ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন স্বীকারোক্তির চেয়েও বেশি সামরিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত: ওয়াশিংটন পোস্ট
https://parstoday.ir/bn/news/event-i159222-ইরানের_পাল্টা_হামলায়_মার্কিন_স্বীকারোক্তির_চেয়েও_বেশি_সামরিক_সম্পদ_ক্ষতিগ্রস্ত_ওয়াশিংটন_পোস্ট
পার্সটুডে: স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানের পাল্টা বিমান হামলায় পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের স্বীকারোক্তির তুলনায় অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
(last modified 2026-05-07T11:08:44+00:00 )
মে ০৭, ২০২৬ ১৬:৩১ Asia/Dhaka
  • ইরানের রাষ্ট্র-সমর্থিত গণমাধ্যম কর্তৃক প্রকাশিত ও টীকাযুক্ত কুয়েতের বুহরিং ক্যাম্পের ক্ষয়ক্ষতির ছবি। (সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট)
    ইরানের রাষ্ট্র-সমর্থিত গণমাধ্যম কর্তৃক প্রকাশিত ও টীকাযুক্ত কুয়েতের বুহরিং ক্যাম্পের ক্ষয়ক্ষতির ছবি। (সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট)

পার্সটুডে: স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানের পাল্টা বিমান হামলায় পুরো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের স্বীকারোক্তির তুলনায় অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পশ্চিম এশিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর অন্তত ২২৮টি স্থাপনা বা সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে চিহ্নিত লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল হ্যাঙ্গার, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, বিমান এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার, যোগাযোগ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিমান হামলায় অঞ্চলের কিছু মার্কিন ঘাঁটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে যে সেগুলোতে স্বাভাবিক মাত্রায় সেনা মোতায়েন রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে কমান্ডাররা সেসব ঘাঁটি থেকে অধিকাংশ সেনা সরিয়ে নেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রধান স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টর ও প্ল্যানেটকে যুদ্ধাঞ্চলের চিত্র প্রকাশে বিধিনিষেধ আরোপ করতে চাপ দিয়েছে—যার মধ্যে ছিল প্রকাশ বিলম্বিত করা বা আটকে রাখা। ফলে ইরানের পাল্টা হামলার প্রকৃত প্রভাব স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন, এমনকি প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

তবে ইরানি সংবাদ সংস্থাগুলো যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই নিয়মিতভাবে সামাজিক মাধ্যমে উচ্চ রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে আসছে।

তদন্তের জন্য ওয়াশিংটন পোস্ট এসব ছবির মধ্যে ১০০টিরও বেশি পর্যালোচনা করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস স্যাটেলাইট সিস্টেমের নিম্ন রেজোলিউশনের তথ্য এবং যেখানে পাওয়া গেছে সেখানে প্ল্যানেটের উচ্চ রেজোলিউশনের ছবির সঙ্গে তুলনা করে ১০৯টি ছবি যাচাই করা হয়।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, তারা ইরানের প্রকাশিত কোনও ছবিতেই কারসাজির প্রমাণ পায়নি।

মোট হিসেবে, পুরো অঞ্চলের ১৫টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ২১৭টি স্থাপনা এবং ১১টি সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

যেসব বিশেষজ্ঞ এই তথ্য পর্যালোচনা করেছেন, তারা বলেছেন এই ক্ষয়ক্ষতি ইঙ্গিত করে যে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের লক্ষ্যভেদ সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছিল।

তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো আধুনিক ড্রোন যুদ্ধের সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খাওয়াতে পারেনি এবং কিছু ঘাঁটির সুরক্ষা যথেষ্ট ছিল না।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান, যিনি ওয়াশিংটন পোস্টের অনুরোধে ইরানি ছবিগুলো পর্যালোচনা করেন, বলেন:

“ইরানের হামলাগুলো ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। এলোমেলো গর্তের কোনও চিহ্ন নেই যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।”

এপ্রিলের শেষ দিকে এনবিসি নিউজ জানায়, ইরানের একটি যুদ্ধবিমান কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে বোমা হামলা চালায়। বহু বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনও যুদ্ধবিমান সরাসরি মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ইরান ১১টি ঘাঁটিতে ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। আর সিএনএন গত সপ্তাহে জানায়, ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটির একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

এছাড়াও বাহরাইন ও কুয়েতের ঘাঁটিগুলোতে থাকা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরের একটি স্যাটেলাইট ডিশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হামলায় কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিংয়ের একটি বিদ্যুৎ-কেন্দ্র এবং একাধিক ঘাঁটির জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

ইরানের প্রকাশিত চিত্রে আরও অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ দেখা যায়। এর মধ্যে ছিল কুয়েতের ঘাঁটি এবং পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরের রেডোম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা।

এছাড়াও জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতির চিত্রও দেখা যায়।

অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল কাতারের দ্বিতীয় একটি স্যাটেলাইট কেন্দ্র, পাশাপাশি সৌদি আরবে একটি ই-৩ সেন্ট্রি বিমান এবং একটি জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমান।

তবে ওয়াশিংটন পোস্ট উল্লেখ করেছে, তাদের অনুসন্ধান কেবল সংগ্রহযোগ্য স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে করা আংশিক মূল্যায়ন।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ইরানের পাল্টা সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনাকারীদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে, যার মধ্যে সেনাদের আরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার বিষয়ও রয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানায়, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আর বড় সংখ্যায় আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে সেনা ফিরিয়ে নাও আনতে পারে, যদিও এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/০৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন