আরবদের সঙ্গে নজিরবিহীন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার দাবি নেতানিয়াহুর: বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা
দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, আরব দেশগুলোর সঙ্গে তাদের নজিরবিহীন সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তিনি এটাকে অনেক বড় পরিবর্তন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে দাবি করেছেন, 'আরব দেশগুলোর সঙ্গে ব্যাপকভিত্তিক সহযোগিতার ধরন কেমন হবে তা এখনো স্পষ্ট না হলেও নিঃসন্দেহে বলা যায় অতীতের তুলনায় সহযোগিতা বাড়বে এবং এটি অনেক বড় ঘটনা।'
তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে 'নজিরবিহীন' ও 'অনেক বড় পরিবর্তন' বলে যে দাবি করেছেন তা কতটুকু বাস্তবসম্মত তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রকৃতপক্ষে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিকে আড়াল করা সম্ভব নয়। কিন্তু নেতানিয়াহু আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে 'বড় পরিবর্তন' ও 'নজিরবিহীন' বলে যে দাবি করেছেন তাকে অনেকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করছেন।
প্রথমত, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর এ দাবি মিথ্যা। কারণ সব আরব দেশের সাথে ইসরাইলের বড় ধরণের কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। বরং সৌদি আরব ও বাহরাইনের সঙ্গে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং আমিরাত ও জর্দানের সঙ্গে কিছুটা সম্পর্ক রয়েছে। যদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরণের কোনো পরিবর্তন ঘটেই থাকে তাহলে সৌদি আরব ও বাহরাইনের সঙ্গেই হয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরাইল, সৌদি ও বাহরাইনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক কূটনৈতিক সফর বিনিময় হয়েছে এবং তাদের মধ্যে নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বহুগুণে বেড়েছে। জর্দান ও আমিরাত আগে থেকেই ইসরাইলের ব্যাপারে নমনীয় নীতি গ্রহণ করলেও ইসরাইলের সঙ্গে তাদের নজিরবিহীন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমনটি দাবি করা যায় না।
বাস্তবতা হচ্ছে, কাতার, মিশর, কুয়েত ও ওমানসহ আরো কয়েকটি প্রভাবশালী আরব দেশের ইসরাইলের সঙ্গে যে হাল্কা সম্পর্ক বজায় রয়েছে তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং বেশ কিছু ক্ষেত্রে কাতারের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে ও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে এবং দীর্ঘ বিরতির পর ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি কায়রোয় ফিরে গেছেন।
এ অবস্থায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটেছে বলে যে দাবি করেছেন তাকে অতিরঞ্জিত বলেই অনেকে মনে করছেন। কারণ তিনি বিরাট পরিবর্তনের দাবি করলেও পরিবর্তনের ধরনটা কেমন তা নিয়ে কোনো কথা বলেননি। তাই স্বাভাবিকভাবেই নেতানিয়াহু কোন্ উদ্দেশ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত কথা বলেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় প্রথমত, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী তার ওই বক্তব্যের মাধ্যমে এটা দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে, ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে এতোটা ঘৃণিত নয় যে আরব দেশগুলো তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না। যদিও বাস্তবতা হচ্ছে আরব জনগোষ্ঠীর কাছে ইসরাইল অত্যন্ত ঘৃণিত ও দখলদার শক্তি হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে আছে। আরবদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের দ্বিতীয়ত লক্ষ্য হতে পারে অভ্যন্তরীণ। কারণ ইসরাইলের নাগরিকরা সম্প্রতি নেতানিয়াহু ও তার পরিবারের লোকজনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাধিকবার বিক্ষোভ করেছে। এ অবস্থায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী দেশের ভেতরে ও বাইরে নিজের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। #
পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/৭