ফিলিস্তিনিদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিল প্রতিরোধকামী আলেমদের আন্তর্জাতিক জোট
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i48132-ফিলিস্তিনিদের_প্রতি_পূর্ণ_সমর্থন_দিল_প্রতিরোধকামী_আলেমদের_আন্তর্জাতিক_জোট
প্রতিরোধকামী আলেমদের আন্তর্জাতিক জোট এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনিদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছে। লেবাননে এই জোটের দ্বিতীয় সম্মেলন গত বুধবার থেকে শুরু হয়েছিল।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
নভেম্বর ০৩, ২০১৭ ১৫:৫৪ Asia/Dhaka

প্রতিরোধকামী আলেমদের আন্তর্জাতিক জোট এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনিদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছে। লেবাননে এই জোটের দ্বিতীয় সম্মেলন গত বুধবার থেকে শুরু হয়েছিল।

বিবৃতিতে ইহুদিবাদী ইসরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্র গঠনের জন্য কুখ্যাত বেলফোর ঘোষণায় ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা এবং ইসরাইলের প্রতি তাদের অব্যাহত সমর্থনের নিন্দা জানানো হয়েছে। প্রতিরোধকামী আলেমরা তাদের বিবৃতিতে আরো বলেছেন, মজলুম ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড মুক্তির জন্য ঐশী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের একমাত্র পথ হচ্ছে প্রতিরোধ। কারণ মজলুমদের বিজয়ের বিষয়ে আল্লার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

৬০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা ধর্মীয় নেতা ও চিন্তাবিদরা এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিরোধকামী আলেমদের আন্তর্জাতিক জোটের বিবৃতি থেকে বোঝা যায়, শত্রুদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় মুসলিম বিশ্বের প্রতিরোধকামী চেতনা সবার নজর কেড়েছে। মুসলিম বিশ্বের অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, শুধু মুসলমানরাই নয় বরং সারা বিশ্বের জন্য প্রধান শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে দখলদার ইসরাইল এবং তাদেরই পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা দায়েশের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো। আর ইসরাইল এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর পেছনে রয়েছে পাশ্চাত্যের সরকারগুলোর সমর্থন। পাশ্চাত্যের কর্মকর্তারা সন্ত্রাসীদের প্রতি তাদের সমর্থনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এমনকি অনেকে ইসরাইল ও দায়েশের প্রতি সমর্থন দেয়াকে গর্বের বলে মন্তব্য করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার ইসরাইল ও ব্রিটেনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কুখ্যাত বেলফোর ঘোষণার শত বার্ষিকী পালন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে দখলদার ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তার দেশের ভূমিকায় গর্ব প্রকাশ করেন। ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর কুখ্যাত বেলফোর ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে অবৈধ ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি  রচনা করে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বেলফোর ঘোষণাকে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোরের জন্য কৃতিত্বের বিষয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন আল কায়দাসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গ্রুপ প্রতিষ্ঠায় মার্কিন সরকারের হাত থাকার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, "আমরাই আল কায়দা সৃষ্টি করেছি, তাদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র তুলে দিয়েছি এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছি।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, আরব ও অন্যান্য মুসলিম দেশ পাশ্চাত্যের ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের স্বীকার। পাশ্চাত্যের সরকারগুলো নানা কূটকৌশলে মুসলিম বিশ্বের নজর থেকে ফিলিস্তিন সংকটকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে তারা মুসলিম দেশগুলোতে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে সবাইকে এমনভাবে ব্যস্ত রেখেছে যাতে ফিলিস্তিন সংকট সবাই ভুলে থাকে। কিন্তু মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় নেতা ও চিন্তাবিদরা যেভাবে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তাতে বোঝা যায়, ফিলিস্তিন ইস্যুটিকে ভুলিয়ে রাখার জন্য পাশ্চাত্যের চেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।

দখলদার ইসরাইলের ষড়যন্ত্র  এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা নষ্ট করার মাধ্যমে মুসলিম দেশগুলোকে দুর্বল করার যে চেষ্টা পাশ্চাত্য করছে তার বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের সতর্ককতা জরুরি হয়ে পড়েছে। মোটকথা, মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিরোধই একমাত্র অবলম্বন। এ ক্ষেত্রে প্রতিরোধকামী আলেমদের আন্তর্জাতিক জোট গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।#

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/৩