমার্ক সোয়াঙ্গিন বলেছেন, ‘ইয়েমেনে আগ্রাসন চালানো হচ্ছে শিশুদের ওপর। শিশুরা সেখানে অপুষ্টির শিকার হয়ে মারা যাচ্ছে। আরও শোচনীয় ব্যাপার হল সেখানে এখন কলেরা মহামারীও জোরদার হয়েছে।' #
পার্সটুডে/এমএএইচ/১৮