ট্রাম্পের গণপ্রতারণামূলক পরিকল্পনা ও ফিলিস্তিনিদের বিরোধিতা
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i45919-ট্রাম্পের_গণপ্রতারণামূলক_পরিকল্পনা_ও_ফিলিস্তিনিদের_বিরোধিতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের অধিকার বঞ্চিত করার তৎপরতা ব্যাপক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবিকে প্রতারণার মাধ্যমে উপেক্ষা করার ঘটনায় সম্প্রতি ফিলিস্তিনের জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৭ ১৪:০৩ Asia/Dhaka

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের অধিকার বঞ্চিত করার তৎপরতা ব্যাপক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবিকে প্রতারণার মাধ্যমে উপেক্ষা করার ঘটনায় সম্প্রতি ফিলিস্তিনের জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

ফিলিস্তিন মুক্তিকামী সংস্থা (সাফ) ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত সমাধানের উপায়গুলোকে ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ বন্ধের সূক্ষ্ম পাঁয়তারা বলে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে: ট্রাম্পের সকল পরিকল্পনাই ইহুদিবাদি ইসরাইলের স্বার্থে। “সাময়িক সীমান্তময় একটি দেশ” অথবা “দুই রাষ্ট্রব্যবস্থাময় একটি দেশ” ইত্যাদি পরিকল্পনা ইসরাইলি দখলদারিত্বকে আরও সহযোগিতা করবে বলে এইসব পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে ফিলিস্তিন মুক্তিকামী সংস্থা। মার্কিনীদের এইসব পরিকল্পনা ফিলিস্তিনী জাতির বিরুদ্ধে তাদের শত্রুতামূলক নীতিরই বহিপ্রকাশ।

এসব পরিকল্পনার মাধ্যমে আমেরিকা চাচ্ছে ফিলিস্তিনিদেরকে তাদের ভিটেমাটি থেকে পরিপূর্ণভাবে উচ্ছেদ করতে,অধিকার বঞ্চিত করতে। জর্দানের সঙ্গে কনফেডারেল ব্যবস্থায় যাওয়ারও বিরোধিতা করে ফিলিস্তিন মুক্তিকামী সংস্থা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে:তারা কোনোভাবেই অন্য কোনো দেশের মাটিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা মেনে নেবে না। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ফিলিস্তিন ভূখণ্ডেই গঠিত হবে।

আমেরিকা অদ্ভুত প্রস্তাব দিয়েছে। বলেছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হবে সীমিত ভূখণ্ডের ওপর এবং তার সীমান্তগুলো হবে সাময়িক। তাদের কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না। পররাষ্ট্রনীতি থাকবে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের তত্ত্বাবধানে। সীমান্ত এবং আকাশপথও থাকবে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে। এইসব প্রস্তাব থেকেই ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে আমেরিকার দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে ওঠে স্পষ্টভাবে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আমেরিকার এই একতরফা নীতি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র আঞ্চলিক অন্য কোনো দেশের সঙ্গে জোটভুক্ত হতে পারবে না। কার্যত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি থাকবে আমেরিকা এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের নজরদারিতে। তো এই হলো ইসরাইল ও আমেরিকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের আইডিয়া। নিসন্দেহে বলা যায়,এই আইডিয়া ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ষড়যন্ত্র।

এইসব ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা পেশ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাচ্ছে ফিলিস্তিনের বিস্তৃত ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারিত্ব আরও বাড়ানো এবং পাকাপোক্ত করা।

এরকম পরিস্থিতিতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজন সুষ্ঠু এবং সামগ্রিক একটি পরিকল্পনা। যে পরিকল্পনা ইসরাইল ও তার মিত্রদেরকে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের বিষয়টি মেনে নিতে বাধ্য করবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন দখলদারদের ছত্রছায়ায় যদি ফিলিস্তিন সরকার গঠিত হয় কিংবা জর্দানের সঙ্গে কনফেডারেল সরকারের মতো এমন কোনো রাষ্ট্র গঠিত হয় যেখানে ফিলিস্তিনিদের পরিচয় ম্লান কিংবা গোপন থাকে,সেই রাষ্ট্র আর যাই হোক কুদসকে রাজধানী করে গড়ে ওঠা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হবে না।

এ বিষয়টি ফিলিস্তিনিদেরকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের গণপ্রতারণামূলক পরিকল্পনার ব্যাপারে ভীষণ স্পর্শকাতর করে তুলেছে।#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/১৫